kalerkantho


পাকুন্দিয়া পৌর নির্বাচন

হরতাল ডাকলেন নিজেই ভাঙলেন

বিদ্রোহী আ. লীগ প্রার্থীর সমর্থকদের মহড়া

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি   

৭ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



দলের মনোনয়ন না পেয়ে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডেকেছিলেন কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মোতায়েম হোসেন স্বপন। গতকাল ছিল পৌর নির্বাচনে মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন।

হরতালের মধ্যেই তিনি মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল দ্বিতীয় দিনের হরতালে পৌর এলাকার সব দোকানপাট বন্ধ ছিল। মূল সড়কে কোনো যানবাহন চলাচল করেনি। তৃণমূলের ভোটে নির্বাচিত উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মোতায়েম হোসেন স্বপনের সমর্থকরা দফায় দফায় লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মিছিল করে। শহরে উত্তেজনা ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কর্মীরা রাস্তা বন্ধ করে টায়ারে আগুন ধরিয়ে বিক্ষোভ করে। আর পুলিশ এসব আগুন নেভানোর চেষ্টা করে। তবে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘাত হয়নি। বিকেলে বিক্ষোভকারীদের রাস্তা থেকে সরিয়ে দেয় পুলিশ।

রাস্তায় অবস্থান নেয় র‌্যাব। আর এ সুযোগে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীর পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়। মনোনয়নবঞ্চিত নেতাও তা জমা দেন।

পাকুন্দিয়া বাজারের ব্যবসায়ী মো. আলাউদ্দিন বলেন, ‘এটি ক্ষমতাসীন দলের সংকট। তারা নিজেদের ফোরামে বিষয়টি সমাধান করে মাঠে আসবে। কিন্তু এসব না করে, সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগে ফেলছে। এটা ঠিক না। তাদের হানাহানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি আমরা। ’

পাকুন্দিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মোতায়েম হোসেন স্বপন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘হরতাল ডেকেছে এলাকাবাসী। আমার সমর্থন ছিল। এলাকাবাসীর চাপে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছি। ’

বিকেল ৫টায় মনোনয়নপত্র দাখিল শেষ সময়ের পর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মনজুরুল আলম বলেন, ‘মেয়র পদে বিএনপির প্রার্থী (বর্তমান মেয়র) অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দিন, স্বতন্ত্র (বিএনপি বিদ্রোহী) আক্তারুজ্জামান খোকন, আওয়ামী লীগ প্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা মেজবাহ উদ্দিন ও স্বতন্ত্র (আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী) মোতায়েম হোসেন স্বপন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। ’

পাকুন্দিয়া থানার ওসি হাসান আল মামুন বলেন, ‘আওয়ামী লীগের একাংশের ডাকা হরতাল থাকলেও মনোনয়ন দাখিলে সমস্যা হয়নি। সবকিছু শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে। ’


মন্তব্য