kalerkantho


বহিরাগত ভোটার কেন্দ্রে কেন্দ্রে

আসাদুজ্জামান দারা, ফেনী   

২১ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



বহিরাগত ভোটার কেন্দ্রে কেন্দ্রে

সোনাগাজী পৌর নির্বাচনে কেন্দ্র দখল করে জাল ভোট দেওয়ার অভিযোগে সকালেই ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন বিএনপির মেয়র প্রার্থী ও বর্তমান মেয়র জামাল উদ্দিন সেন্টু। সকাল ১১টার দিকে তিনি তাঁর কলেজ রোডের নির্বাচনী কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী রফিকুল ইসলাম খোকনের সমর্থনে ভোর থেকেই বিভিন্ন কেন্দ্রে বহিরাগতরা অবস্থান নিয়ে জাল ভোট দিতে থাকে।

এর প্রতিবাদে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন সেন্টু।

এদিকে সকাল ১১টার দিকে সোনাগাজী উপজেলা সদরের ছাবের পাইলট হাই স্কুল কেন্দ্রের বাইরে ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপি সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী জহির উদ্দিনের ওপর হামলা চালায় প্রতিপক্ষের কর্মীরা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে হামলাকারীদের ধাওয়া করলে তারা পালিয়ে যায়। জহিরকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এ জন্য তিনি আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী আব্দুল হালিম মামুনকে দায়ী করেন। তবে মামুন এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এদিকে বিভিন্ন কেন্দ্রে জাল ভোট দেওয়ার দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত ১০ জনকে আটক করেন।

গতকাল রবিবার সকাল থেকে সোনাগাজী পৌর এলাকার এনায়েত উল্যাহ মহিলা কলেজ কেন্দ্র, শহীদ ছাবের পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, চরগণেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আল হেলাল প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, বিপুলসংখ্যক ভোটার লাইনে রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে বহিরাগতরাও ছিল।

এদিকে ভোট বর্জন করে পুনঃ তফসিল দাবি করেছেন জামাল উদ্দিন সেন্টু। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, সকাল থেকেই নৌকার সমর্থনে বহিরাগতরা বিভিন্ন কেন্দ্রে ঢুকে সিল মারতে থাকে। তারা ধানের শীষের এজেন্টদের বের করে দেয়। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি গিয়াস উদ্দিন, বিএনপি নেতা জয়নাল আবদীন বাবলু, আলাউদ্দিন গঠন, আমির উদ্দিন দোলন ও আবুল মোবারক দুলাল। সেন্টু জানান, এ ব্যাপারে রিটার্নিং অফিসারের মাধ্যমে নির্বাাচন কমিশনে লিখিত অভিযোগ পাঠানো হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে রফিকুল ইসলাম খোকন বলেন, ভোটাররা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিয়েছেন। ফেনীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুহাম্মদ সামছুল আলম সরকার বলেন, বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই মোটামুটি শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। অন্যদিকে আচরণবিধি ভঙ্গ ও জাল ভোট দেওয়ার অভিযোগে এক কাউন্সিলর প্রার্থীসহ ১৭ জনকে এক লাখ ৪৭ হাজার টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।   রিটার্নিং অফিসার মোজাম্মেল হোসেন জানান, বিপুলসংখ্যক ভোটার ভোট দিতে এসেছেন। তিনি বলেন, ‘একজন প্রার্থীর কাছ থেকে একটি অভিযোগ পেয়েছি। তবে ভোট স্থগিত করার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি। ’


মন্তব্য