kalerkantho


মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নামে জুয়া-হাউজি

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর   

৩ নভেম্বর, ২০১৫ ০০:০০



মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নামে জুয়া-হাউজি

আনন্দ মেলার নামে গাজীপুরের কোনাবাড়ীর হরিনারচালা এলাকায় মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ব্যানারে চলছে জুয়া-হাউজির আসর। ছবিটি গতকাল তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার সড়কে ঢুকলেই দূর থেকে চোখে পড়ে চোখ ধাঁধানো আলোকসজ্জা। ওই আলোকসজ্জা ঘিরে বিশাল প্যান্ডেল।

প্যান্ডেলের মূল গেটে টানানো রয়েছে 'গাজীপুর মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কর্তৃক আয়োজিত অনন্দ মেলা-২০১৫' লেখা ব্যানার। যার কয়েক শ গজ দূরেই দেশের গুরুত্বপূর্ণ কাশিমপুর কারাগার।

সরেজমিনে গেলে স্থানীয়রা জানায়, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নাম ব্যবহার করে 'আনন্দ মেলার' নামে ওই স্থানে সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত লাখ লাখ টাকার জুয়া ও হাউজি খেলা চলছে। গাজীপুরের বোর্ডবাজার এলাকায় জসিম উদ্দিন, রমজান আলী ও আরিফ হোসেন নামের তিন জুয়াড়ি স্থানীয় কাউন্সিলর সেলিম রহমানের সহায়তায় ওই জুয়া-হাউজি চালাচ্ছেন। বছরের শেষ সময়ে শিক্ষার্থীদের সমাপনী পরীক্ষার আগে এভাবে জুয়া-হাউজি চলায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তারা। গাজীপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার সাবেক সংসদ সদস্য কাজী মোজাম্মেল ও ডেপুটি কমান্ডার এস এম মজিবুর রহমান জানান, ওই আনন্দ মেলার বিষয়ে তাঁরা কিছুই জানেন না। মুক্তিযোদ্ধাদের নাম ব্যবহার করে হাউজি-জুয়ার ব্যবসার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে তাঁরা বলেন, এলাকার লোকজনের কাছ থেকে জানতে পেরে অবৈধ ওই আসর ভেঙে দিতে তাঁরা পুলিশকে বলেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, প্রতিদিন সন্ধ্যার পর গাজীপুর, সাভার, ভালুকাসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন এখানে আসতে শুরু করে। তাদের বেশির ভাগই গার্মেন্টসহ বিভিন্ন কারখানার শ্রমিক।

আবার প্রাইভেট কার ও মাইক্রোবাস নিয়েও শত শত মানুষ আনন্দ মেলায় আসে। প্রতি রাতে ২৫-৩০ লাখ টাকার জুয়া-হাউজি খেলা হয়, যার বেশির ভাগই যায় জুয়াড়িদের পকেটে। আর সর্বস্বান্ত হয়ে শূন্যহাতে বাড়ি ফেরে খেলায় অংশগ্রহণকারীরা। হরিণাচালা এলাকার কারখানা শ্রমিক সাইফুল ইসলাম গত শনিবার রাতে তিন হাজার টাকা নিয়ে ওই জুয়ার আসরে ঘুরতে যান। খেলা দেখতে গিয়ে তাতে আসক্ত হয়ে পড়েন তিনি। প্রায় দুই ঘণ্টা জুয়া খেলে একপর্যায়ে তাঁর এক হাজার ২০০ টাকা লাভ হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আসল-লাভ সবই হারাতে হয়েছে তাঁকে।

জুয়া ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিন জানান, মেলায় গাজীপুর জেলা প্রশাসনের অনুমতি নেই। তিনি উচ্চ আদালতের অনুমতি নিয়ে ওই আনন্দ মেলার আয়োজন করেছেন। পুলিশ ও প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই তিনি মেলা চালাচ্ছেন। জয়দেবপুর থানার কোনাবাড়ী ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মোবারক হোসেন জানান, কয়েক দিন আগে ওই মেলা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। নতুন করে চালুর চেষ্টা করা হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গাজীপুরের পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদ জানান, এ ধরনের মেলার বিষয়টি তাঁর জানা নেই। কেউ আনন্দ মেলার নামে জুয়া-হাউজির আয়োজন করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 


মন্তব্য