kalerkantho


নারায়ণগঞ্জে মাদ্রাসা ছাত্র হত্যা

৯ বছর পর প্রধান আসামি ধরা

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি   

৩ নভেম্বর, ২০১৫ ০০:০০



ফতুল্লায় মাদ্রাসা ছাত্র হত্যার ৯ বছর পর ছাত্রলীগ নেতা রাসেল মোল্লাকে গতকাল সোমবার গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযোগ রয়েছে, হত্যার পরের বছর আদালত রাসেলের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করলেও ৯ বছর পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করেনি।

আর এ সময়ে রাসেল এলাকায় সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসাসহ নানা অপকর্ম করে বেড়িয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, ওয়ারেন্টের কপি হাতে পাওয়ার পরই রাসেলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

রাসেল মোল্লা ফতুল্লার দেলপাড়া এলাকার মোতালেব মোল্লার ছেলে ও কুতুবপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক। এলাকাবাসী জানায়, দেলপাড়া কলেজ রোড এলাকার আব্দুল হাইয়ের ছেলে দেলপাড়া ইসলামিয়া সিনিয়র মাদ্রাসার অষ্টম শ্রেণির ছাত্র সাইফুলকে ২০০৬ সালের ২৭ নভেম্বর বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে পুরুষাঙ্গ, হাত ও পা কেটে ফেলা হয়। পরে তাকে জবাই করে হত্যার পর ভূঁইগড় তানিন কম্পানির মাঠের পাশের ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়। তিন দিন পর ১ ডিসেম্বর পুলিশ ওই ডোবা থেকে তার লাশ উদ্ধার করে। পরে তার বাবা আব্দুল হাই বাদী হয়ে পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

২০০৭ সালের ২০ আগস্ট পুলিশ তদন্ত করে রাসেল মোল্লা, তাঁর সহযোগী রনি, আতিক, ওমর ফারুক, সেলিম ও মোহাম্মদ আলীর বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। চার্জশিটে পুলিশ রাসেলসহ তিনজনকে পলাতক দেখিয়ে তাঁদের বিরুদ্ধে আদালতে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। গত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাসেল তখনকার এমপি কবরীর ক্যাডার হিসেবে কাজ করেছিলেন। তাঁর অত্যাচারে নিহত সাইফুলের বাবা বাড়ি বিক্রি করে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন।

কুতুবপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর মেম্বার জানান, রাসেলের বিরুদ্ধে হত্যা মামলার ওয়ারেন্ট থাকার কথা এলাকার কারো জানা ছিল না। জানলে তাঁকে পুলিশে সোপর্দ করা হতো।

ফতুল্লা মডেল থানার এসআই কাদির শাহ জানান, ওয়ারেন্টের কপি হাতে পেয়ে গতকাল সকালে ভূঁইগড় এলাকা থেকে রাসেলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

 


মন্তব্য