kalerkantho


প্রথম সন্তান গর্ভে মৃত

তুলসী রানী আর মা হতে পারবেন না

ফেনী প্রতিনিধি   

৩ নভেম্বর, ২০১৫ ০০:০০



ফেনীর জেলেপাড়ায় হামলার ঘটনায় আহত তুলসী রানী দাস (২২) সন্তান ধারণের ক্ষমতা হারিয়েছেন। প্রথম সন্তান গর্ভে মারা যাওয়ার পর এমন সংবাদ পেয়ে মুষড়ে পড়েছেন তিনি।

চিকিৎসকরা জানান, হামলার আঘাতে প্রচুর রক্তক্ষরণে জরায়ুতে জখম হয়। এ কারণে তিনি আর মা হতে পারবেন না।

পুলিশ, পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত বুধবার রাতে সদর উপজেলার মাথিয়ারা জেলেপাড়ায় পটকা ফাটানোকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় পক্ষের পাঁচ-ছয়জন আহত হয়। ঘটনার সময় রবীন্দ্র চন্দ্র দাসকে বাঁচাতে গিয়ে তাঁর স্ত্রী, আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা তুলসী রানী দাস আহত হন। ওই দিন রাতে তাঁর রক্তক্ষরণ হয় এবং ভোরের দিকে তিনি একটি মৃত সন্তান প্রসব করেন। এ ঘটনায় আহত জহরলাল দাস বাদী হয়ে ফেনী থানায় মামলা করলে পুলিশ ১০ জনকে গ্রেপ্তার করে। তাদের মধ্যে চারজন এজাহারনামীয় আসামি। গত রবিবার রাতে পুলিশ ওই এলাকা থেকে ইমন ও রাজু নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করে।

এ ঘটনা নিয়ে গত শনিবার কালের কণ্ঠে 'ফেনীতে সংঘর্ষে আঘাত, তুলসী রানীর পেটের সন্তান মৃত' শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

ঘটনার পর জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান, ফেনী-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক জয়নাল আবদীন ভিপি, ফেনী জেলা পরিষদের প্রশাসক আজিজ আহাম্মদ চৌধুরী, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান বিকম হাসপাতালে গিয়ে তুলসীর খোঁজখবর নেন। এ ঘটনার বিচার চেয়ে ফেনীতে মানববন্ধন করেছে জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, পূজা উদ্‌যাপন পরিষদ, জন্মাষ্টমী উদ্‌যাপন পরিষদ ও সামাজিক সংগঠন আভাস।

এদিকে ফেনী সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তুলসীর অবস্থার উন্নতি হয়েছে। তাঁকে হাসপাতালের নতুন ভবনের একটি কক্ষে গতকাল সোমবার সকালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

ফেনী সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. অসীম কুমার সাহা বলেন, 'আঘাতের ফলে তুলসীর রক্তক্ষরণ হয়। পেটের সন্তান নষ্ট হয়ে যায়। অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ হওয়ায় তাঁর জরায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে তিনি আর মা হতে পারবেন না। ' তবে তাঁর শরীরের অবস্থার উন্নতি হয়েছে বলে তিনি জানান।

এ খবর শোনার পর তুলসীর স্বামী রবীন্দ্র চন্দ্র দাসকে হতাশ ও দুঃখভারাক্রান্ত দেখা গেছে। তিনি বলেন, 'আমার প্রথম সন্তান গর্ভে মারা গেল। স্ত্রীর আর সন্তান হবে না। '

ফেনী সদর থানার ওসি মো. মাহবুব মোরশেদ বলেন, 'এ ঘটনায় মামলা হওয়ার পর পুলিশ মোট ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। অন্যদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে। পুলিশ ওই পরিবারকে সব ধরনের নিরাপত্তা দিচ্ছে। '

 


মন্তব্য