kalerkantho


আওয়ামী লীগ সরব বাকিরা নীরব

মৌলভীবাজার-৩ আসনের উপনির্বাচন ৮ ডিসেম্বর

নিজস্ব প্রতিবেদক, মৌলভীবাজার   

৩ নভেম্বর, ২০১৫ ০০:০০



মৌলভীবাজার-৩ (সদর ও রাজনগর) আসনের উপনির্বাচন আগামী ৮ ডিসেম্বর। আর এই উপনির্বাচন ঘিরে ইতিমধ্যেই ভোটের হাওয়ায় ভাসছে মৌলভীবাজার আওয়ামী লীগ।

সমাজকল্যাণমন্ত্রী সৈয়দ মহসিন আলীর মৃত্যুতে মৌলভীবাজার-৩ আসনটি খালি হয়। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে এখনো দলীয়ভাবে কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। এর পরও মনোনয়নপ্রত্যাশীরা এলাকাবাসীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে শহরের পথে পথে পোস্টার, ফেস্টুন, ব্যানার ও বিলবোর্ড সাঁটিয়ে দিয়েছেন। আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে চলছে তোড়জোড়। সংসদ সদস্য হিসেবে দেখার দাবি নিয়ে প্রার্থীদের পক্ষে চলছে সরব প্রচারণা। তবে আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্য কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের নেতা উপনির্বাচনের প্রচারণায় নামেননি। বিএনপি কিংবা জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের এ উপনির্বাচন নিয়ে আগ্রহ লক্ষ করা যাচ্ছে না।

স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মৌলভীবাজার-৩ আসনের আওয়ামী লীগদলীয় সংসদ সদস্য এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী সৈয়দ মহসিন আলীর মৃত্যুর পর শহরজুড়ে ছিল বিভিন্ন ব্যক্তি, সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের শোক প্রকাশের ব্যানার। এখনো কিছু কিছু এলাকায় ঝুলছে শোকের ব্যানার।

তাঁর মৃত্যুর পরই উপনির্বাচনে প্রার্থিতা নিয়ে দলের বিভিন্ন নেতা ও তাঁদের সমর্থকদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়। ঈদুল আজহার দু-এক দিন আগে থেকে শহরের প্রধান সড়ক, সড়কের মোড়, বাজারে শোক প্রকাশের ব্যানারের পাশে ঈদ ও দুর্গাপূজা উপলক্ষে মৌলভীবাজার ও রাজনগরবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে চেনা-অচেনা অনেকেই পোস্টার, ফেস্টুন, বিলবোর্ড ও ব্যানার লাগান। এসব ব্যানারের কোনোটিই প্রার্থী সরাসরি নিজের নামে লেখেননি। সম্ভাব্য প্রার্থীর সমর্থক, আওয়ামী লীগ এবং সহযোগী সংগঠনের নেতারা তাঁদের নামে এগুলো লাগান। সমর্থকরা পোস্টার, ফেস্টুন, বিলবোর্ড ও ব্যানারে নিজেদের ছবির সঙ্গে প্রার্থীর ছবিও জুড়ে দিয়েছেন। কিছু পোস্টারে সৈয়দ মহসিন আলীর ছবি আছে। কিছু কিছু পোস্টার, বিলবোর্ড ও ব্যানারে সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম দিয়ে বলা হয়েছে 'এমপি হিসেবে দেখতে চাই'।

শহর ঘুরে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি পোস্টার, বিলবোর্ড ও ব্যানার লাগানো হয়েছে সমাজকল্যাণমন্ত্রী সৈয়দ মহসিন আলীর বাড়ি মৌলভীবাজার শহরের শ্রীমঙ্গল সড়কের বেরিরপাড় এলাকা, শহরের কুসুমবাগ, প্রেসক্লাব মোড়, মনু সেতু ও চৌমোহনা এলাকায়। শহরের বাইরে গ্রাম ও হাটবাজারেও পোস্টার লাগানো হয়েছে। পোস্টার ও বিলবোর্ড লাগানো সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে আছেন মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নেছার আহমদ, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও মৌলভীবাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি কামাল হোসেন, জেলা আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি ফজলুর রহমান, মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও মৌলভীবাজার সরকারি কলেজ ছাত্রসংসদের সাবেক সহসভাপতি (ভিপি) আব্দুল মালিক তরফদার শোয়েব, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য এম এ রহিম, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সুব্রত পুরকায়স্থ, এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের চেয়ারম্যান ফরাসত আলী ও প্রয়াত সমাজকল্যাণমন্ত্রী সৈয়দ মহসিন আলীর স্ত্রী সৈয়দা সায়রা মহসিন। প্রচারে মৌলভীবাজারবাসীর ব্যানারে সৈয়দ মহসিন আলীর বিশাল ছবি দিয়ে সৈয়দা সায়রা মহসিনের পক্ষে বিলবোর্ড ও ফেস্টুন টাঙানো হয়েছে।

ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশন (ইসি) মৌলভীবাজার-৩ আসনের উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে। প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ১১ নভেম্বর। ভোট ৮ ডিসেম্বর। বিলবোর্ড ও পোস্টার লাগানোর বাইরে আওয়ামী লীগের একমাত্র প্রার্থী হচ্ছেন মৌলভীবাজার শ্রমিক লীগের সভাপতি সৈয়দ মফচ্ছিল আলী। তিনি বলেন, 'প্রার্থী হওয়ার আগে বিলবোর্ড, পোস্টার লাগানো বেআইনি। তাই আমি এমন প্রচারে যাইনি। দলের সব সংকটে আমি অর্থ ও শ্রম দিয়ে কাজ করেছি। নেত্রী ব্যক্তিগতভাবে আমার সম্পর্কে জানেন। তাই নেত্রী আমাকেই মনোনয়ন দেবেন-এটা আমি আশা করছি। '

মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নেছার আহমদ বলেন, 'আমি ছাত্রজীবনে ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছি। এখন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছি। দল থেকে আমার শেষ চাওয়া একটাই, সেটা সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে একবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা। আমি শতভাগ নিশ্চিত দল থেকে আমাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে। ' আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে পারেন এমন আলোচনায় আছেন মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের প্রশাসক আজিজুর রহমান, আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সৈয়দ বজলুল করিম, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মোহাম্মদ ফিরোজ, সাবেক রাষ্ট্রদূত গিয়াস উদ্দিন মনির ও রাজনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মিছবাহুদ্দোজা ভেলাই।

মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের প্রশাসক আজিজুর রহমান বলেন, 'নেত্রী যদি মনে করেন আমি এ জেলায় দলের হাল ধরতে পারব, তিনি যদি আমাকে প্রার্থী হতে বলেন, তবেই আমি প্রার্থী হব, নতুবা নয়। '

এ ব্যাপারে মৌলভীবাজার বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বেগম খালেদা রব্বানী বলেন, আওয়ামী লীগ ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি তামাশার নির্বাচন করেছিল। এখন ক্ষমতায় আছে অবৈধভাবে, গায়ের জোরে। বিএনপির উপনির্বাচনে যাওয়ার প্রশ্নই আসে না।

এদিকে জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি সৈয়দ সাহাবুদ্দিন আহমদ বলেন, কেন্দ্র থেকে এখনো তাঁদের কিছু বলা হয়নি। তা ছাড়া নির্বাচনের প্রস্তুতি নেই।

 


মন্তব্য