kalerkantho


স্বামীর নির্যাতন সইতে না পেরে আত্মহত্যার চেষ্টা

জয়পুরহাট প্রতিনিধি   

৩ নভেম্বর, ২০১৫ ০০:০০



স্বামীর নির্যাতন সইতে না পেরে ওড়না পেঁচিয়ে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করতে চেয়েছিলেন আমিনা বেগম (২৫)। ওড়না ছিঁড়ে মেঝেতে পড়ে গুরুতর আহত হন।

প্রতিবেশীরা উদ্ধার করে তাঁকে জয়পুরহাট আধুনিক জেলা হাসপাতালে ভর্তি করে। গত রবিবার বিকেলে জয়পুরহাট শহরের বিশ্বাসপাড়া মহল্লায় এ ঘটনা ঘটে।

প্রতিবেশীরা জানায়, বছর পাঁচেক আগে নওগাঁর সাপাহার গ্রামের আমিনা বেগমের বিয়ে হয় এলাকার নিকাহ রেজিস্ট্রার (কাজি) হিসেবে পরিচিত হোসেন আলীর সঙ্গে। সাত বছরের ছেলে নাসিমকে রেখে নির্যাতনের কারণে প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হয় হোসেনের। এরপর দ্বিতীয় স্ত্রী আমিনাকে নিয়ে হোসেন প্রায় তিন বছর ধরে বাস করছেন বিশ্বাসপাড়া মহল্লার একটি ভাড়া বাসায়। ছেলে নাসিম ছাড়াও আমিনার কোলে জন্ম নেওয়া নুসরাত নামে তিন বছরের শিশুকন্যা থাকে তাদের সঙ্গে। আমিনার বাবা মারা গেছেন অনেক আগে। তাঁর ভাই-বোন নেই। মা বেঁচে থাকলেও অসুস্থ।

মোটকথা আমিনা অসহায়। এ অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে চুন থেকে পান খসলে তাঁর ওপর নির্যাতন শুরু করেন স্বামী। আশ্রয়ের জায়গা না থাকায় মুখ বুজে সব নির্যাতন সহ্য করেন স্ত্রী। রবিবার বিকেলে হোসেন আলী তাঁকে মারধর করেন। স্বামীর নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে ওড়না পেঁচিয়ে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। হঠাৎ ওড়না ছিঁড়ে ঘরের মেঝেতে পড়ে যান। এতে মুখ থেঁতলে যায় তাঁর। জ্ঞান হারিয়ে মেঝেতে পড়ে থাকেন। এ সময় পুলিশকে খবর দিয়ে কবিরুল ইসলাম রানা নামের প্রতিবেশী এক ব্যক্তি অন্যদের সঙ্গে নিয়ে আমিনাকে উদ্ধার করে জয়পুরহাট আধুনিক জেলা হাসপাতালে ভর্তি করেন। প্রাথমিক চিকিৎসার পর অবস্থার অবনতি হলে রাতেই তাঁকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়।

প্রতিবেশী কবিরুল ইসলাম রানা বলেন, 'হোসেন নির্যাতন করার পর আমিনা আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। কিন্তু ওড়না ছিঁড়ে ঘরের মেঝেতে পড়ে জ্ঞান হারান। জানতে পেরে অন্যদের সঙ্গে নিয়ে তাঁকে উদ্ধারের পর হাসপাতালে ভর্তি করি। পরে পুলিশ আসার খবর পেয়ে হোসেন আলী বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। ' অন্য প্রতিবেশীরা জানায়, হোসেন আলী প্রায়ই স্ত্রীকে মারধর করেন। বাসায় প্রায় সময় চিৎকার-চেঁচামেচি শোনা যেত। স্থানীয় নিকাহ রেজিস্ট্রার সায়ফুল ইসলাম বলেন, 'হোসেন আলী আমার সহকারী হিসেবে কাজ করেন। এ জন্য এলাকায় তাঁকে সবাই কাজি হিসেবে চেনে। ' হোসেন আলীর মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

জয়পুরহাট আধুনিক জেলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. নুরুন্নবী বলেন, 'আমিনার ঠোঁটের নিচে ছয়টি সেলাই দেওয়া হয়েছে। তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে দাগ দেখা গেছে। তাঁর অবস্থা ভালো না হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়ার শজিমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ' জয়পুরহাট সদর থানার ওসি ফরিদ হোসেন বলেন, 'নির্যাতনের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছিল। '

 


মন্তব্য