kalerkantho


আইনজীবী সহকারীর চার দিনেও খোঁজ নেই

রাজবাড়ীতে পরিবারে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা

রাজবাড়ী প্রতিনিধি   

৩ নভেম্বর, ২০১৫ ০০:০০



কারাগার থেকে জামিনে বের হয়ে আসা ডাকাতি মামলার এক আসামির সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে নিখোঁজ হয়েছেন রাজবাড়ী আদালতপাড়ার এক আইনজীবীর সহকারী। গত ২৯ অক্টোবর দুপুরের পর থেকে সোমবার বিকেল পর্যন্ত তাঁর সন্ধান পাওয়া যায়নি।

এ কারণে তাঁর পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা।

নিখোঁজ তারেক উদ্দিন সেখ ওরফে তারেক মুহুরি (৪০) সদর উপজেলার দক্ষিণপাড়া গ্রামের মৃত জয়নাল সেখের ছেলে। জেলা শহর থেকে সাত কিলোমিটার দূরে থাকা তারেকের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, সুনসান নীরবতা। বাড়িতে তাঁর ছয় বছর বয়সী একমাত্র ছেলে সৌরভ সেখ অবস্থান করছে। আর একমাত্র মেয়ে তামান্না খাতুন গেছে জেএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে। শিশু সৌরভকে দেখভাল করছেন পাশের গ্রামের বাড়ি থেকে আসা তার চাচি হাসিনা বেগম।

এ সময় হাসিনা বেগম বলেন, বর্তমানে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। খবর পেয়ে ঢাকা থেকে তাঁর স্বামী (তারেক মুহুরির বড় ভাই) মানিক উদ্দিন বাড়িতে ফিরে এসেছেন। তারেকের স্ত্রী সোরাইয়া বেগমকে নিয়ে নিকটজন, থানা-পুলিশ ও আদালতপাড়ায় থাকা আইনজীবীদের কাছে ধরনা দিচ্ছেন।

প্রতিবেশী মিতালী রানী দাস বলেন, 'তারেক অত্যন্ত ভালো ছেলে। এলাকায় তার মতো একজন ছেলে পাওয়া কঠিন। ' তিনি মনে করেন, তারেকের কোনো শত্রু নেই। তার পরও কেন নিখোঁজ রয়েছে তা তিনি বলতে পারেন না। গতকাল দুপুরে রাজবাড়ীর আদালতপাড়ায় থাকা অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলামের চেম্বারে গিয়ে তারেকের স্ত্রী ও বড় ভাইকে পাওয়া যায়। এ সময় তাঁরা জানান, তারেক অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলামের সহকারী হিসেবে সাত বছর ধরে কাজ করছেন। এ কারণে তাঁরা এখানে এসেছেন। তবে রফিকুল ইসলাম জরুরি কাজ থাকায় আদালতের মধ্যে অবস্থান করছেন।

স্ত্রী সোরাইয়া বেগম বলেন, 'প্রতিদিনের মতো তারেক গত ২৯ অক্টোবর সকাল সাড়ে ৮টার মধ্যে বাড়ি থেকে মোটরসাইকেল নিয়ে আদালতপাড়ায় আসেন। ওই দিন বিকেল পর্যন্ত তাঁর কোনো খোঁজ না পেয়ে উদ্বেগ শুরু। এ কারণে গত ৩০ অক্টোবর রাজবাড়ী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছি। '

এ ব্যাপারে মুঠোফোনে অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম বলেন, 'আমার সঙ্গে ঘটনার দিন দুপুর ১টার দিকে কথা হয় তারেকের। সম্প্রতি আদালত থেকে জামিন করিয়ে দেওয়ার সূত্র ধরে কালুখালী উপজেলার ডাকাতি মামলার এক আসামির সঙ্গে পরিচয় হয় তারেকের। ওই আসামি তাকে রাজবাড়ীর কারাগারে থাকা অস্ত্র মামলার আরেক আসামি (রাজশাহীর চারঘাটের চাঁদপুর গ্রামের বাদল ছলেমানের ছেলে) মেজদার ভুট্টর হাইকোর্ট থেকে জামিন করিয়ে দেওয়ার কথা বলেন। ঘটনার দিন দুপুরে মোটরসাইকেল নিয়ে তারেক কালুখালীতে যান। তারপর থেকে নিখোঁজ। '

 


মন্তব্য