kalerkantho


ময়মনসিংহে সেমিনার

কুঁচিয়ার সম্ভাবনার কথা শোনালেন বিজ্ঞানীরা

বাকৃবি প্রতিনিধি   

১ জুলাই, ২০১৫ ০০:০০



কুঁচিয়ার সম্ভাবনার কথা শোনালেন বিজ্ঞানীরা

কুঁচিয়া নিয়ে সম্ভাবনার কথা বলছেন বিজ্ঞানীরা। ছবি : কালের কণ্ঠ

দেখতে সাপের মতো হলেও কুঁচিয়া আসলে বাইম ও গুচিজাতীয় একটি মাছ। মাছটি খুবই পুষ্টিকর ও সুস্বাদু।

বিদেশে রয়েছে মাছটির ব্যাপক চাহিদা। ফলে বর্তমানে কুঁচিয়াকে ঘিরে অর্থনৈতিক সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। সরকার এ দিকটি বিবেচনা করে ৩৬ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন করেছে। বদ্ধ জলাশয়ে কুঁচিয়া চাষের পদ্ধতি উদ্ভাবনে গবেষণা এবং কৃষক পর্যায়ে চাষে আগ্রহ বাড়াতে এ অর্থ ব্যয় করা হবে।

এদিকে জলাশয় ভরাট, প্রজননের উপযুক্ত পরিবেশের অভাবসহ নানা কারণে কুঁচিয়া মাছ এখন বিলুপ্তির পথে। এই মাছ এখন বিপন্ন প্রজাতির তালিকায়। অথচ বাংলাদেশের বিভিন্ন খাল-বিল থেকে আহরিত কুঁচিয়া সাধারণত দক্ষিণ কোরিয়া, চীন, কম্বোডিয়া, থাইল্যান্ড, লাওস, ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়ায়

রপ্তানি হয়। ২০১০-১১ অর্থবছরে ২৭ লাখ ডলারের কুঁচিয়া রপ্তানি

হয়েছে। গত অর্থবছরে তা এক কোটি ডলার ছাড়িয়েছিল।

মঙ্গলবার ময়মনসিংহের বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই) মিলনায়তনে 'কুঁচিয়া গবেষণার অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ করণীয়' শীর্ষক দিনব্যাপী একটি সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।

বিএফআরআইয়ের মহাপরিচালক মোহাম্মদ জাহেরের সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ারুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাকৃবির মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. ইদ্রিস মিয়া। সেমিনারে কুঁচিয়া গবেষণার ওপর মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন

বাকৃবি মৎস্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ড. হারুনুর রশীদ, বিএফআরআইয়ের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. ডুরিন আক্তার জাহান এবং ড. ডেভিড রিন্টু দাস। সেমিনারে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন ইনস্টিটিউটের পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) ড. ইয়াহিয়া মাহমুদ, বাকৃবির একোয়াকালচার বিভাগের অধ্যাপক ড. এস এম রহমত উল্লাহ, ইনস্টিটিউটের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. এস বি সাহা, স্বাদু পানির মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. খলিলুর রহমান, মৎস্য অধিদপ্তরের প্রকল্প পরিচালক ড. বিনয় কুমার চক্রর্বতী প্রমুখ। সেমিনারে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানী, মৎস্য খামারি, চাষিরা উপস্থিত ছিলেন।

সেমিনারে বক্তারা জানান, কুঁচিয়া মাছ নিয়ে দেশে গবেষণার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। এর খাদ্য, খাদ্যাভ্যাস ও প্রজনন অন্যান্য সাধারণ মাছের মতো নয়। কুঁচিয়ার প্রজনন ঘটানোর জন্য নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ তৈরি এবং হরমোন

প্রয়োগ করার ব্যাপারে গবেষণা চলছে। মাছের প্রজনন সহজ উপায়ে করা যায় কি না এ বিষয়েও গবেষণা কাজ চলছে।


মন্তব্য