kalerkantho


ঈদগাহ মাঠে মাদ্রাসাঘর!

ঈশ্বরগঞ্জের ফানুর গ্রামে উত্তেজনা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ   

১ জুলাই, ২০১৫ ০০:০০



শত বছরের পুরনো ঈদগাহ মাঠ দখল করে মাদ্রাসাঘর নির্মাণকে কেন্দ্র করে কয়েক দিন ধরে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। এমনকি নির্মাণকাজ বন্ধ করতে এলাকাবাসী স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত আবেদনও করেছেন।

তবু থেমে নেই নির্মাণকাজ। ঘটনাটি ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার জাটিয়া ইউনিয়নের ফানুর গ্রামের।

জানা গেছে, প্রায় শত বছর আগে এলাকাবাসীর উদ্যোগে ওই ঈদগাহ মাঠটি গড়ে ওঠে। প্রতিবছরই ওই মাঠে ঈদের জামায়াত আদায় করা হয়। এলাকার লোকজন মিলে ওই মাঠের পাশে ৩১ শতাংশ জমিতে ফানুর আশরাফুল উলুম মাদ্রাসা নির্মাণ করেন। সেখানে আরবি পড়ানো হতো। একপর্যায়ে মাদ্রাসাটি চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। ১৯৮০ সালে সেখানে আলিয়া মাদ্রাসা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ১৯৯৬ সালে সরকারি অনুদানপ্রাপ্তির জন্য মাদ্রাসার নামে জমির প্রয়োজন দেখা দেয়।

তখন এলাকাবাসীর অনুরোধে মাদ্রাসার নামে ওই মাঠের পাশে ১৫ শতাংশ জমি দান করেন আবুল হাসেম। সেই জমিতে পাকা ভবনও নির্মাণ করা হয়। পাশাপাশি ওই মাঠের পাশে থাকা টিনের ঘরেও মাদ্রাসার ক্লাস চলতে থাকে। কিন্তু এত দিনে টিনের ঘরগুলো জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে। চলতি মাসে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ওই মাঠের এক পাশ দখল করে, গাছ কেটে নতুন করে পাকা ঘর তুলতে থাকে। এ অবস্থায় এলাকার লোকজন ওই মাঠের জায়গা ছোট না করে বরং পুরনো ঘরগুলোকেই সংস্কারের দাবি জানায়। কিন্তু এলাকাবাসীর আবেগকে গুরুত্ব না দিয়েই নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ।

ঈদগাহ মাঠ কমিটির সভাপতি ডা. মতিউর রহমান বলেন, 'এই ঈদগাহ মাঠটি শত বছরের পুরনো। এর জায়গা বেআইনিভাবে দাবি করে আলিয়া মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ সেখানে ঘর তুলছে। এতে মাঠটির অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়েছে। ' জাটিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুর রহমান বলেন, 'ঘর তৈরি হলে এই ঈদগাহ মাঠ তার ঐতিহ্য হারাবে। ' মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. জমির উদ্দিন খান বলেন, মাদ্রাসায় এখন শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৬০০। জমির মালিক তারাই। এবার উপজেলা পরিষদ থেকে তিন লাখ টাকা পাওয়া গেছে ঘর তৈরির জন্য। এ টাকা দিয়েই তাঁরা ঈদগাহ মাঠের এক পাশে ঘর তুলছেন। ' এ ব্যাপারে ঈশ্বরগঞ্জের ইউএনও রাজীব সরকার বলেন, উপজেলা সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) তদন্ত করতে বলা হয়েছে।

 


মন্তব্য