kalerkantho


উদোর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে

মোশাররফ হোসেন, সাতক্ষীরা   

১ জুলাই, ২০১৫ ০০:০০



নামে মিল থাকায় মাদক মামলার এক পলাতক আসামির পরিবর্তে পুলিশ আরেকজনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তাঁকে সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার কুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের মোড় থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এরপর থেকে ওই ব্যক্তি বন্দি রয়েছেন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, বিগত ২০১৩ সালের ৮ জুলাই দুপুর সোয়া ১টার দিকে সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার দক্ষিণ কুলিয়া গ্রামের মৃত হাসান সরদারের ছেলে বাবু সরদার ওরফে বাবুর বাড়িতে অভিযান চালায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। এ সময় ওই বাড়ি থেকে ৫০০ গ্রামের দুই বোতল ভারতীয় কিংফিশার ব্র্যান্ডের বিয়ার জব্দ করেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিদর্শক (এসআই) সানোয়ার হোসেন। এ ঘটনায় ওই দিন বিকেলে সানোয়ার বাদী হয়ে বাবু সরদার ওরফে বাবুকে পলাতক দেখিয়ে ১৯৯০ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ২২ (৬) ধারায় দেবহাটা থানায় একটি মামলা (জিআর ৯৬/১৩ দেবহাটা) দায়ের করেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কালীগঞ্জ সার্কেলের পরিদর্শক কে এম রবিউল ইসলাম। তিনি ওই বছরের ২২ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরা আদালতে এজাহারভুক্ত পলাতক আসামি বাবু সরদার ওরফে বাবুর নামে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরবর্তীতে অভিযোগপত্র আদালতে গৃহীত হওয়ার পর সাতক্ষীরার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম ২ আদালতের বিচারক মো. গোলাম নবী ওই আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। এদিকে দেবহাটা উপজেলার দক্ষিণ কুলিয়া গ্রামের নুরুন্নাহার জানান, তাঁর স্বামী আব্দুল কাদের বাবু (৩৩) ও তিনি ভোমরা বন্দরের একটি সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের কর্মচারী। তাঁর শ্বশুরের নাম মৃত আব্দুল জলিল গাজী।

নুরুন্নাহার বলেন, 'আমার স্বামী গত ২৫ জুন বৃহস্পতিবার কুলিয়া মসজিদে ইফতার ও নামাজ শেষে বাড়ি ফিরছিলেন। ইউনিয়ন পরিষদের সামনে আসামাত্র দেবহাটা থানার সহকারী এএসআই রোকনুজ্জামান তাঁকে আটক করেন। দেবহাটা থানার জিআর ৯৬/১৩ নম্বর মামলার পরোয়ানার আসামি বাবু সরদার বাবু হিসেবে গ্রেপ্তার করেন। বাবু সরদার বাবু ও আব্দুল কাদের বাবু এক ব্যক্তি নন বললেও তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়নি। এরপর থেকে বিনা অপরাধে পাঁচ দিন ধরে জেলহাজতে রয়েছেন। '

দেবহাটা থানার এএসআই রোকনুজ্জামান বলেন, 'বাবু সরদার ওরফে বাবু ও আব্দুল কাদের বাবু একই ব্যক্তি। মৃত হাসান সরদার ও মৃত আব্দুল জলিল গাজী ছকিনা খাতুনের দুই স্বামী। ছকিনা বাবুর মা। তদন্তকারী কর্মকর্তা যথাযথ যাচাই না করে আব্দুল কাদের বাবুর আসল নামের পরিবর্তে বাবু সরদার হিসেবে এজাহার ও অভিযোগপত্র দাখিল করেছেন। আব্দুল কাদের বাবুকে আটক করার পর আসামি নিজেই বাবু সরদার ওরফে বাবু হিসেবে পরিচিত বলে পুলিশকে জানান। এরপর তাঁকে পরদিন আদালতে পাঠানো হয়। '

দেবহাটা থানার ওসি দায়িত্বে থাকা এসআই এস এম জাকারিয়া বলেন, 'আদালত থেকে পাঠানো পরোয়ানার কপিতে আব্দুল কাদের বাবু, পিতা মৃত হাসান সরদার লেখা আছে। সে অনুযায়ী পুলিশ আব্দুল কাদের বাবুকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে বাবার নাম নিয়ে জটিলতা দূর করতে বিষয়টি আগামীকাল (আজ বুধবার) আদালতে খোঁজ নেওয়া হবে। '

 


মন্তব্য