kalerkantho


এমপির ভাইয়ের কমিশন দাবি

দৌলতপুরে সরকারি চাল সংগ্রহ বন্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুষ্টিয়া   

১ জুলাই, ২০১৫ ০০:০০



কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনের ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্য (এমপি) রেজাউল হক চৌধুরীর ভাই টোকেন চৌধুরী কমিশন দাবি করায় দৌলতপুর উপজেলায় সরকারি চাল সংগ্রহ অভিযান বন্ধ রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এদিকে দুই মাস চলে গেলেও এখনো চাল সংগ্রহ শুরু না হওয়ায় বেকায়দায় পড়েছেন চুক্তিবদ্ধ চাল কল মালিকরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলতি বছর দৌলতপুর উপজেলায় ৩১০ টন চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। গত ১ মে থেকে এই চাল কেনা শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত এক ছটাক চালও কেনা সম্ভব হয়নি। অথচ জেলার অন্যান্য উপজেলায় অর্ধেক চাল সংগ্রহ হয়ে গেছে। দৌলতপুরের একটি আটো রাইস মিল ও ছয়টি হাস্কিং মিল থেকে চাল সংগ্রহ করার কথা। কিন্তু অভিযোগ পাওয়া গেছে, টোকেন চৌধুরী একটি অটো রাইস মিল ছাড়া অন্য ছয় মিল মালিকের কাছে টনপ্রতি সাত হাজার টাকা কমিশন দাবি করেছেন। আর মিল মালিকরা তা দিতে অস্বীকার করলে টোকেন চৌধুরীর লোকজন ওই সব মিল থেকে চাল সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে। দু-একজন মিল মালিক সরকারি গুদামে চাল নিয়ে গেলেও খাদ্য কর্মকর্তারা টোকেন চৌধুরীর অনুমতি ছাড়া চাল নিতে পারবেন না বলে ফিরিয়ে দিয়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চাল দিতে না পারা মিল মালিকরা জানিয়েছেন, তাঁরা কমিশনের টাকা দিতে না চাওয়ায় এখন টোকেন চৌধুরী ও তাঁর ভাই সংসদ সদস্য রেজাউল হক চৌধুরী প্রশাসনের ওপর প্রভাব খাটিয়ে তাঁদের মিলগুলো অযোগ্য ঘোষণার চেষ্টা করছেন।

অথচ বরাদ্দের আগে উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তারা তাঁদের (মিল মালিক) মিলের উৎপাদন ক্ষমতা দেখেই ছাড়পত্র দিয়েছিলেন। এরপর তাঁরা সরকারের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হলে তাঁদের মিলের অনুকূলে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এখন কমিশনের টাকা না দেওয়ায় তাঁরা (টোকেন চৌধুরী, খাদ্য কর্মকর্তা) নানা টালবাহানা শুরু করেছেন। দৌলতপুরের উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা লিয়াকত আলী কালের কণ্ঠকে জানান, 'নিয়ম অনুযায়ী মিলের উৎপাদন ক্ষমতা দেখেই সেই মিলের সঙ্গে চুক্তি করা হয়। গতবারও তারা চাল দিয়েছে এবং এবারও চাল দেওয়ার জন্য প্রস্তুত। কিন্তু একটি চক্র কমিশন না পেয়ে চুক্তিবদ্ধ চাল কলকে অযোগ্য করার চেষ্টা করছে। আমাদের ওপর চাপ থাকায় আমরা চাল ক্রয় শুরু করতে পারিনি। '

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীমুল হক পাভেল বলেন, 'টোকেন চৌধুরীর কোনো ইন্টারেস্ট আছে কি না জানি না। তবে চুক্তিবদ্ধ মিলগুলোর উৎপাদন ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেওয়ায় বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। '

এ ব্যাপারে টোকেন চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন ধরে 'ব্যস্ত আছি' বলে রেখে দেন। এরপর রেজাউল হক চৌধুরীর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, 'আমি অসুস্থ। বেশ কিছুদিন দেশের বাইরে ছিলাম। এ ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না। '

 


মন্তব্য