kalerkantho


রংপুরে হাঁড়িভাঙার পার্সেল

স্বপন চৌধুরী, রংপুর   

১ জুলাই, ২০১৫ ০০:০০



রংপুরে হাঁড়িভাঙার পার্সেল

ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আত্মীয় স্বজনদের কাছে হাঁড়িভাঙা আম পার্সেল করে পাঠাতে রংপুরে কুরিয়ার সার্ভিসের কাউন্টারে এ রকম ভিড় এখন নিত্যদিনের। ছবিটি গত সোমবার তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

হাঁড়িভাঙা আম ঘিরে রংপুরের কুরিয়ার ও পার্সেল সার্ভিসগুলোর এখন দম ফেলার ফুসরত নেই। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হচ্ছে প্রায় ৪০ টন আম।

অফিস-আদালতে সহকর্মী, আত্মীয়স্বজন ও দেশের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থানরত ছেলেমেয়েদের পার্সেলযোগে পাঠানো হচ্ছে এই আম। খুব বেশি দিনের কথা না হলেও হাঁড়িভাঙা আমের খ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছে দেশজুড়ে। রংপুরের মিঠাপুকুর থেকে উৎপত্তি হাঁড়িভাঙা আমের। একসময় তামাকের জন্য বিখ্যাত রংপুর এখন ধীরে ধীরে হাঁড়িভাঙার জন্য বিখ্যাত হয়ে উঠছে। আমের হাট বলে পরিচিত বদরগঞ্জের পদাগঞ্জ হাটসহ বিভাগীয় শহর রংপুরের বিভিন্ন এলাকায় এখন গড়ে উঠেছে এই হাঁড়িভাঙার হাট। এ ছাড়া সরাসরি বাগান থেকে হাঁড়িভাঙা আম কিনে প্রতিদিন ট্রাকে করে বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে যাচ্ছে ব্যবসায়ীরা।

রংপুর থেকে প্রতিদিন পার্সেলযোগে আম পাঠানো হচ্ছে দেশের বিভিন্ন এলাকায়। এ ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে এসএ পরিবহন, সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিস, জননী পার্সেল সার্ভিস, ধরলা পার্সেল সার্ভিসসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। আম পাঠানোকে কেন্দ্র করে বাঁশের ঝুড়ি বানানো, ঝুড়ি সেলাইকরণ ও পরিবহনসহ কর্মসংস্থান হয়েছে অনেকের।

এসএ পরিবহনের রংপুর কাউন্টারের ম্যানেজার কাজী ফিরোজ আলম জানান, প্রতিদিন এই পরিবহনে প্রায় ২৫ টন আম রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পৌঁছে দেওয়া হয়। পরিবহন খরচ বাবদ প্রতি কেজি আম ঢাকার জন্য ১২ টাকা এবং অন্যান্য এলাকার জন্য ১৬ টাকা করে নেওয়া হয় বলে জানান তিনি। অন্য সার্ভিসগুলোতে রংপুর থেকে আরো ১০ থেকে ১৫ টন আম পাঠানো হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়।

কথিত আছে মিঠাপুকুরের উঁচাবালুয়া গ্রামের সোহরাব কাসারি নামের এক ব্যক্তি কুমারের কাজ করতেন। একদিন তিনি অবিভক্ত ভারত উপমহাদেশে মাটির তৈরি হাঁড়িপাতিল ফেরি করে বিক্রি করতে গিয়ে কোনো এক স্থান থেকে একটি আম সংগ্রহ করেন। বাড়িতে এনে খাওয়ার পর আমের আঁটিটি (বিচি) ছুড়ে ফেলেন পেছনের ঝোপঝাড়ে। আঁটিটি গিয়ে পড়ে মাটির ভাঙা হাঁড়িপাতিলের স্তূপের ওপর। সেখানেই জন্ম হয় একটি আমের চারার। ক্রমশ চারাটি বড় হয়। গাছে ধরে থোকা থোকা আম। প্রচলিত অন্যান্য আমের চেয়ে এ আম স্বাদ ও গন্ধে অতুলনীয় হওয়ায় গ্রামবাসীর মধ্যে সাড়া পড়ে যায়। অনেকেই খুঁজতে থাকে আমটির নাম। শেষ পর্যন্ত গাছটির জন্ম ভাঙা হাঁড়িপাতিলের মধ্যে হয়েছিল বলে এ আমের নাম দেওয়া হয় 'হাঁড়িভাঙা'।

রংপুর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায়, ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। জানা যায়, অন্যান্য জাতের আম যেখানে প্রতি কেজি ৩০ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, সেখানে হাঁড়িভাঙা আম বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা দরে। এ ব্যাপারে আম ব্যবসায়ী আমজাদ হোসেন জানান, হাঁড়িভাঙা আম কেবল বাজারে আসতে শুরু করেছে। এরপর ২০০ টাকা কেজিতেও মিলবে না। আরেক ব্যবসায়ী আবদুল কুদ্দুস বলেন, 'হাঁড়িভাঙা আম বিক্রির মজাই আলাদা। এ আম যখন বাজারে আসে, তখন প্রচলিত অন্য জাতের আমগুলো শেষ হয়ে যায়। ক্রেতারা হাঁড়িভাঙা নামে পাগল। ' রংপুর প্রেসক্লাবের সামনে আম কিনছিলেন যশোর থেকে বেড়াতে আসা ব্যবসায়ী সাদেকুল ইসলাম ও তাঁর স্ত্রী স্বপ্না বেগম। তাঁরা বলেন, অনেক দিন পর রংপুরে বেড়াতে এসেছি। বাচ্চাদের জন্য হাঁড়িভাঙা আম নিয়ে না গেলে কি চলে! রংপুরের সিও বাজার এলাকার লোকমান মিয়া সিটি বাজার থেকে কেনেন ১০ কেজি আম। তিনি বলেন, 'ছেলেমেয়ে ঢাকায় থাকে। আমের মৌসুমে তারা আসতে পারেনি। কুরিয়ার সার্ভিসে তাদের জন্য আম পাঠাব। '


মন্তব্য