kalerkantho


লক্ষ্মীপুরে ৭১ লাখ টাকার কাজ যুবলীগের ভাগাভাগি

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি   

১ জুলাই, ২০১৫ ০০:০০



লক্ষ্মীপুর সদরে যুবলীগের নেতাদের বিরুদ্ধে ৭১ লাখ টাকার ঠিকাদারি কাজ ভাগাভাগি করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল মঙ্গলবার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধীনে দুটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনের দ্বিতীয় তলা নির্মাণের এ কাজ নিয়ন্ত্রণ করা হয়।

সাধারণ ঠিকাদারদের অভিযোগ, এ টেন্ডার গোপনে শেষ করার জন্য যুবলীগের কয়েকজন নেতা বৈঠক করেছেন। পরে সমঝোতা করে দুটি কাজ দুই নেতাকে দেওয়া হয়। এ জন্য দলের কথা বলে তাঁরা ১৩ শতাংশ হারে টাকা আদায় করেছেন। নিয়ম রক্ষার জন্য যুবলীগের নেতারা পাতানো দরপত্র দাখিল করেন। অভিযোগ রয়েছে, লক্ষ্মীপুরে ই-টেন্ডারের জন্য পে-অর্ডার (সিডিআর) করার ব্যবস্থা রয়েছে শুধু মার্কেন্টাইল ব্যাংকে। ঠিকাদাররা ওই ব্যাংকে পে-অর্ডার করলে ব্যাংকের অসাধু কর্মকর্তারা তাঁদের নাম প্রকাশ করে দেন। এতে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা ঠিকাদারকে চাপ দিয়ে ই-টেন্ডারে অংশ নেওয়া থেকে বিরত রাখে।

উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) কার্যালয় সূত্র জানায়, সম্প্রতি সদর উপজেলার পেয়ারাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনের দ্বিতীয় তলা নির্মাণে ৩৪ লাখ ও চাঁদখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় তলা নির্মাণে ৩৭ লাখ টাকায় দরপত্র আহ্বান করা হয়। গতকাল এ দরপত্র দাখিলের শেষ দিন ছিল।

কয়েকজন সাধারণ ঠিকাদার জানান, ১৩ শতাংশ হারে টাকা নিয়ে যুবলীগের নেতারা কাজ ভাগাভাগি করে নিয়েছেন। সোমবার রাতেই জেলা যুবলীগের এক নেতার আহ্বানে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ কাজ নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক এ কে এম সালাহ উদ্দিন টিপু অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, 'কাজ ভাগাভাগির বিষয়টি আমি জানি না। তবে গতকাল দুটি বিদ্যালয়ের টেন্ডার ছিল বলে আমি আগে থেকে জানতাম। '

এ ব্যাপারে লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নূর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন বলেন, 'টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ কোনো রাজনৈতিক কাজ নয়। এর সঙ্গে আওয়ামী লীগের কোনো নেতা জড়িত নেই। যুবলীগের কেউ এ টেন্ডারের সঙ্গে জড়িত থাকলেও আমাকে জানায়নি। '

 


মন্তব্য