kalerkantho

হঠাৎ হিক্কা হলে

ডা. মিজানুর রহমান কল্লোল    

৪ নভেম্বর, ২০১৮ ১২:৪৬



হঠাৎ হিক্কা হলে

হিক্কার প্রচলিত নাম হেঁচকি। হিক্কা হলো বাতাসের বারবার শব্দময় অনুপ্রবেশ। ডায়াফ্রামের হঠাৎ ও অনৈচ্ছিক সংকোচনের ফলে হিক্কা হয়। ডায়াফ্রাম হলো বুক ও পেটের মধ্যবর্তী স্থানের পর্দা। এটি শ্বাস গ্রহণের সময় প্রধান মাংসপেশি হিসেবে কাজ করে।

যখন ডায়াফ্রাম ও শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ন্ত্রণকারী মাংসপেশি উত্তেজিত হয় এবং পেশি ঘন ঘন ও দ্রুত সংকোচনের সময় হঠাৎ বাতাস টেনে নেয়, যেন শ্বাসনালির ওপরের ঢাকনা বা গ্লটিস খুব জোরে শব্দ করে বন্ধ হয়, ফলে হিক হিক এক ধরনের উচ্চ শব্দ হয়। এটাই হিক্কা বা হেঁচকি।

হিক্কা কোনো আপাতদৃশ্যমান কারণ ছাড়াই দেখা দিতে পারে। তবে সাধারণত অল্প সময়ের মধ্যে এটি আপনা-আপনি চলে যায়। অবশ্য কিছু হিক্কা দিনের পর দিন, সপ্তাহের পর সপ্তাহ, এমনকি মাসের পর মাস স্থায়ী হয়।

হিক্কা খুব সাধারণ একটি সমস্যা। এটি যে কারো, এমনকি নবজাত শিশু ও গর্ভস্থ শিশুরও হতে পারে।

কী কারণে হিক্কা হয়
হিক্কা সব সময় একই কারণে হবে তা নয়। বিভিন্ন কারণে হিক্কা হতে পারে। হিক্কার সাধারণ কারণগুলো নিম্নরূপ—

            বেশি পরিমাণ খাবার খাওয়া এবং দ্রুতগতিতে খাবার খাওয়া।

            পাকস্থলীর তাপমাত্রার পরিবর্তন হওয়া, যেমন—ঠাণ্ডা পানীয় খাওয়ার পরপরই গরম পানীয় খাওয়া।

            ঝাল ও মসলাযুক্ত খাবার বা পানীয় গ্রহণ করা।

            কার্বনেটেড পানীয় পান করা।

            অতিরিক্ত অ্যালকোহল গ্রহণ করা।

            বেশি পরিমাণ বাতাস গিলে ফেলা।

            নিঃশ্বাসের সঙ্গে ক্ষতিকর গ্যাস বা ধোঁয়া টেনে নেওয়া।

            ধূমপান।

            আবেগজনিত চাপ বা উত্তেজনা।

            যেসব রোগ ডায়াফ্রামে প্রভাব ফেলে।

            পেটের যেকোনো অপারেশন।

কখন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হবেন
হিক্কা সাধারণত আপনা-আপনি চলে যায়, মেডিক্যাল চিকিৎসার তেমন একটা প্রয়োজন হয় না।

যদি নিচের উপসর্গগুলো দেখা দেয়, তাহলে চিকিৎসা নিতে হবে—

            যদি হিক্কা তিন ঘণ্টার বেশি সময় স্থায়ী হয়।

            যদি ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে, খাবার খেতে ও শ্বাস নিতে সমস্যা হয়।

            যদি ওজন কমে যায়, অবসাদ লাগে এবং ঘুমের পরিমাণ কমে যায়।

করণীয়
যদিও হিক্কা পুরোপুরি প্রতিরোধের ব্যাপারে নিশ্চয়তা দেওয়া যায় না, তবে নিচের বিষয়গুলো অনুসরণ করলে উপকার পাওয়া যায়। এসব ফার্স্ট এইড চিকিৎসার মধ্যে সাধারণত রয়েছে রক্তে যেকোনো উপায়ে কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বৃদ্ধি করা। তাতে ডায়াফ্রামের সংকোচন বন্ধ হয়।

            নিঃশ্বাস আটকে রাখুন এবং ধীরে ধীরে ১০ পর্যন্ত গুনতে থাকুন। শ্বাস নিন। এভাবে কয়েকবার করুন।

            আচমকা ভয় দেখান।

            একটি কাগজের ঠোঙার মধ্যে নিঃশ্বাস ফেলে আবার তা গ্রহণ করুন।

            এক গ্লাস ঠাণ্ডা পানি এক নিঃশ্বাসে পান করুন।

            এক চামচ মধু বা চিনি খান। প্রতি দুই মিনিট অন্তর তিনবার এটা করুন। অল্প বয়স্ক শিশুদের ক্ষেত্রে কর্ন সিরাপ দিন।

            একটু করে লেবু কামড়ান, পানি গড়গড়া করুন।

লেখক : সহযোগী অধ্যাপক, ঢাকা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল



মন্তব্য