kalerkantho


আপনার প্রশ্ন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৮ অক্টোবর, ২০১৮ ১২:৫৩



আপনার প্রশ্ন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ

ডায়াবেটিস ও হরমোনবিষয়ক বাছাই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. ফরিদ উদ্দিন

সমস্যা : আমার বয়স ৪২ বছর। ১০-১২ বছর ধরে ডায়াবেটিসে ভুগছি। অনেক দিন ধরে ইনসুলিন না নিয়ে মুখে সেবনযোগ্য ওষুধেই সুগার নিয়ন্ত্রণ করে আসছি। আমার উচ্চ রক্তচাপও আছে। হৃদরোগের চিকিৎসক এখন বলছেন ইনসুলিন নিতে। কিন্তু ইনসুলিনকে আমি বরাবরই এড়িয়ে চলেছি এবং কিছুটা ভয়ও পাই। কেননা একবার ইনসুলিন নেওয়া শুরু করলে নাকি সারা জীবন নিতে হবে। পরামর্শ দেবেন। 

আহসান হাবিব, শনির আখড়া, ঢাকা।

পরামর্শ : মুখে সেবনযোগ্য ওষুধে যদি ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে না আসে, তখন আমরা ইনসুলিন নেওয়ার পরামর্শ দিই এবং সেটিই যুক্তিযুক্ত। তবে ইনসুলিনে ভয়ের কিছুই নেই। এর সুচ খুব সরু, ব্যথা নেই বললেই চলে। তা ছাড়া বাজারে এখন অনেক ধরনের ইনসুলিন পাওয়া যায়, যেগুলো দিনে একবার বা দুবার নিলেই চলে।

ইনসুলিন একবার নিলে তা সারা জীবন চালাতে হবে, এই ধারণা আসলে সত্য নয়। অনেক সময় রক্তে চিনির মাত্রা নিয়ন্ত্রণে এলে খাবার ওষুধ আবারও নেওয়া যায়। তবে আপনার উচিত নিয়মিত হাঁটাহাঁটি করা। পাশাপাশি একজন ডায়াবেটিক রোগীর নির্ধারিত ডায়েট চার্ট মেনে চলা।


সমস্যা : আমার বয়স ৩০, ওজন ৫৮ কেজি, উচ্চতা সাড়ে পাঁচ ফুট। আমার বাবা ও মায়ের ডায়াবেটিস আছে। বড় ভাইয়েরও আছে। আমি পরীক্ষা করে দেখেছি, আমার ডায়াবেটিস বর্ডার লাইনে চলে এসেছে। ইদানীং দিনের বেলার চেয়ে রাতে প্রস্রাব বেশি হচ্ছে। আমার কি ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি আছে?

মিজানুর রহমান লিটু, কালীতলা, দিনাজপুর।

পরামর্শ : আপনার পরিবারে যেহেতু ডায়াবেটিস রোগী আছে, সেহেতু আপনার ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। আপনার উচিত রক্তের চিনির মাত্রা নিয়মিত পরীক্ষা করা। এ জন্য জিটিটি বা গ্লুকোজ টলারেন্স টেস্ট করা ভালো। এতে প্রথমে খালি পেটে রক্তের নমুনা নেওয়া হয়। এরপর ৭৫ গ্রাম গ্লুকোজ খেয়ে দুই ঘণ্টা পর আবার রক্তের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এই পরীক্ষায় ডায়াবেটিস হয়েছে কি না, ঝুঁকির মধ্যে পড়ে গেছেন কি না তা জানা যায়। পরীক্ষাটি সহজ ও কম ব্যয়সাপেক্ষ। পাশাপাশি আপনি ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন। প্রতিদিন কমপক্ষে ৪০ মিনিট হাঁটার অভ্যাস করুন। চিনিযুক্ত খাবার, অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেট, কোল্ড ড্রিংকস বা যেসব খাবার খেলে ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি আছে, তা এড়িয়ে চলুন।


সমস্যা : আমার বয়স ৩২ বছর, ওজন ৫৮ কেজি। আমি বসা কাজ করি—অর্থাৎ অফিসে চেয়ারে বসে বসে চাকরি করি। সারা দিন তেমন ব্যায়ামও করা হয় না। অনেক দিন আগে ফার্মেসিতে রক্ত পরীক্ষা করে দেখেছিলাম, সুগার ঠিকই আছে। আমি জানতে চাচ্ছি, কী কী লক্ষণ দেখলে জানতে বা বুঝতে পারব ডায়াবেটিস হয়েছে কি না।

ইফফাত আরা, শিবপুর, নরসিংদী।

পরামর্শ : ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া, পানির অতিরিক্ত পিপাসা পাওয়া, বেশি বেশি ক্ষুধা লাগা, ওজন কমে চেহারায় পরিবর্তন আসা, অল্প পরিশ্রমেই ক্লান্তি আসা ও শরীর দুর্বল লাগা, চোখে ঝাপসা দেখা, মেজাজ খিটখিটে হওয়া ইত্যাদি হলো ডায়াবেটিসের কিছু লক্ষণ। অনেক সময় ডায়াবেটিস হলেও কোনো লক্ষণ প্রকাশ পায় না। রক্তে চিনির মাত্রা পরীক্ষা করালেই শুধু তা ধরা পড়ে। আপনার উচিত নিয়মিত কায়িক পরিশ্রম করা বা ব্যায়াম করা। এতে শুধু ডায়াবেটিস নয়; বরং হৃদরোগ, স্ট্রোক, মুটিয়ে যাওয়াসহ অনেক রোগ থেকে মুক্ত থাকতে পারবেন।



মন্তব্য