kalerkantho

মুখে মেছতা?

ডা. দিদারুল আহসান    

৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১২:০২



মুখে মেছতা?

মেছতা এক ধরনের লালচে দাগ, যা পরে কালো হয়। ত্বকের যেকোনো স্থানে মেছতা হতে পারে। তবে গালের ওপরের দিকে বেশি হয়। অনেক সময় চোয়ালে, নাকের ওপর ও কপালেও এর বিস্তৃতি ঘটে।

অনেক ক্ষেত্রেই মেছতার সুস্পষ্ট কারণ খুঁজে পাওয়া যায় না। তবে হরমোনের তারতম্য একটি বড় কারণ হিসেবে চিহ্নিত। নিয়মিত জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি সেবন, ইস্ট্রোজেন হরমোনথেরাপি গ্রহণ, গর্ভাবস্থায় শরীরে হরমোনজনিত পরিবর্তন, সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাব ইত্যাদিকে মেছতার জন্য দায়ী মনে করা হয়। জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি যদিও মেছতার একটি কারণ, তবে জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি খেলেই মেছতা হবে এমন নয়। আবার জীবনে এক দিনও এই বড়ি খাননি অথচ মুখে মেছতার দাগ হয়েছে—এমনও হতে পারে।

ধরন
তিন ধরনের মেছতা দেখা যায়। অ্যাপিডার্মাল, ডার্মাল ও মিশ্র। অ্যাপিডার্মাল ত্বকের উপরিস্তরে থাকে। এটি চিকিৎসায় সম্পূর্ণ ভালো হয়। ডার্মাল ধরনেরটি হলে বহির্ত্বকের নিচে মেছতার বিস্তৃতি থাকে। এটিও চিকিৎসায় ভালো হয়। আর মিশ্র ধরনের মেছতা বহির্ত্বক ও অন্তর্ত্বকে থাকে। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসায়ও ভালো ফল না-ও হতে পারে। মেছতা ত্বকের কোন স্তর পর্যন্ত বিস্তৃত, তা জানতে উড ল্যাম্প নামের একটি পরীক্ষার প্রয়োজন হয়।

চিকিৎসা
মেছতার চিকিৎসায় বহুল ব্যবহৃত হয় হাইড্রোকুইনন। এর সঙ্গে ট্রেটিনয়েন ও স্টেরয়েড মিশিয়ে চিকিৎসা দিলে দ্রুত দাগ মিলিয়ে যায়। তবে অনেকে অজ্ঞতার কারণে ভেটনোভেট ধরনের ওষুধ দীর্ঘদিন ব্যবহার করেন। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া এ ধরনের ওষুধ ব্যবহার করলে উপকারের চেয়ে ক্ষতি বেশি হয়। মেছতার সবচেয়ে আধুনিক চিকিৎসা হলো, মাইক্রোডার্মো অ্যাব্রেশন। এতে যন্ত্রের সাহায্যে ব্যথামুক্তভাবে ত্বকের সবচেয়ে ওপরের স্তর তুলে আনা হয়। এরপর ওষুধ প্রয়োগ করা হয়, যাতে দ্রুত মেছতা সেরে যায়। লেজারের মাধ্যমেও এখন চিকিৎসা হচ্ছে।

প্রতিরোধে করণীয়
চিকিৎসার পাশাপাশি কিছু বিষয় মেনে চলা খুব জরুরি। যেমন—সূর্যের আলোর সরাসরি স্পর্শ এড়িয়ে চলা। যত ভালো চিকিৎসাই করানো হোক না কেন, সূর্যের আলোতে গেলে আবার মেছতার দাগ ফিরে আসতে পারে। তাই দিনের বেলা ঘরের বাইরে বের হলে সানব্লক বা সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে। অনেকেই সানস্ক্রিন মেখেই বাইরে চলে যান। মনে রাখা দরকার, ভালো ফল পেতে ঘরের বাইরে বের হওয়ার অন্তত আধাঘণ্টা আগে এটি মাখা উচিত।

লেখক : চর্ম ও যৌনরোগ বিশেষজ্ঞ, আল-রাজি হাসপাতাল, ফার্মগেট, ঢাকা। 



মন্তব্য