kalerkantho


যে প্রশ্নগুলো ডাক্তারকে করবেন

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৯ মে, ২০১৮ ০৯:৪০



যে প্রশ্নগুলো ডাক্তারকে করবেন

ছবি অনলাইন

অনেক সময়ই ছোট বড় যেকোনো সমস্যায় চিকিৎসকের কাছে যাওয়াটা জরুরি হয়ে পড়ে। কিংবা রোগ ধরতেও দরকার হয় বিশেষজ্ঞের সহায়তা। অনেকেই চিকিৎসকের চেম্বারে ঢুকতেই ভীতগ্রস্ত হয়ে পড়েন। আসলে কেউ নিজের মধ্যে কোনো রোগ পুষে রাখার খবর পেতে চান না। তবে এ ধরনের অবহেলা করা উচিত নয়। চিকিৎসকের কাছে যে সমস্যায় নিয়ে যান না কেন, কিছু বিষয় জেনে নেয়া উচিত—

অবস্থার উন্নতিতে কী আমি জীবনযাপনে কোনো পরিবর্তন আনতে পারি?

হতে পারে রোগটি মোটেও গুরুতর নয়। খাবার, ঘুম, ব্যায়াম বা কিছু অভ্যাসগত পরিবর্তনেই সমস্যা মিটে যাবে। ওষুধ বা সার্জারিও হয়তো এতটা কার্যকর হবে না। এ জন্য জীবনযাপনে পরিবর্তনের মাধ্যমে রোগ  থেকে মুক্তির সম্ভাবনা আছে কি না—এ বিষয়টি জেনে নেওয়া উচিত।

চিকিৎসা গ্রহণের কি একাধিক উপায় আছে? সেগুলো কী কী?

চিকিৎসাবিজ্ঞান অনেক এগিয়েছে। তাই এক রোগের চিকিৎসা অনেক উপায়ে করা সম্ভব হয়ে ওঠে। এ বিষয়টি জানা উচিত বিশেষজ্ঞের কাছ থেকে। এতে একাধিক উপায়ের সন্ধান মিলবে।

কোনো ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার বিষয়ে সাবধান থাকতে হবে?

যে ওষুধই ডাক্তার দেন না কেন, প্রতিটির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার বিষয়ে সচেতন থাকা সবারই কর্তব্য। এগুলো চিকিৎসকের কাছ থেকে জেনে নিতে হবে। আবার একই ওষুধে একেকজনের মধ্যে একেক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হওয়াটা বিরল নয়। এসব ঘটনা বিস্তারিত বুঝে নিতে হবে।

মেডিক্যাল পরীক্ষার ফলাফল কিভাবে পাব? কিংবা এরপর কী করব?

সাধারণত বয়স্ক ব্যক্তিদের এ সমস্যা হয়ে থাকে। ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের চিফ অব পেশেন্ট এক্সপেরিয়েন্স বিভাগের প্রধান ড. আদ্রিয়েনে বোইসি বলেন, অনেক রোগী আছে যারা পরীক্ষার ফল আসার পর কী করবে তা বুঝতে পারে না। চিকিৎসক এ সম্পর্কে হয়তো কিছুই বলেননি। কিংবা তিনি রোগীর সংশ্লিষ্ট অজ্ঞতার বিষয়েও জানেন না। এ ধরনের পরিস্থিতির কথা মাথায় রাখতে হবে রোগীকে। ডাক্তারকে জিজ্ঞাসা করে নিতে হবে যে টেস্টের ফলাফল তাঁরা কিভাবে পাবেন এবং তারপরই বা কী করবেন।

কেমন খরচ হবে?

সবার জন্যে এ প্রশ্নটি প্রযোজ্য। চিকিৎসার একটা খরচ আছে। এর জোগানে বাড়তি প্রস্তুতির প্রয়োজন হতে পারে। বিশেষ করে হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজন পড়লে সম্ভাব্য খরচ সম্পর্কে ধারণা নিয়ে নিন। তা ছাড়া সাধারণ চিকিৎসার ক্ষেত্রেও খরচ সম্পর্কে ধারণা নেওয়া ভালো।

আপনার কোনো দ্বিমত আছে কী?

এ প্রশ্নটি একটু জটিলতা তৈরি করতে পারে। আসলে প্রত্যেক চিকিৎসক তাঁর নিজ নিজ ক্ষেত্রে পেশাদার ব্যক্তি। এমন হতে পারে, আপনার যে সমস্যা আছে, তা হয়তো দুই বা ততোধিক বিষয়ের বিশেষজ্ঞকে দেখানো দরকার। কাজেই যিনি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন তাঁর কাছে এ প্রসঙ্গটা তুলে ধরুন।

এমন কোনো বিষয় আছে যা আমার জেনে নেওয়া উচিত?

আপনি হয়তো ওপরের সব প্রশ্নই করে ফেলেছেন। কিন্তু আরো কিছু জেনে রাখা উচিত। এ অবস্থায় শেষের প্রশ্নটি খুবই কাজের। এর মাধ্যমে চিকিৎসকের মনেও ঢুকিয়ে দেওয়া হয় যে রোগীকে আরো কিছু বলার বাকি আছে হয়তো। এতে বিশেষজ্ঞও ভুলে গেছেন এমন বিষয়ের কথা মনে পড়ে যাবে। আবার কোনো কিছু না জানা গেলেও রোগী আত্মতুষ্টি পাবেন এই ভেবে—ডাক্তারের সঙ্গে কথোপকথন শেষমেশ সফল হয়েছে।

-- চিটশিট অবলম্বনে সাকিব সিকান্দার


মন্তব্য