• ই-পেপার

যারা মাইক্রোওয়েভে খাবার গরম করেন, তারা সাবধান!

ডেঙ্গুতে বছরে ক্ষতি ৫ হাজার কোটি টাকা, সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
ডেঙ্গুতে বছরে ক্ষতি ৫ হাজার কোটি টাকা, সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ
ছবি : কালের কণ্ঠ

ডেঙ্গুর কারণে বাংলাদেশে প্রতিবছর আনুমানিক চার থেকে পাঁচ হাজার কোটি টাকার অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে। এই ক্ষতি শুধু চিকিৎসা ব্যয়েই সীমাবদ্ধ নয়; কর্মঘণ্টা নষ্ট হওয়া, উৎপাদনশীলতা কমে যাওয়া এবং দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক দুর্বলতার প্রভাব জাতীয় অর্থনীতিতে বড় চাপ সৃষ্টি করছে।

এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকার, স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, চিকিৎসক, গণমাধ্যম ও সাধারণ মানুষের সমন্বিত উদ্যোগের পাশাপাশি বিজ্ঞানভিত্তিক জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

সোমবার (২০ জুলাই) জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরাম (এনডিএফ) আয়োজিত ‘ডেঙ্গু জ্বর বিষয়ক সচেতনতামূলক সায়েন্টিফিক সেমিনারে’ বক্তারা এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে যশোর-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ বলেন, দেশে প্রতিবছর গড়ে প্রায় ৫০০ মানুষের মৃত্যু এবং এক লাখের বেশি মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলেও সরকারি এই পরিসংখ্যান প্রকৃত চিত্রের সামান্য অংশ মাত্র। দেশের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মানুষ এখনো অনিবন্ধিত ও অপ্রাতিষ্ঠানিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের কাছ থেকে চিকিৎসা নেন, যাদের তথ্য সরকারি রেকর্ডে যুক্ত হয় না।

তিনি আরও বলেন, ‘ম্যালেরিয়ার বাহক এনোফিলিস মশা রাতে কামড়ায়, তাই মশারি কার্যকর প্রতিরোধ হতে পারে। কিন্তু ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশা দিনের বেলায় কামড়ায়। ফলে শুধু মশারির ওপর নির্ভর করলে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়; এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং লার্ভা নিধনেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।’

স্বাস্থ্য খাতের ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে ডা. ফরিদ উল্লেখ করেন, সমস্যার মূল কারণ অর্থের ঘাটতি নয়, বরং পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সীমাবদ্ধতা। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আরও কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করতে তিনি সংসদীয় স্বাস্থ্য কমিটিকে সক্রিয় করার ওপর জোর দেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য মারজিয়া বেগম গুজব ও অপচিকিৎসা থেকে বিরত থেকে বৈজ্ঞানিক তথ্যভিত্তিক সচেতনতা গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ডেঙ্গু একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ। সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণ এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চললে অধিকাংশ রোগীই সুস্থ হয়ে ওঠেন।

সেমিনারে কী-নোট স্পিকার হিসেবে বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. জাহাঙ্গীর-উল আলম (সোহেল)। তিনি বলেন, জ্বর দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া, পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ এবং অপ্রয়োজনীয় ওষুধ সেবন থেকে বিরত থাকা জরুরি।

এনডিএফের সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডা. মাহমুদ হোসেনের সঞ্চালনায় সেমিনারে আরও প্যানেল আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন বিসিএস হেলথ ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোস্তাফিজুর রহমান, মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মাহবুব ইসলাম মজুমদার এবং জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. আব্দুল্লাহ সাঈদ খান।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ডেঙ্গু এখন আর কেবল মৌসুমি সমস্যা নয়, এটি দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। তাই হাসপাতালভিত্তিক চিকিৎসার পাশাপাশি কমিউনিটি পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি ও প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদারের বিকল্প নেই।

ডেঙ্গুতে তিনজনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৩৭২

অনলাইন ডেস্ক
ডেঙ্গুতে তিনজনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৩৭২
সংগৃহীত ছবি

সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩৭২ জন। আজ সোমবার (২০ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়াদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে ৬৭ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৫৪ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১০৩ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ২২ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৫২ জন, খুলনা বিভাগে ৪৩ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ২১ জন, রাজশাহী বিভাগে চারজন এবং রংপুর বিভাগে ছয়জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ১০ হাজার ৮৫৭ জন। এর মধ্যে ৬০ দশমিক ৯ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৯ দশমিক ১ শতাংশ নারী রয়েছেন। ডেঙ্গু থেকে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন ৯ হাজার ৭৮৬ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আরো জানায়, এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে মোট ৩৭ জন মারা গেছে।

হামের উপসর্গে আরো ৫ প্রাণহানি, আক্রান্ত ১০৬৯

প্রেস বিজ্ঞপ্তি
হামের উপসর্গে আরো ৫ প্রাণহানি, আক্রান্ত ১০৬৯
সংগৃহীত ছবি

সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৬৯ শিশু। সোমবার (২০ জুলাই) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরো ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি।

এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে মোট ৬৯৮ শিশুর। আর হামে আক্রান্ত হয়ে আরো ৯৫ শিশু প্রাণ হারিয়েছে। অর্থাৎ হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এই সময়ে মোট ৭৯৩ শিশু মারা গেছে।

এ ছাড়া ২৪ ঘণ্টায় ১৪৭ শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে, আর হামের উপসর্গজনিত রোগীর সংখ্যা ৯২২। এই সময়ে ৮৮৯ শিশু নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, আর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ১ হাজার ১১ শিশু।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ১৮ হাজার ৫৭০, আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৪ হাজার ৫৭৮। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ১ লাখ ১ হাজার ২৬ রোগী, যাদের মধ্যে ৯৭ হাজার ৫৩২ জন ছাড়পত্র পেয়ে ইতিমধ্যে বাড়ি ফিরেছে।

ডেঙ্গুতে আরো একজনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৪৭৩

অনলাইন ডেস্ক
ডেঙ্গুতে আরো একজনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৪৭৩
সংগৃহীত ছবি

এডিস মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরো একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত মশাবাহিত রোগটিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৪ জনে দাঁড়িয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৩০৬ জন। 

রবিবার (১৯ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে ডেঙ্গুতে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে এই সময়ে ঢাকা বিভাগেই সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী (১৬৫ জন) হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম বিভাগে ৬৩ জনসহ বরিশাল বিভাগে ৭৫, খুলনা বিভাগে ৬৬, রংপুর বিভাগে ৪২, রাজশাহী বিভাগে ২৩ জন এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ৩৬ জন ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছর ১ জানুয়ারি থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট ৩৪ জন মারা গেছেন। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে (১৮ জন)। এ ছাড়া উল্লেখিত সময়ে ময়মনসিংহ বিভাগে ৫ জন ছাড়াও চট্টগ্রাম বিভাগে ৪, খুলনা বিভাগে ৪, বরিশাল বিভাগে ২ এবং রাজশাহী বিভাগে ডেঙ্গুতে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

যারা মাইক্রোওয়েভে খাবার গরম করেন, তারা সাবধান! | কালের কণ্ঠ