kalerkantho


এখনো ভয়ংকর 'হুপিং কাশি', আছে প্রতিরোধের উপায়

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৪ মে, ২০১৮ ১২:১৯



এখনো ভয়ংকর 'হুপিং কাশি', আছে প্রতিরোধের উপায়

হুপিং কফের কথা অনেকে ভুলেই গেছেন। রোগটি খুব কম পরিসরে দেখা যায় বলেই আমাদের ধারণা। কিন্তু ধারণার চেয়েও বেশি ছড়িয়ে রয়েছে রোগটি। পাবলিক হেলথ অন্টারিও'র নতুন এক গবেষণায় বলা হয়, হুপিং কফ আগের চেয়েও বেশি পরিমাণ ছড়াচ্ছে। একে থামাতে নিয়মিত ভ্যাক্সিন দিয়ে রোগ প্রতিরোধীব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। 

হুপিং কফকে আগে বলা হতো পারতুসিস। এটা শ্বাসযন্ত্রের রোগ যা ব্যাপকভাবে সংক্রমিত হয়। পরের নামটি প্রচলিত হয়েছে কাশির বৈশিষ্ট্য বিবেচনা করে। কাশি হলে অনেক 'হুপ' আওয়াজ পাওয়া যায়। তাই একে বলে হুপিং কফ। 

তবে অনেকেরই 'হুপ' শব্দটি হয় না। তার মানে এই নয় যে হুপিং কফ হয়েছে। থেমে থেমে কাশি হতে থাকে অনেকের। কাশিই একমাত্র লক্ষণ যার মাধ্যমে হুপিং কফ চিহ্নিত হয়। বাচ্চাদের ক্ষেত্রে কাশি নাও হতে পারে। বরং তাদের শ্বাসগ্রহণের সমস্যা হতে পারে। অথবা কিছু সময়ের জন্যে তাদের শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধও হয়ে যেতে পারে। হুপিং কাশিতে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে শিশুরা। 

ইউনিভার্সিটি অব জর্জিয়ার এক গবেষণায় বলা হয়, ভ্যাক্সিন গ্রহণের কোর্স শেষ না করলে হুপিং কাশি আবারো দেখা দিতে পারে। তবে এ রোগের সংক্রমণে মৃত্যুর ঘটনা বিরর। তবে মৃত্যু ঘটলে শিশুদের ঘটাই স্বাভাবিক। যাদের দেহে এই রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধীব্যবস্থা গ্রহণে অক্ষম তারা বেশি আক্রান্ত হয়ে থাকেন। 

অন্টারিওতে তিনটি ভিন্ন উৎস থেকে তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। দেখা গেছে, হুপিং কাশিতে শিশুদের মৃত্যুহার বড়দের দ্বিগুন। ২০০৯ সাল থেকে ২০১৫ সালে তথ্য ঘেঁটে দেখা গেছে, হুপিং কাশিতে আক্রান্তের সংখ্যা ৫৪৫ ধরা হয়েছে। কিন্তু আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৯২৪ জন। এক বছর থেকে আর বেশি বয়সী শিশুদের যে সংখ্যা তুলে ধরা হয়েছে, তার চেয়ে ৮ গুন বেশি সংখ্যক শিশুর হুপিং কাশি হয়েছিল। অর্থাৎ, অধিক সংখ্যক মানুষের হুপিং কফ চিহ্নিত করা যাচ্ছে না। 

এর পেছনে মূল কারণ হিসেবে আছে চিকিৎসকদের চোখ এড়িয়ে যাওয়া। আবার রোগী পেলেও তাদের তথ্য গণস্বাস্থ্যের কাছে যাচ্ছে না। এসব পরিসংখ্যান পরিষ্কারভাবে তুলে ধরে যে, ধারণার চেয়েও অধিক সংখ্যক মানুষ হুপিং কাশিতে আক্রান্ত হয়ে থাকেন। 

এ গবেষণাকর্মের প্রধান নাতাশা ক্রোক্রফট জানান, হুপিং কাশি একমাত্র ভ্যাক্সিনের মাধ্যমে নির্মুল করা যায়। ভ্যাক্সিন মানুষের দেহে রোগ প্রতিরোধী ক্ষমতা গড়ে তোলে। তাই সামান্য বা বেশি সংক্রমণ থেকে বাঁচতে ভ্যাক্সিন গ্রহণের কাজটি পরিপূর্ণভাবে শেষ করতে হবে। আর তা নিয়ন্ত্রণ করা উচিত ভবিষ্যতের মহামারী ঠেকানোর জন্যে। 

এ গবেষণাকর্মটি প্লস ওয়ান-এ প্রকাশিত হয়েছে। 
সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস 



মন্তব্য