kalerkantho


অশ্রুসিক্ত নয়নে চিরবিদায় রানারের তিন কর্মীকে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২০ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



ঘটনার পর থেকেই সহকর্মীদের আশা ছিল, তাঁরা ফিরবেন। অফিস কক্ষে আবারও খুনসুটিতে মেতে উঠবেন সহকর্মীদের সঙ্গে। তাঁরা অবশেষে এলেন কর্মস্থলে। নিথর দেহে, নিশ্চল দৃষ্টিতে। প্রিয় সহকর্মীদের শেষ বিদায় জানাতে ছুটে আসেন প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা থেকে শুরু করে কর্মচারীরাও। তাঁদের চোখের জলে বিদায় নিলেন নেপালে ইউএস-বাংলা বিমান দুর্ঘটনায় নিহত রানার অটোমোবাইলের তিন কর্মকর্তা।

গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর তেজগাঁওয়ে অবস্থিত রানার গ্রুপের প্রধান কার্যালয়ের সামনে রানার অটোমোবাইলের নিহত হেড অব সার্ভিস ও সিনিয়র ম্যানেজার (কাস্টমার কেয়ার) এস এম মাহমুদুর রহমান, অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার মো. মতিউর রহমান এবং জুনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট ফোরম্যান নুরুজ্জামান বাবুকে এভাবে তাঁর সহকর্মীরা বিদায় জানান। সন্ধ্যা ৭টায় তৃতীয় জানাজা ও পরে ফুল দিয়ে নিহতদের শ্রদ্ধা জানানো হয়। এর আগে নেপালের কাঠমাণ্ডুতে এবং আর্মি স্টেডিয়ামে দুটি জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। রানারের কর্মকর্তারা জানান, এখান থেকে মরদেহ নিয়ে তাঁদের গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হবে।

নিহতদের জানাজার শুরুতে রানার গ্রুপের চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান তাঁর সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বলেন, ‘নিহত তিন কর্মকর্তা রানারের উন্নয়নে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। আমরা তাঁদের পরিবারের জন্য যা যা করণীয় তার সবটুকুই করব। ভবিষ্যতে পরিবারের জন্য যা করা সম্ভব তার সবই করব।’

রানারের কর্মকর্তারা জানান, নিহত এম এম মাহমুদুর রহমানকে ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়ায়, নুরুজ্জামান বাবুকে পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার মুন্সিপাড়ায় এবং মতিউর রহমানকে ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার বগাদান ইউনিয়নের নিজ নিজ বাড়িতে দাফন করা হবে।

মাহমুদ নামের রানারের এক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এই তিন কর্মকর্তা শুধু আমাদের সহকর্মীই ছিলেন না, তার চেয়েও গভীর ছিল আমাদের সম্পর্ক। তাঁরা সহজেই সবার সঙ্গে মিশে যেতেন।’

ফুল দিয়ে সহকর্মীদের শ্রদ্ধা জানানোর সময় অনেকের চোখ দিয়ে অঝোর ধারায় অশ্রু ঝরতে দেখা যায়। সার্বিক পরিবেশে একটি শোকের আবহ নেমে আসে।



মন্তব্য