kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


বাংলা

গল্পের পাশাপাশি লেখক সম্পর্কেও জানতে হবে

১৯ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



গল্পের পাশাপাশি লেখক সম্পর্কেও জানতে হবে

প্রথম পত্র : সৃজনশীল পদ্ধতিতে লিখিত পরীক্ষার প্রশ্নে ৩টি বিভাগ থাকবে—গদ্য (ক), পদ্য (খ) ও আনন্দ পাঠ (গ)। প্রতিটি বিভাগ থেকে কমপক্ষে একটি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে।

চাইলে তোমাদের যেকোনো একটি বিভাগের তিনটি প্রশ্নেরই উত্তর করতে পারবে। বাকি দুটি বিভাগ থেকে আরো তিনটি প্রশ্নের উত্তর করলে মোট উত্তরের সংখ্যা হবে ছয়টি। লেখার শুরুতেই যে বিভাগ থেকে প্রশ্নের উত্তর করতে চাও, তা উল্লেখ করবে। যেমন : ক-বিভাগ। এই বিভাগের উত্তর লেখা শেষ করে অন্য বিভাগের উত্তর লেখা শুরু করবে। এটি হবে তোমাদের পাঠ্যসূচির গদ্য, পদ্য ও আনন্দ পাঠের গল্পের আলোকে। উদ্দীপক সংশ্লিষ্ট ক, খ, গ ও ঘ নম্বর প্রশ্নের প্রথম দুটি—অর্থাৎ জ্ঞান ও অনুধাবনমূলক প্রশ্নের উত্তর পাঠ্য বই সংশ্লিষ্ট হবে। জ্ঞানমূলক প্রশ্নের মান ১। এ প্রশ্নের উত্তর একটি বাক্যে লিখতে হবে। এ ক্ষেত্রে যে তথ্যটি জানতে চাওয়া হয়, সেটি ভুল বানানে লিখলে কোনো নম্বর পাওয়া যাবে না। যেমন—

প্রশ্ন : ‘তৈলচিত্রের ভূত’ গল্পটি কে লিখেছেন?

উত্তর : ‘তৈলচিত্রের ভূত’ গল্পটি লিখেছেন মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়। এখানে লেখকের নামের বানানের কোনো অংশ ভুল করলে উত্তর ভুল ধরা হবে এবং এ ক্ষেত্রে কোনো নম্বর পাবে না।

অনুধাবনমূলক প্রশ্নের মান ২। এক নম্বর জ্ঞান, আরেক নম্বর অনুধাবনের জন্য। এ ক্ষেত্রে যা জানতে চাওয়া হয়, তা এক বাক্যে হলেও এক প্যারায় লিখতে হবে। আর দ্বিতীয় প্যারায় অল্প কথায় তা বুঝিয়ে লেখাই হলো অনুধাবন।

কেবল প্রয়োগ ও উচ্চতর দক্ষতামূলক প্রশ্ন হবে উদ্দীপক ও পাঠ্য বই সংশ্লিষ্ট। তাই গ ও ঘ নম্বর প্রশ্নের উত্তরও উদ্দীপক ও পাঠ্য বই অনুযায়ী লিখতে হবে। এই অংশের উত্তর করতে গিয়ে অনেকেই পুরো উদ্দীপকটি খাতায় লিখে ফেলে। প্রশ্নসংশ্লিষ্ট গদ্য, পদ্য বা আনন্দ পাঠের গল্পগুলোর যে অংশটুকু সাদৃশ্য বা বৈসাদৃশ্যপূর্ণ, প্রয়োগের ক্ষেত্রে কেবল সেটুকুরই উত্তর করতে হয়। যে উত্তর জানতে চাওয়া হবে, প্রথমেই তা চিহ্নিত করে ব্যাখ্যা ও পাঠ্য বইয়ের সঙ্গে সমন্বয় সাধন করতে হয়। পাঠ্য বইয়ের প্রাসঙ্গিক তথ্য বাদ দিয়ে উদ্দীপকে অপ্রাসঙ্গিক তথ্য দিয়ে খাতা ভরালে নম্বর কমে যাবে। এ অংশের ‘তিন’ নম্বরও প্রতিটি স্তরের জন্য ‘এক’ ‘এক’ করে ভাগ করা।

উচ্চতর দক্ষতার ক্ষেত্রে চিহ্নিত বিষয়টিকে ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করে একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছতে হয়। সিদ্ধান্তটি সঠিক, ভুল অথবা আংশিক সত্য—যা-ই হোক না কেন, পাঠ্য বইয়ের আলোকে এ ক্ষেত্রেও জ্ঞান, অনুধাবন ও প্রয়োগ দেখিয়ে তারপর সিদ্ধান্তে আসতে হয়। সঠিকভাবে চারটি স্তর তুলে ধরতে পারলে এখানে ৪ নম্বর পাওয়া কঠিন কিছু নয়।

বহু নির্বাচনী : এ অংশে ৪০-এ ৪০ পেতে হলে পাঠ্যসূচির অন্তর্ভুক্ত সব গদ্য, পদ্য ও আনন্দ পাঠের মূল গল্প-কবিতা এবং এর লেখক বা কবি পরিচিতি, শব্দার্থ, টীকা, পাঠের উদ্দেশ্য ও পাঠ পরিচিতি সম্পর্কে জানতে হবে। অনুধাবন, প্রয়োগ ও উচ্চতর দক্ষতার প্রশ্নের ধরন জানতে ২০১২ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত সব বোর্ড পরীক্ষার প্রশ্ন অনুশীলন করতে হবে।

 

দ্বিতীয় পত্র : রচনামূলক অংশে পাঁচটি প্রশ্ন থাকে।

১ নম্বর প্রশ্নের সারাংশ বা সারমর্মগুলোর অধিকাংশই তোমাদের সাহিত্য কণিকা থেকে নেওয়া, যা দ্বিতীয় পত্রের নির্মিতি অংশে সংযুক্ত হয়েছে। সারাংশ লেখার ক্ষেত্রে উপমা, উদৃ্লতি বাদ দিয়ে মূল ভাবটি চার-পাঁচটি সহজ বাক্যে লিখতে হবে। সারমর্মের ক্ষেত্রে বিষয়টির অন্তর্নিহিত ভাব বা অর্থ বুঝে লিখতে হয়। দুটির মধ্যে ‘অথবা’ থাকে। যেটি সহজ মনে হবে, সেটিরই উত্তর করবে। ২ নম্বর প্রশ্নে ভাব সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে প্রদত্ত উদ্ধৃতিটির আংশিক অথবা পুরোটাই ‘ক’ অথবা ‘খ’ উল্লেখ করে তুলে নেবে। এ ক্ষেত্রেও গদ্য অথবা পদ্যের যেকোনোটি বেছে নিতে পারো। উদৃ্লতিটির ভাব সম্প্রসারণ করতে গিয়ে মূল ভাব, সম্প্রসারিত ভাব ও মন্তব্য—এই উপশিরোনাম ব্যবহার করা ভালো। তবে উপশিরোনাম ব্যবহার না করলেও তিনটি অংশে ভাবটির সম্প্রসারণ করতে হবে।

৩ নম্বর প্রশ্নে একটি অনুচ্ছেদ লিখন অথবা অনুধাবনশক্তি পরীক্ষার জন্য প্রদত্ত অনুচ্ছেদের পাঁচটি প্রশ্নের উত্তর করতে হয়। তোমাদের ‘বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি’ বইয়ের প্রবন্ধ রচনার অংশটুকু ভালোভাবে পড়লে যেকোনো একটির উত্তর তোমরা অতি সহজেই লিখতে পারবে। বিগত বছরের জেএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র দেখলে তোমাদের আত্মবিশ্বাস বেড়ে যাবে।

৪ নম্বর প্রশ্নে ব্যক্তিগত পত্রের সঙ্গে একটি ‘আবেদনপত্র’ অথবা ‘নিমন্ত্রণপত্র’ আসে। আর ব্যক্তিগত পত্র লিখলে খাম এঁকে ডান দিকে প্রাপকের ও বাঁ দিকে প্রেরকের পূর্ণ ঠিকানা লিখতে হবে। বিদেশে চিঠি পাঠাতে হলে খামের ঠিকানা অবশ্যই ইংরেজিতে এবং খামের ওপরের ঠিক মাঝখানে BY AIRMAIL কথাটি লিখবে। আর ডান দিকের ওপরের কোণে ডাকটিকিট কথাটি লিখতে যেন ভুল না হয়। এরিয়া কোড জানা থাকলে স্থানের নামের শেষে লিখবে। যেমন ঢাকা-১২০৬।

৫ নম্বর প্রশ্নের উত্তরের জন্য তোমাদের দ্বিতীয় পত্র বইয়ের নির্মিতি অংশে বিভিন্ন বিষয়ক মোট ১৪টি প্রবন্ধ রয়েছে। সংকেতসহ প্রদেয় তিনটির মধ্যে একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করতে হয়। এ ক্ষেত্রে কোনো লেখক, কবি বা মনীষীর উদৃ্লতি দিলে তা যেন নির্ভুল হয়—এটা অবশ্যই খেয়াল রাখবে। বহু নির্বাচনী অভীক্ষার ২০টি প্রশ্নের মধ্যে ১৫টি ব্যাকরণিক ও পাঁচটি বিবরণমূলক হয়। এ জন্য বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি বইয়ের ১.১—অর্থাৎ ভাষা থেকে ১০.৪ বাগধারা পর্যন্ত সবই পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পড়তে হবে।


মন্তব্য