kalerkantho


ফেসবুক থেকে পাওয়া

নীল-সাদা খাম

১৩ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০



বাবা যেবার সিয়েরালিয়নে মিশনে গেল, তখন আমি অনেক ছোট। সময়টা ২০০৩ কি ২০০৪ সাল। এখনকার মতো সবার হাতে হাতে মোবাইল ছিল না। তাই বাবা প্রতি মাসে বাড়িতে কয়েকটি চিঠি পাঠাত। সাধারণ খামের মতো হলুদ খামে সেগুলো আসত না। নীল সাদার লম্বা লম্বা খাম। টাকমাথার খাকি পোশাকের এক পিয়ন এসে চিঠি দিয়ে যেত, আর ১০ টাকা করে বকশিশ নিত। একবার আম্মু কাগজ-কলম এগিয়ে দিয়ে বলল, তোর বাবাকে একটা চিঠি লেখ তো। কী লিখেছিলাম মনে নেই। তবে একটা খেলনা কম্পিউটার চেয়েছিলাম, যেটায় গেম খেলা যায়। সেই চিঠি আকাশি-নীল-সাদা খামে ভরে বাক্সে ফেলে দিয়ে এলাম। তারপর  বাড়ির সামনে কেউ সাইকেলের বেল দিলে, ছুটে যেতাম পিয়ন চাচা এসেছে কি না। তার প্রায় এক বছর পর বাবা বাসায় এসেছিল। রাতে ডেকে ছোট্ট একটা কম্পিউটার দিল। তখন যে কি খুশি হয়েছিলাম, ভাবলে এখনো শিহরণ জাগে মনে। কত দিন ঘুমানোর সময় কম্পিউটারটা সঙ্গে  নিয়ে ঘুমিয়েছি তার ইয়ত্তা নেই। এখন স্মার্টফোনে বাবাকে যখন-তখন কল দেওয়া যায়। দামি কম্পিউটার কিনে দিয়েছে বাবা, চাইতেও হয়নি। কিন্তু ১৫ বছর আগের সেই চিঠি লিখে ছোট্ট মনিটরের কম্পিউটার পেয়ে যা খুশি হয়েছিলাম, এই দামি কম্পিউটার আর মোবাইলের যুগে সেই সুখ আর মেলে না।

আল সানি

টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্ট, সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।



মন্তব্য