kalerkantho


বিশাল বাংলা

ডেভিডের শিশুরা

৬ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০



ডেভিডের শিশুরা

সাভার বাজার থেকে কমলাপুর আট কিলোমিটার দূরে। সামারিতান চিলড্রেন হোম আছে সেখানে। ছয়টি অনাথ শিশু নিয়ে ডেভিড এ হালদার এটি শুরু করেছিলেন। আজ এখানে শিশু আছে ৪৫০ জন। ঘুরে এসেছেন জুবায়ের আহম্মেদ

অস্ট্রেলিয়ায়ই থেকে যেতে পারতেন ডেভিড হালদার; কিন্তু চাইলেন দেশে ফিরতে। অনাথ শিশুদের জন্য কিছু করতে।

প্রথমে দুটি। তারপর চারটি। ১৯৯০ সালে ছয়টি অনাথ শিশুর দায়িত্ব নিলেন ডেভিড। একসময় সংখ্যাটি ২৫ হলো। উত্তরায় চারতলা একটি বাড়ি ভাড়া নিলেন। চিলড্রেন হোমের কার্যক্রম শুরু হলো। স্কয়ারের চৌধুরী পরিবার সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিল। আরো কিছুদিন পরে, ১৯৯৩ সাল। সাভারের গেণ্ডায় বড় একটি বাড়ি ভাড়া নিলেন ডেভিড। ১৫৯ জন অসহায় শিশু নিয়ে এলেন গেণ্ডায়। এখানে আসার পর বিদেশ থেকেও সহায়তা পেতে শুরু করেন। তারপর স্যামসন চৌধুরী ও তাঁর স্ত্রী কমলাপুরে দুই একর জমি কিনে দেন। আরো বড় হতে থাকে শিশুপল্লীটি। এখন সাত একর জায়গায় ৪৫০ জন শিশু লালিত-পালিত হচ্ছে সামারিতান শিশুপল্লীতে।

 

পল্লীতে একচক্কর

একটি স্কুল, অডিটরিয়াম ভবন, ছেলে ও মেয়েদের আলাদা হোস্টেল, একটি চিকিৎসালয় ও একটি খেলার মাঠ আছে এখানে। স্কুলটিতে আশপাশের গ্রাম থেকেও শিশুরা পড়তে আসে। প্লে থেকে শুরু হয় পড়াশোনা। পাহাড়ি অঞ্চলের শিশু, যারা বাংলা কম পারে, তাদের জন্য আছে স্লো-লার্নিং প্রগ্রাম। স্কুল ও হোমের শিশুদের জন্য কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টার আছে। চিকিৎসালয়ে আছে অভিজ্ঞ ডাক্তার, নার্স ও প্যাথলজিস্ট। বহির্বিভাগে গ্রামবাসীকেও চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়। সেলাই প্রশিক্ষণকেন্দ্রে গ্রামের মহিলারাও প্রশিক্ষণ নিতে পারে। এখানে মোট কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সংখ্যা ৮০ জন। এর মধ্যে ১৬ জনই বড় হয়েছেন এই পল্লীতে। এ ছাড়া এখানে একটি মেকানিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার আছে। পড়াশোনায় দুর্বল যারা, তারা এখানে হাতে-কলমে শিক্ষাগ্রহণ করে। ডেভিড হালদার বললেন, আমাদের মেকানিক্যালের ছেলেরা ভালো ভালো চাকরি পেয়েছে। বিয়েশাদি করে পরিবার নিয়ে সুখে আছে। অনেকের বিয়ে হয়েছে এই পল্লীতেই।

 

তিনি শিশুদের পিতা

সুবিধাবঞ্চিত ও অনাথ শিশুদের তিনি সন্তানের মতোই লালন-পালন করেন। তিনি এখানে সবার পিতা। ২৭ বছর ধরে তাঁর এ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ অস্ট্রেলিয়ার শেফার্ড সেন্টার ও অস্ট্রেলিয়ার ফাদার কাউন্সিল ডেভিড হালদারকে ২০১৬ সালে ‘কমিউনিটি ফাদার’ তকমা দিয়েছে। তিনি সাভারের রাজাসনে জয় হোস্টেল নামে একটি ছাত্রাবাসও প্রতিষ্ঠা করেছেন। সেখানে কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থীরা বিনা খরচে থাকার সুযোগ পায়।

 

ভবিষ্যতের স্বপ্ন

শিশুপল্লীতে একটি কলেজ করার পরিকল্পনা আছে ডেভিড হালদারের। তিনি বলেন, ‘এখানকার শিশুরা নিজের পায়ে দাঁড়াবে, সমাজে ভালো অবস্থানে যাবে—এটাই আমার চাওয়া। আমার ইচ্ছা, এখানকার শিশুরাই বড় হয়ে এই প্রতিষ্ঠান চালাবে।’ শিশুদের হাসিতেই আনন্দ পান তিনি। আজীবন এখানেই থাকতে চান ডেভিড এ হালদার।

     ছবি : রোমিও দাস

     কৃতজ্ঞতা : জুয়েল হালদার

 

 



মন্তব্য