kalerkantho


এক পাতা প্রেম

লাউ দি বানাইলাম...

ময়মনসিংহের পুরনো বাদ্যযন্ত্রের সংগ্রাহক আসলামের কথা আগেও লিখেছেন নিয়ামুল কবীর সজল। এবার লিখছেন আসলামের লাউ দিয়ে তৈরি কয়েকটি বাদ্যযন্ত্রের কথা

১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



লাউ দি বানাইলাম...

রেজাউল করিম আসলাম

রেজাউল করিম আসলামের বাদ্যযন্ত্র বিক্রির প্রতিষ্ঠানের নাম নবাব অ্যান্ড কোং। ১৯৪৪ সালে প্রতিষ্ঠা। উত্তরাধিকার সূত্রে আসলাম চালাচ্ছেন এখন। লাউ নিয়ে তাঁর কাজ শুরু এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে। গিয়েছিলেন জাতীয় জাদুঘরে। দেখেন সেখানে লাউ দিয়ে তৈরি চারটি বাদ্যযন্ত্র। চিন্তা করলেন আরো বানানো যায় কি না। লাউয়ের খোল সংগ্রহ করা শুরু করলেন। বলছিলেন, যন্ত্রের আকারের মতো লাউ জোগাড় করা কঠিন কাজ। হালুয়াঘাট থেকে পাঁচটি জোগাড় করেছি তা-ও পাঁচ গ্রাম থেকে। বন্ধু কামালকে লাউয়ের খোঁজে বান্দরবানও পাঠিয়েছিলাম। সে ১০টি লাউ সংগ্রহ করেছিল দূর দূর পাহাড় থেকে। পাহাড়ি লাউয়ের গলা লম্বা হয়। আর ডুগি বানিয়েছি যেটি দিয়ে, সেটি শেরপুর থেকে সংগ্রহ করেছি। এ লাউটির পেট মোটা মানে মাঝের অংশটি বেশ গোল। ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া থেকে একটি লাউ সংগ্রহ করেছি। সেটিও লম্বা, তবে চামড়া পাতলা। সুন্দর আওয়াজ হয় টোকা দিলে। সব মিলিয়ে ৫০টি লাউ জোগাড় করেছিলাম। দাম পড়েছে তিন শ থেকে এক হাজার টাকা। অনেক সময় লাউ হাতে নিয়ে চার-পাঁচ ঘণ্টা বসে থেকেছি। ভেবেছি এটি দিয়ে কোন যন্ত্রটি বানানো যায়। পরে একেক ধরনের খোল দিয়ে একেক রকম যন্ত্র তৈরি করি। মে মাসে বানানো শুরু করেছিলাম। শেষ করেছি জুনে।

 

মেয়ে নকশা করেছে

দোকান কর্মচারী আলামিন ডলার, রাজ্জাক, উজ্জ্বল, রুবেল, শামীম সহযোগিতা দিয়েছেন আসলামকে। শেষে যন্ত্রগুলোর গায়ে নকশা করেছে তাঁর মেয়ে জয়িতা আফসানা অর্পা। অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে অর্পা। বলছিলেন আসলাম, ‘যন্ত্র বানানোর ওই দিনগুলোতে দুপুরে খেতে যেতাম না বাসায়। ফিরতে রাত গভীর হয়ে যেত। মেয়ে জানতে চাইত, কী করি? পরে সে যন্ত্রগুলো দেখে। মেহেদি দিয়ে সে লাউয়ের ওপর আলপনা এঁকে দেয়। সাইনপেন দিয়ে লাউয়ের ওপর আঁকা যায় না। লাউ কালি শুষে নেয়। মেহেদি দিয়ে আঁকার কারণে সুন্দরও দেখাচ্ছে।’

 

লাউযন্ত্রগুলো

বাঁশ, চামড়া, কাঠ, নলখাগড়া, সুতা ও তার ব্যবহার করেছেন আসলাম লাউয়ের সঙ্গে। যন্ত্রগুলো বাজানোও সহজ। সুরে মাধুর্য বেশি। পাহাড়ি লাউ দিয়ে যেমন ফ্লোং খোং নামের একটি যন্ত্র তৈরি করেছেন। দেখতে অনেকটা ব্যাগপাইপের মতো। বান্দরবানের মুরংরা খুব বাজায়। এতে তিনি লাউয়ের সঙ্গে নলখাগড়ার ডগা যোগ করেছেন। দোতারায় কাঠের খোলের জায়গায় লাউয়ের খোল দিয়েছেন। বাউল বৈষ্ণবদের সঙ্গী ডুগি যন্ত্র। মাটি বা পিতলের হয়। আসলাম দেখিয়েছেন লাউ দিয়ে এটিও তৈরি সম্ভব। আফ্রিকান ড্রামও বানিয়েছেন আসলাম লাউ দিয়ে। এ ক্ষেত্রে তিনি লাউটাকে অর্ধেক করে নিয়ে খোলা জায়গাটা চামড়া দিয়ে মুড়ে নিয়েছেন। আফ্রিকান ড্রামের চাহিদা আছে পৃথিবীর অনেক দেশে। আসলাম মনে করেন, এটি রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনও সম্ভব। লম্বা গড়নের একটি লাউয়ে তিনটি তার জুড়ে দিয়ে হাওয়াইন গিটারও তৈরি করেছেন আসলাম। স্টিলবার দিয়েই বাজানো যায়। এর ধ্বনি ক্ষীণ হলেও রেশ দীর্ঘস্থায়ী। খঞ্জনি, একতারাসহ মোট ১০টি যন্ত্র লাউ দিয়ে তৈরি করেছেন আসলাম।

 

 

 



মন্তব্য