kalerkantho


ফেসবুক থেকে পাওয়া

১১ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০



ফেসবুক থেকে পাওয়া

টাক বেল

ক্লাস ফোর থেকে ফাইভে ওঠার সময় ভালো রেজাল্ট করলাম। তখন ভালো ছাত্র হিসেবে বন্ধুবান্ধবরা সমীহা করতে লাগল; শিক্ষকরাও স্নেহ করতেন। কিন্তু কপালে সুখ সইল না। এক নতুন ছেলের আবির্ভাব হলো ক্লাসে। এই ছেলে প্রতিদিন বাসা থেকে আম, জাম, পেয়ারা, সুন্দর ডায়েরি ইত্যাদি বন্ধুদের দিত। শিক্ষকদের দিয়ে বলত ‘স্যার, এটা আমার বাড়ির। আপনি আমার প্রিয় টিচার। তাই আপনাকে দিলাম।’

এ রকম তেল মেরে সবাইকে হাত করে নিচ্ছিল। বন্ধুমহলে তাই আমার প্রতি টান কমতে শুরু করল। ব্যাটাকে টাইট করার অনেক ফন্দিফিকির করেও কাজ হচ্ছিল না; কিন্তু একবার একটা মওকা এলো। আমাদের রেজা স্যারের মাথা ছিল বিশাল একটা টাক। ছেলেটাকে বললাম, ‘দোস্ত, রেজা স্যার বেলের শরবত খেতে অনেক পছন্দ করে।’ ও ঠিক তারপরের দিনই দুটি বেল জোগাড় করে স্যারের কাছে নিয়ে গেল। আমরা তো অপেক্ষায়ই আছি পরের ঘটনা দেখার জন্য। বেল দেখে স্যার তো রেগেই আগুন। এমনিতেই স্যারের মাথার টাক বেলের মতো দেখতে আর আড়ালে-আবডালে স্যার টাক বেল

বলেই রাগাতাম আমরা। যা হোক, পরে যা ঘটল তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। এর পর থেকে অবশ্য ওকে আর কাউকে এভাবে হাত করতে দেখিনি আর আমিও অতি সহজে নিজের রাজত্ব ফিরে পেলাম।

 

—আল সানি

সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।

 

 

পাগল কাঁদতে পারে, কাঁদাতেও পারে

সাদিয়া মেয়েটা একটা পাগল। ওর সঙ্গে ঘুরতে এসেছিলাম পার্কে। বসে বসে গল্প করছিলাম। কী দরকার ছিল খামোখা ঝগড়া করে দৌড় দেওয়ার। আমিও পার্ক থেকে বেরিয়ে তার পিছু নিলাম। কিছুক্ষণ পর চোখের আড়ালে চলে যায় সে। জনমানবহীন রাস্তা। একপাশে ফুটপাত অন্যপাশে ফ্লাইওভারের কাজ অসমাপ্ত পড়ে আছে। একটু সামনেই ময়লার বিশাল এক স্তূপ। পাশেই একজন পাগল আনমনে বসে বসে বিড়বিড় করে চলেছে। সাদিয়ার চিন্তা বাদ দিয়ে মানুষটাকে খেয়াল করছিলাম। কী আজব। দুর্গন্ধ একটা জায়গায় দিব্বি বসে আছে। এক হাতে মাথা চুলকায় অন্য হাতে কী যেন হিসাব করে। দেখে মনে হয় জীবনের কোনো এক বিশেষ হিসাব মেলাতে না পেরে তার এ অবস্থা।

একটু পর গোনা বন্ধ করে দৌড়ে ডাস্টবিনের কাছে গেল লোকটি। একটি কালো পলিথিন হাতে নিয়ে ময়লায় ধপাস করে বসে পড়ল। একটু পর হয়তো সে নোংরা খাবারগুলো খাবে। বিষয়টি ভালো লাগল না। তাই কাছে গেলাম। কথার ছলে ফুটপাতে এনে বসালাম। পলিথিনটা কেড়ে নিলাম। সাদিয়ার জন্য পুডিং বানিয়ে দিয়েছিল আম্মু। সেটা ব্যাগ থেকে বের করে লোকটার হাতে দিলাম। বাঁ হাতে বাক্সটা নিয়ে ডান হাতে অনবরত মাথা চুলকাতে লাগল সে। আর একটু পরপর আমার দিকে চেয়ে চেয়ে দেখছিল।

এভাবে কয়েক মিনিট পার হলো। কিন্তু লোকটি পুডিং খাচ্ছে না। আমিও পাশে বসে দেখছিলাম সে কী করে! একপর্যায়ে আমার মুঠোফোন বেজে ওঠে। রিসিভ করে কয়েক কদম দূরে চলে যাই।

—হ্যালো, সাদিয়া বলো।

—কী ব্যাপার, তুমি আমার মান না ভাঙিয়ে কোথায় চলে গেছ? কোথায় তুমি?

—একটা পাগল মামার সঙ্গে বসে আছি...

—বুঝতে পেরেছি, পাগলটা আমার চেয়ে বড় হয়ে গেল? পাগলটা মেয়ে, না ছেলে?

—বললাম না, পাগল মামা।

—ওহ! আচ্ছা বাদ দাও; ফোন রাখো...! আমার ভালো লাগছে না বলেই ফোনটা কেটে দিল সাদিয়া।

এসে দেখি লোকটা পুডিং হাতে নেওয়ার চেষ্টা করছে। কিন্তু নিতে পারছে না। বারবার ভেঙে পড়ে যাচ্ছে। আমি পুডিংটা হাতে নিয়ে তার মুখের কাছে নিলাম। মায়ের বাধ্য ছেলের মতো হাঁ করে মুখে নিয়ে খেল সে।

এতক্ষণে খেয়াল করলাম, তার চোখ জলে টলমল করছে। এখনই যেন দুই ফোঁটা পানি গাল বেয়ে পড়বে। জীবনে প্রথমবারের মতো বুঝতে পারলাম পাগলরাও অনুভূতি প্রকাশ করে, কাঁদতে পারে, কাঁদাতেও পারে।

 

—সোহানা পাহরিন

বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ।

 

 

আমি যাই বন্ধুর কাছে

ভার্জিনিয়া উলফ বলেছিলেন, ‘কেউ কেউ পুরোহিতের কাছে যায়, কেউ কবিতার কাছে, আমি যাই বন্ধুর কাছে।’

বন্ধু কিংবা বন্ধুত্ব। ছোট্ট এই শব্দটি। যার মাধ্যমে মানুষ তার হৃদয়ের সব কথাকে একটি ফ্রেমে আবদ্ধ করতে পারে। বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় বন্ধু তিন প্রকার হতে পারে। ‘প্রকৃত বন্ধু’ যে বিপদে-আপদে সব সময় সাহায্যের হাত বাড়ায়। ‘সুবিধাবাদী বন্ধু’ যে নিজের স্বার্থ থাকলে সাহায্যের হাত বাড়ায়। ‘নকল বন্ধু’ যে বিপদ ডেকে আনতে সাহায্য করে এবং এ করেই তারা মজা পায়।

আসলেই বন্ধুত্ব অন্য রকম এক জিনিস। স্কুলজীবনের শুরুর দিনগুলোতে অনেকেরই নতুন অভিজ্ঞতার নাম বন্ধুত্ব। পরিবারের চেনা জগত্টা যে এক লাফে অনেক দূর চলে গিয়েছিল সে তো বন্ধুদের হাত ধরেই। জীবনের পথে হাঁটতে হাঁটতে যে যেখানেই থাক না কেন, চলার পথে বন্ধুত্ব নামের এই পাথেয়টির তুলনা বোধ হয় আর কিছুর সঙ্গেই চলে না। এ এমনই বিষয় যেন কিছু না থাকলেও বন্ধুত্ব থাকলে চলে। আবার সব থাকলেও বন্ধুত্ব ছাড়া চলে না! জীবনের লম্বা পথ পাড়ি দেওয়ার সময়টাতে আমরা এমন কিছু মানুষ পেয়ে যাই। এই মানুষরা আমাদের চলার পথে উৎসাহ জোগায়, কখনো বিষণ্ন মনটাকে সতেজ করে তোলে, আবার কখনো তাকে আঁকড়ে ধরে সাহস পাওয়া যায়। পরিবারের পরই আমরা যেন সবচেয়ে বেশি স্বস্তিবোধ করি বন্ধু নামক মানুষটার কাছে। বন্ধুত্বের ধরনের ওপর নির্ভর করে ভবিষ্যতের স্থান। বন্ধুত্বের হাত ধরে কেউ যায় অন্ধকার জগতে। আবার কেউ পেয়ে যায় আলোর দিশা। তাই বন্ধুত্ব বাছাইয়ের ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করা জরুরি।

 

—আবু আফজাল মোহা. সালেহ

উপপরিচালক (বিআরডিবি)

লালমনিরহাট।

 

ভুল স্বীকার

অবসরের গত সংখ্যার (৪ আগস্ট ২০১৮) তিন নম্বর পাতার বোকাইনগর শিরোনামের লেখায় সম্রাট আওরঙ্গজেবের আমলে বাংলার সুবেদার হিসেবে খাজা উসমান গনির নাম লেখা হয়েছে। আসলে আওরঙ্গজেবের আমলে বাংলায় এ নামে কোনো সুবেদার ছিলেন না। অনিচ্ছাকৃত এ ত্রুটির জন্য আমরা দুঃখিত। 

 



মন্তব্য