kalerkantho


ফেসবুক থেকে পাওয়া

সহজে স্বামী হওয়া যায়, প্রেমিক নয়

২১ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



সহজে স্বামী হওয়া যায়, প্রেমিক নয়

বিয়ের প্রথম বছরটা সবচেয়ে সুন্দর কাটে। এই সময়টাতে দুজন দুজনকে একটু একটু করে আবিষ্কার করতে শুরু করে। বিছানা থেকে টাওয়াল সব কিছু শেয়ার করার মাঝেই এক ধরনের আনন্দ মেলে। দুজন দুজনকে মুগ্ধ করার চেষ্টায়ই সময়টা দ্রুত ফুড়িয়ে যায়। পরের বছরটা দৈনন্দিন অভ্যস্ততায় পরিণত হতে থাকে। আবেগের জায়গাটা দখল করে নিতে থাকে বাস্তবতা। ছেলেটা তার বাইরের জগতে আনন্দ খুঁজে নিলেও মেয়েটা সংসারের গণ্ডিতে আটকা পড়ে যায়। এরপর সন্তানের প্রসঙ্গ চলে আসে। সামাজিকতার ভিড়ে এই চলে যাওয়া প্রেম বেশির ভাগ দম্পতির ক্ষেত্রে আর কখনোই ফেরে না। কেন মনে হয় সব কিছু ফুড়িয়ে গেছে? কারণ ছেলেরা তার প্রেমিকাকে ‘বউ’ বানিয়ে ফেলে।

এই মেয়েটিই যে তার সব ভালোবাসার প্রেরণা ছিল, যার জন্য সব কষ্ট মেনে নেওয়া যেত, তাকেই নিজের সম্পত্তি বানিয়ে ফেলে। সে ধরেই নেয়, যেহেতু মেয়েটা আমার তাই মেয়েটার সব কিছুই আমার। সেখানে ভালোবাসাটুকু জয় করার কোনো দরকার নেই, ওর জীবনটা আমার জন্যই।

স্বামীরা আসলে প্রচণ্ড ভুলের মাঝে বাস করে। মেয়েরা সারা জীবন তার স্বামীর মাঝে তার প্রেমিককে খুঁজে বেড়ায়। যে তাকে রোজ না হোক সপ্তাহে একটা চিঠি লিখবে, তার শাড়ির কুঁচি ঠিক করে দেবে, তার আত্মভোলা বউয়ের জন্য মানিব্যাগের কোনায় একপাতা টিপ কিনে রাখবে। আর যখন বউ বলবে ওহ! টিপ পরতে ভুলে গেছি, ছেলেটা মুচকি হেসে বলবে, আমি তো জানি তুমি ভুলে যাবে। মেয়েটা চায় তার স্বামী তাকে জয় করুক। যে ভালোবাসার কথাগুলো প্রথম পরিচয় থেকে মন দেওয়া-নেওয়ায় হয়েছিল সেগুলোই হোক আজীবন।

কিন্তু স্বামী যখন একটুকরো কাগজ দিয়ে বউকে সম্পত্তি ভাবা শুরু করে বউ তখন সংসারটাকে শুধুই কর্তব্য ভেবে পথ চলে। সেখানে প্রেম থাকে না। থাকে এক ধরনের অভ্যস্ততা। সামাজিকতার ভয়ে অন্য পুরুষকে ভালোবাসা যাবে না—এমন নিয়মের শেকল বেঁধে মেয়েরা সারাটা জীবন পার করে দেয়। কোনো কোনো মেয়ে হয়তো অন্য কাউকে ভালোবাসার দুঃসাহস দেখায়। কিন্তু সংখ্যাটা খুবই কম। গোপন সত্যিটা হলো, স্বামী হওয়া সহজ কিন্তু প্রেমিক হওয়া কঠিন। বিয়ে শুধু একটা কাগজের টুকরা মাত্র প্রেমিকার পদবি বদলে স্ত্রী হয়েছে। কিন্তু মানুষ তো একই। স্ত্রী হলেই যে তার ভালোবাসা পাওয়া যাবে, এই ধারণা ভুল। বিয়ের পরেও ভালোবাসা জয় করে নিতে হয়। আর যে বিয়ের পরে প্রেমিক হতে পারে সেই সারা জীবনের জন্য একটা প্রেমিকা পায়। যে তাকে সব ভালোবাসা দিয়ে আগলে রাখে।

—সোহানা পাহরিন

বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটি, চট্টগ্রাম।



মন্তব্য