kalerkantho


সরেজমিন

পাবনা রেলস্টেশন

পাবনাবাসী খুশি, তারা রেলস্টেশন পেয়েছে। চালু হয়েছে দিনকয়েক হলো। এক সকালে ঘুরে এসেছেন আহমেদ উল হক রানা

২১ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



পাবনা রেলস্টেশন

একনজরে

♦ প্রকল্পের নাম : ঈশ্বরদী থেকে পাবনা হয়ে ঢালারচর পর্যন্ত নতুন রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প

♦ প্রকল্প এলাকা : পাবনা ও নাটোর জেলা

♦ নতুন রেলপথ নির্মাণ  (মেইন লাইন) : ২৫.৫০ কিমি

♦ নতুন রেলপথ নির্মাণ (লুপ লাইন) : ৫. ৫০ কিমি

♦ মেজর ব্রিজ নির্মাণ (৪০ ফুটের ঊর্ধ্বে) : দুটি

♦ মাইনর ব্রিজ নির্মাণ : ৩৫টি

♦ লেভেল ক্রসিং গেট : স্পেশাল ক্লাস দুটি, এ ক্লাস দুটি, বি ক্লাস ১৩টি, সি ক্লাস ৩৮টি

♦ স্টেশন বিল্ডিং নির্মাণ : চারটি (বি ক্লাস)

♦ প্ল্যাটফর্ম নির্মাণ : ছয়টি

♦ প্ল্যাটফর্ম শেড নির্মাণ : ছয়টি

♦ কার পার্কিং এরিয়া : ১৮৪৫ বর্গমিটার

♦ এপ্রোচ রোড : ১৩৫৫৫ বর্গমিটার

♦ ওভারহেড ওয়াটার ট্যাংক নির্মাণ : একটি

♦ স্টাফ ব্যারাক নির্মাণ : ১৬৬৪ বর্গমিটার

♦ ডিপ টিউবওয়েল : একটি

♦ ফুট ওভারব্রিজ নির্মাণ : ১০৮ বর্গমিটার।

♦ বিশেষ খবর : রেলপথটি পদ্মা নদীর ওপর দিয়ে প্রস্তাবিত নতুন রেল কাম রোড ব্রিজ দিয়ে রাজবাড়ী রেললাইনের সঙ্গে যুক্ত হবে। ফলে ঈশ্বরদী-মাঝগ্রাম-ঢালারচর-রাজবাড়ী-ফরিদপুর-ভাঙ্গা-পদ্মা সেতু হয়ে ঢাকা পর্যন্ত একটি নতুন রেলরুট তৈরি হবে।

 

এখন পর্যন্ত একটাই ট্রেন চলে পাবনা থেকে রাজশাহী। ট্রেনের নাম পাবনা এক্সপ্রেস। দিন-রাত মিলে একটাই, সকাল পৌনে ৭টায়। চালু হওয়ার আগে থেকেই স্টেশন এলাকা পাবনাবাসীর ঘুরে বেড়ানোর জায়গা হয়েছিল। এর পর চালু হওয়ার বেশ কয়েক দিনই ট্রেনের হুইসেল শুনলেই এলাকার মানুষ ছুটে আসত স্টেশনে। এসে ট্রেন দেখত। কেউ কেউ শখ করে টিকিট কেটে চেপেও বসেছে। ঘুরে এসেছে টেবুনিয়া, দাশুড়িয়া বা ঈশ্বরদী। ফিরে এসেছেন সিএনজি অটোরিকশায় চড়ে।

 

দিনটা ছিল বুধবার

১৮ জুলাই। ভোর ৬টা ৮ মিনিট। স্টেশন সুনসান। এ মাথা থেকে ও মাথা পর্যন্ত গিয়ে শুধু শিলা রানীকে পাওয়া গেল। স্টেশন ঝাড়ু দিচ্ছিলেন। পৌনে ৭টায় ট্রেন আসবে। তার আগে প্ল্যাটফর্ম সাফ করতে হবে। চক্কর দিয়ে ফিরছি, ততক্ষণে দেখি টিকিট কাউন্টার খোলা হয়ে গেছে। লাইনে কেউ না থাকায় বুকিং সহকারী নাজমুল হাসান চেয়ারে বসে আড়মোড়া ভাঙছেন। নাজমুল আগে রাজবাড়ী স্টেশনে ছিলেন। চলতি মাসের গোড়ার দিকে বদলি হয়ে পাবনা এসেছেন। নতুন এই স্টেশনে এখনো অনলাইনে টিকিট বুকিং সিস্টেম চালু হয়নি। তাই হাতে হাতেই সব করতে হচ্ছে। ৬টা ২৬ মিনিটে প্রথম যাত্রী এলেন। তিনি মুন্দিরপুর এলাকার এস এম আলাউদ্দিন। বললেন, ‘এখন রাজশাহী যাওয়া অনেক সহজ হয়ে গেল।’ সাড়ে ৬টা নাগাদ ভিড় বেড়ে গেল। আনসারবাহিনীর সদস্য রাকিব হাসান লাইনে দাঁড়াতে যাত্রীদের অনুরোধ জানাচ্ছিলেন। তিনি বললেন, ‘স্টেশনে এখন একজন মাত্র হাবিলদার আর তিনজন আনসার নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছেন। স্টেশন এলাকার ব্যারাকে থাকি। পালা করে ডিউটি করি।’

 

ট্রেন এলো

দুই মিনিট দেরি করল পাবনা এক্সপ্রেস। ট্রেনটিতে ছয়টি বগি। চালকের নাম রবিউল ইসলাম। বললেন, ‘আন্ত নগর ট্রেন চলে ঘণ্টায় ৯৫ থেকে ১০০ কিলোমিটার গতিতে। তবে পাবনা এক্সপ্রেস আমরা চালাচ্ছি ৫০ কিলোমিটার গতিতে। আরো কিছুদিন হয়তো এ গতিতেই চলবে। আস্তে আস্তে গতি বাড়বে।’ 

ট্রেনের গার্ড আনোয়ার হোসেন ও হাফিজুর রহমান জানালেন, ‘নতুন রুট, নতুন লাইন। এ কারণে ঘন ঘন স্টপেজ। যাত্রী একেবারে খারাপ হচ্ছে না। দিনে দিনে  বাড়বে।’ এর আগে চিত্রা, সুন্দরবন প্রভৃতি ট্রেনে দায়িত্ব পালন করেছেন তাঁরা।

স্টেশন মাস্টার পাভেল হাসানকেও পেলাম। বললেন, প্রতি সোমবার ট্রেনটির সাপ্তাহিক ছুটি। ট্রেনটি আসে পৌনে ৭টায় আর ছেড়ে যায় সোয়া ৭টায়। এর মোট আসন সংখ্যা ৫২৪। গত পরশু ১০৩টি আর গতকাল ১৪৭টি টিকিট বিক্রি হয়েছে। আজকে পৌনে ২০০ ছাড়াবে।’

পাভেল হাসান আগে রাজশাহী আড়ানী স্টেশনে ছিলেন। সেখানে সারা দিন ব্যস্ত থাকতে হতো। এখন একটা ট্রেন হওয়ায় ব্যস্ততা কম। 

 

এখনো টি স্টল হয়নি

স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে এখনো কোনো টি স্টল বা অন্য কোনো অস্থায়ী দোকান গড়ে ওঠেনি। প্ল্যাটফর্মের মাঝামাঝি পাওয়া গেল লস্করপুর এলাকার বাদাম বিক্রেতা আশকার আলীকে। জানালেন, তিনি স্টেশন তৈরি হওয়ার সময় থেকেই বাদাম আর নিমকি বিক্রি করছেন এখানে। ট্রেন চালু হওয়ার পর থেকে সকাল-সকালই আসছেন। গত কয়েক দিনে তাঁর বিক্রি বেড়েছে।

 

ট্রেন চলে গেল

নির্ধারিত সময়ের ঠিক দুই মিনিট পরে হুইসেল দিয়ে পাবনা স্টেশন ছেড়ে গেল পাবনা এক্সপ্রেস। অল্পক্ষণের মধ্যে প্ল্যাটফর্মও ফাঁকা হতে শুরু করল। স্টেশন  গেটে  পেলাম উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা সাইফুল ইসলামকে। তিনি থাকেন শহরের দিলালপুর মহল্লায়। সকালের ট্রেন দেখাতে স্টেশনে ছেলে-মেয়েকে নিয়ে এসেছিলেন। ট্রেন দেখে বেজায় খুশি তাঁর ছেলে-মেয়েরা। পৌনে ৮টা নাগাদ প্ল্যাটফর্ম জনশূন্য হয়ে গেল। সন্ধ্যায় আবার জমে উঠবে। রাজশাহী থেকে ফিরবে পাবনা এক্সপ্রেস। তখন ঈশ্বরদী অভিমুখের যাত্রীরা টিকিট কিনবে।

 

ছবি : লেখক



মন্তব্য