kalerkantho


সাহসী ছেলের দল

১৪ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



সাহসী ছেলের দল

থাইল্যান্ডের একটি কিশোর ফুটবল দল। আটকা পড়েছিল গুহার গহ্বরে। ৯ দিন কোনো খবরই ছিল না। সারা থাইল্যান্ড প্রার্থনায় বসেছিল। উদ্ধারকর্মীরা গিয়েছিল বিশ্বের আরো দেশ থেকে। বেরিয়ে আসার পর স্বস্তি এসেছে। তাঁদের নিয়ে আজকের প্রচ্ছদ প্রতিবেদন

 

এক নজরে

►    গুহার দৈর্ঘ্য ১০ কিলোমিটার। ওই গুহার প্রবেশপথ থেকে প্রায় চার কিলোমিটার ভেতরে আটকা পড়েছিল ফুটবলাররা।

►    বর্ষায় এই গুহার ভেতরে পানির গভীরতা কোথাও কোথাও ১৬ ফুটও ছাড়িয়ে যায়।

►    ২৩ জুন থেকে ‘নিখোঁজ’ ছিল তারা।

►    ৯ দিন পর ২ জুলাই দুই ব্রিটিশ ডুবুরি তাদের সন্ধান পান।

►    কর্তৃপক্ষ শুরুতে ভেবেছিল বর্ষা মৌসুম শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করবে।

►    ৭ জুলাই রাতে অস্ট্রেলিয়ান চিকিৎসক রিচার্ড হ্যারিস কিশোরদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে তাদের বের করার কাজ শুরুর পরামর্শ দেন।

►    তিন দিনের উদ্ধার অভিযানে বিভিন্ন দেশের ৯০ জন দক্ষ ডুবুরি অংশ নেন। এর মধ্যে ৪০ জন থাইল্যান্ডের। বাকিরা ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, ডেনমার্কসহ বিভিন্ন দেশের। উদ্ধার অভিযানে নেতৃত্ব দেয় থাই নেভি সিল। উদ্ধারকারী দলের প্রধান ন্যারোংসাক ওসোত্তানাকর্ন বলছিলেন, কমপক্ষে এক হাজার লোক উদ্ধারকাজে অংশ নিয়েছে।

 

‘অবিশ্বাস্য সাহসী এবং শক্ত এই শিশুরা’

ইভান কারাজিচ, উদ্ধারকর্মী

থাইল্যান্ডের গুহায় আটকে পড়া ১২ জন কিশোরকে বের করে আনার কাজে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে যেসব বিদেশি বিশেষজ্ঞ ডুবুরি অংশ নিয়েছেন, তাঁদের একজন ইভান কারাজিচ। ডেনমার্কের ওই বিশেষজ্ঞ ডুবুরি থাইল্যান্ডেরই কো-তাও নামে ছোট একটি দ্বীপে একটি গুহার ভেতরে ডাইভিং বা ডুব সাঁতার দেওয়ার একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালান। চ্যাং রাইয়ের পাহাড়ের গুহায় কিশোর ফুটবল দলটির আটকে পড়ার খবর প্রচার হওয়ার পর অন্য নানা দেশের অনেক স্বেচ্ছাসেবী ডুবুরির মতো তিনিও ছুটে গিয়ে যোগ দেন উদ্ধারকারী দলে। বিবিসির সঙ্গে তাঁর গত কয়েক দিনের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে কারাজিচ আটকে পড়া থাই শিশু-কিশোরদের, যাদের বেশির ভাগ সাঁতারই জানত না, সাহসের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। ‘এই বাচ্চাগুলোকে এমন কাজ করতে বাধ্য করা হচ্ছে, যা আগে কখনো এই বয়সের কোনো শিশুই হয়তো করেনি...১১ বছর বয়সে কেভ ডাইভিং (গুহার ভেতরে ডুব সাঁতার) চিন্তারও বাইরে।’

মি কারাজিচ বলেন, সরু গুহায় ভারী অক্সিজেনের পাত্র পিঠে নিয়ে মাস্ক পরে ডুব সাঁতার দেওয়া যেকোনো বয়সের মানুষের জন্য বিপজ্জনক। ‘যখন তখন বিপদ আসতে পারে, নিজের টর্চের আলো ছাড়া সব কিছু অন্ধকার।’

মি কারাজিচ বলেন, উদ্ধারের পরিকল্পনার সময় তাঁদের সবচেয়ে ভয় ছিল বাচ্চাগুলো যদি মাঝপথে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে, তখন কিভাবে সামাল দেওয়া হবে। তিনি বলেন ‘আমি বিশ্বাসই করতে পারি না যে এই বাচ্চাগুলো কতটা সাহসী ও ঠাণ্ডা মাথার হতে পারে, ভাবতেই পারছি না... দুই সপ্তাহ ধরে ঠাণ্ডা, অন্ধকার গুহায় আটকে ছিল তারা, মাকে দেখেনি...।’

ইভান কারাজিচের দায়িত্ব—গুহার মাঝামাঝি পথে অবস্থান নিয়ে অক্সিজেনভর্তি পাত্র পরীক্ষা করে বদলে দেওয়া।

রবিবার প্রথম বাচ্চাটিকে যখন আসতে দেখেন, অনুভূতি কী ছিল?

‘মনে মনে অনেক শঙ্কা ছিল। ৫০ মিটারের মতো দূরে প্রথম যখন একজন ডুবুরি এবং তাঁর পেছনে বাচ্চাটি নজরে এলো, তখনো নিশ্চিত ছিলাম না যে বাচ্চাটি বেঁচে আছে কি না। যখন দেখলাম সে শ্বাস নিচ্ছে, বেঁচে আছে, দারুণ স্বস্তি পেয়েছিলাম।’

সূত্র: বিবিসি। ১০ জুলাই ২০১৮।

 

ছেলেদের পরিচয়

এক্কারাত ওংসুকচ্যান : বয়স ১৪। ডাকনাম বিউ। গত কয়েক বছরে বিউর বেশ উন্নতি হচ্ছিল ফুটবলে। জীবনযাত্রায় এসেছিল শৃঙ্খলা। প্রশিক্ষণ শেষে খেলার সরঞ্জামগুলো বেশির ভাগ দিন সে-ই গুছিয়ে তুলে রাখত। সে দলের গোলরক্ষক।

পিপাত বোধি : ১৫ বছর বয়স। ডাকনাম নিক। ওয়াইল্ড নামের ফুটবল দলটির সে সদস্য নয়। বিউর ঘনিষ্ঠ বন্ধু। ২৩ জুন (যেদিন দলটি গুহায় ঢুকেছিল) দলের প্র্যাকটিসে সে যোগ দিয়েছিল বিউর বন্ধু হিসেবেই।

প্রাজাক সুথাম : ১৪ বছর বয়স। নোট নামে ডাকত সবাই। মাঝমাঠে খেলে। আবার গোলরক্ষকও। দুই বছর হলো সে দলে যোগ দিয়েছে।

পর্নচাই কামলুয়াং :  বয়স ১৬। টি নামে ডাকে সবাই। রক্ষণভাগের খেলোয়াড়।

পানুমাস সানেংডি :  ১৩ বছর বয়স। ডাকনাম মিক। শরীর যেমন পেটানো, গতিও ভালো। তাকে একজন আদর্শ ডিফেন্ডার ধরা হচ্ছিল। কোচ তাঁকে স্ট্রাইকার হিসেবেও খেলানোর কথা ভাবছিলেন। কারণ সে ভালো হেডও দিতে পারত।

আদুল স্যাম-অন :  ছেলেটি ভালো ইংরেজি জানে। বিদেশি ডাইভারদের সঙ্গে সে-ই কথাবার্তা চালিয়েছে। স্থানীয় চার্চের সঙ্গে তার ভালো যোগাযোগ, তাকে ইংরেজিতে পারদর্শী করে তুলেছিল। সে আরো জানে থাই, মান্ডারিন ও বর্মি ভাষা। মাঝমাঠের খেলোয়াড়।

ডুয়াংপেচ প্রমথেপ : ১৩ বছর বয়স। ডম নামে ডাকত সবাই। আক্রমণভাগের খেলোয়াড়। দলনেতাও সে। দলের অন্য ছেলেরা বলে, নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্যতা তার আছে। তার  সেন্স অব হিউমার চমৎকার। প্রাদেশিক ফুটবল দল যেমন সুখথাই এফসি এবং চিয়াংরাই এফসি তাকে যাচাই করতে ডেকেছিল।

চানিন উইবুনরাংরুয়েং :  ১১ বছর বয়স। টাইটান নামে ডাকে সবাই। ওয়াইল্ড বোরের সর্ব কনিষ্ঠ সদস্য। তিন বছর আগে সে যখন স্কুল ফুটবল দলে যোগ দেয়, ওয়াইল্ড বোরের সদস্যও হয় সে বছরই। আক্রমণভাগের খেলোয়াড়।

নাটাউট টাকামসাই : ১৪ বছর বয়স। দলের তিন নম্বর স্ট্রাইকার। ট্ল্লে নামে ডাকে লোকে।

মংকল বুনপিয়াম : ১৪ বছর বয়স। মার্ক নামে পরিচিত। থাইল্যান্ডের ক্রীড়া দৈনিক সিয়ামস্পোর্ট লিখেছে, মার্ক কিন্ডারগার্টেনে পড়ার সময় থেকেই ফুটবল খেলছে। খেলাটাকে সে এত ভালোবাসে যে দিনের অনেকটা সময় ফুটবল জার্সি পরে থাকে। সে দলের শিক্ষানবিশ সদস্য। 

একাফল চানতাওয়াং :  দলের কোচ। বয়স ২৫। বৌদ্ধ ভিক্ষুদের সঙ্গে অনেক সময় কাটিয়েছেন। গুহায় আটক থাকার সময় দলের ছেলেদের তিনি ধ্যান করতে বলতেন, বেশি নড়াচড়া না করার পরামর্শ দিতেন।

উল্লেখ্য, ওয়াইল্ড বোর এফসিকে থাইরা ডাকে মু পা বলে। একটি আঞ্চলিক দল।  প্রাদেশিক টুর্নামেন্টে লড়ে। অনূর্ধ্ব ১৩, অনূর্ধ্ব ১৬ ও অনূর্ধ্ব ১৯ দলও আছে ওয়াইল্ড বোরের। 

     সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।

 

মাত্রই ছেলেদের খবর নিয়ে গুহা থেকে ফিরেছেন জন

মা তো ভাববেই

জিল ভলানথেন, ব্রিটিশ ডুবুরি জনের মা

আমার খুশি বাঁধ মানছিল না, যখন জানলাম আমার জন ছেলেদের (থাই কিশোর ফুটবলারদের) খুঁজে পেয়েছে। আপনি যখন মা তখন বুঝবেন ছেলের জন্য মায়ের কেমন লাগে তা ছেলের বয়স যতই হোক (উল্লেখ্য, জনের বয়স ৪৬)। ছেলেগুলোর কথাও ভাবি কতটা সাহসী ও শক্তিশালী! আমি চাই ওরা তাড়াতাড়ি বের হয়ে আসুক। আমি চাই জন তাড়াতাড়ি বাড়ি আসুক। ওকে আমি একটা বড় হাগ দিতে চাই। আমার সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে ফোনে, বলেওনি যে সে-ই ছেলেদের খুঁজে পেয়েছে। জানতেও দিতে চায়নি  কাউকে। জন চায় না তাঁকে নিয়ে আলোচনা হোক। সবাই ভাবছিল লাশ ফেরত আসবে। কিন্তু জন ওদের জীবিত থাকার খবর এনেছে। কী যে খুশির কথা। আমার জন আরো মায়েদের ছেলেদের বেঁচে থাকার খবর এনেছে।

         সূত্র: দ্য টেইলি টেলিগ্রাফ। ৭ জুলাই ২০১৮

 

প্রার্থনায় বসেছে থাইল্যান্ড

অন্ধকারের দিনগুলো

২৩ জুন শনিবার : উত্তর থাইল্যান্ডের চিয়াংরাই প্রদেশের ডই নাং নন পর্বতমালার থাম লুয়াং নাং নন গুহায় প্রবেশ করেছিল কিশোর ফুটবল দলটি। একটি অনুসন্ধান দল সাইকেল, জুতা ও ফুটবল বুট পরে থাকতে দেখে গুহার প্রবেশমুখে।

২৪ জুন রবিবার :  ভারি বৃষ্টিপাতের মধ্যেই পুলিশ জোর অনুসন্ধানে নামে। তাঁরা ছেলেদের হাতের ও পায়ের ছাপ খুঁজে পায়। বুঝতে পারে ছেলের দল গুহার গভীরে ঢুকে পড়তে বাধ্য হয়েছে, যেহেতু সম্মুখভাগে পানি জমে গেছে অনেক। গুহার মুখে প্রার্থনায় বসে যায় ছেলেদের স্বজনরা।

২৫ জুন সোমবার : থাই নেভি সিলের ডুবুরিরা অক্সিজেন মাস্ক ও খাবার নিয়ে গুহার ভেতরে ঢোকে। স্বজনদের জন্য অস্থায়ী প্রার্থনাগৃহ নির্মিত হয় গুহামুখের কাছে। ভারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকে।

২৬ জুন মঙ্গলবার : গুহার অভ্যন্তরের ছাদ আর পানির মধ্যে ফারাক খুব বেশি ছিল না। ডুবুরিরা খুব কষ্ট করে বেশ খানিকটা ভেতরে পৌঁছায়, কিন্তু পানির তোড়ে তাঁরা বেশিক্ষণ থাকতে পারেননি। থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে অনুরোধ জানান।

২৭ জুন বুধবার : ইউএস মিলিটারির ৩০ জন সদস্য ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছান। তিনজন অভিজ্ঞ ব্রিটিশ ডুবুরিও এসে যোগ দেন উদ্ধার দলে।

২৮ জুন বৃহস্পতিবার :  ব্রিটিশ ডুবুরিরা বিকল্প প্রবেশ পথ অনুসন্ধান করতে থাকেন। এ জন্য ড্রোন ব্যবহার করা হতে থাকে। গুহা থেকে পানি বের করার চেষ্টাও চলতে থাকে।

২৯ জুন শুক্রবার : থাই প্রধানমন্ত্রী ঘটনাস্থলে এসে উদ্ধারকর্মীদের হতাশ না হওয়ার অনুরোধ জানান।

৩০ জুন শনিবার : উদ্ধারকর্মীরা তাঁদের অনুশীলন (প্র্যাকটিস ড্রিল) অব্যাহত রাখেন।

১ জুলাই রবিবার : গুহার ৭০০ মিটার গভীরে উদ্ধারকর্মীরা একটি চেম্বার স্থাপন করেন। কপিকল ব্যবহার করে

কয়েক শ অক্সিজেন ট্যাংক ও প্রয়োজনীয় রসদ জড়ো করে চেম্বারে। অনুসন্ধান আওতায় চলে আসে পরবর্তী আরো ৮০০ মিটার। দূরবর্তী বিন্দুটির নাম রাখা হয় মংকস জাংশান।

২ জুলাই সোমবার :  এদিন গুহার আরো গভীর (নাম রাখা হয় পাতায়া বিচ) পর্যন্ত নজর করতে পারেন উদ্ধারকর্মীরা। বুঝতে পারেন ছেলেরা (কোচসহ) জীবিত আছে। ছেলেরা জানায়, তাঁরা ক্ষুধার্ত। আরো জানতে চেয়েছে, আজ কী বার? 

৪ জুলাই বুধবার : একটি মেডিক্যাল দল জানায়, ছেলেরা সুস্থ আছে।

৫ জুলাই বৃহস্পতিবার : কর্তৃপক্ষ জানায়, গুহার সম্মুখভাগের ৪০ শতাংশ পানি বের করে ফেলতে সক্ষম হয়েছে। প্রবেশমুখ থেকে বেশ ভেতর পর্যন্ত হেঁটে যাওয়ার সুযোগ মিলছে। ছেলেদের কাছে এর মধ্যে কম্বল, আলোও পৌঁছে গেছে। সেই সঙ্গে তাঁদের সঙ্গ দিচ্ছেন সাতজন ডুবুরি (চিকিৎসকও আছেন এর মধ্যে)।

৬ জুলাই শুক্রবার : সামান কুনান নামের থাই নেভি সিলের একজন সাবেক সদস্য গুহাপথে অক্সিজেন ক্যানেস্তারা (ক্যানিস্টার) বসাতে গিয়ে মারা যান। সম্ভবত তাঁর অক্সিজেনও ফুরিয়ে গিয়েছিল।

৭ জুলাই শনিবার :  পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি গুহা থেকে বের করে আনা হয়। তবে সামান মারা যাওয়ার পর উদ্ধারকর্মীরা গুহার ভেতরের বাতাসের গুণমান নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েন। ওদিকে আবার বৃষ্টিপাত শুরু হওয়ার পূর্বাভাষ পাওয়া যায়। উদ্ধারদল জানায়, তাদের হাতে বড়জোড় আর তিন বা চার দিন সময় (ছেলেদের উদ্ধার করে আনতে) আছে।

৮ জুলাই রবিবার : চারজন ছেলেকে বের করে আনা হয়। দুজন আসে ১০ মিনিট আগে-পরে। বাকি দুজন আসে দুই ঘণ্টা পরে। তাদের ততক্ষণাৎ চিয়াং রাইয়ের সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

৯ জুলাই সোমবার : আরো চারটি ছেলেকে বের করে আনা হয়। আগের দিনের চেয়েও কম সময়ে ছেলেদের বের করে আনেন উদ্ধারকর্মীরা।

১০ জুলাই মঙ্গলবার :  শেষ চার ছেলে ও কোচকে উদ্ধার করে বাইরে আনা হয়। 

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।

 

একটি হৃদয়ছোঁয়া কার্টুন

কার্টুনটি এেঁকছেন আরুনি অনহাওয়ারাকন ও জন্টিমা মানাসভিইয়ংকুল। এটি প্রথমে তাদের ফেসবুক পেজ সিসআইডিয়াতে প্রকাশিত হয়। পরে থাই নেভি সিলের ফেসবুক পাতায় কার্টুনটি পোস্ট করা হয়। কার্টুনটির নাম বাড়ি ফিরছে ছেলেরা। কার্টুনটিতে অনেক প্রাণীকে দেখা যাচ্ছে একটি জলমগ্ন গুহার ভেতর। প্রাণীগুলোর ব্যবহার উদ্ধারকর্মীদের প্রতীকে। এর মধ্যে যেমন ১৯টি ক্যাঙারু দেখা যাচ্ছে ১৯ জন অস্ট্রেলীয়র প্রতীকে। কার্টুনটির কেন্দ্রভাগে আছে ওয়াইল্ড বোরের ১৩ জন। নীল টুপির হাতিটি দিয়ে চিয়াং রাইয়ের গভর্নর ন্যারোংসাক ওসোত্তানাকর্নকে বোঝানো হচ্ছে। তিনিই উদ্ধার দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। সাদা হাতি অবশ্য চিয়াং রাইয়েরও প্রতীক। সিলগুলো দিয়ে অবশ্যই নেভি সিলকে বোঝানো হচ্ছে। ব্যাঙ দিয়ে বোঝানো হচ্ছে ডুবুরিদের। আয়রনম্যান মাস্ক দিয়ে এখানে টেসলার সিইও এলন মাস্ককে বোঝানো হয়েছে। সিংহ দিয়ে যুক্তরাজ্যের উদ্ধারকর্মীদের বোঝানো হচ্ছে। পান্ডা দিয়ে চীনাদের, সারস দিয়ে জাপানিদের, চমরি গাই দিয়ে সুইডিশ দলকে, ঈগল দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের, বাঘ দিয়ে মিয়ানমারের, বাদামি হাতি দিয়ে লাওসের এবং কুকুর প্রতীককে নাইন ডগ টিমকে বোঝানো হয়েছে। এ ছাড়া সোয়ালো দিয়ে থাইল্যান্ডের পাহাড় চড়িয়েদের বোঝানো হয়েছে। ড্রাগন দিয়ে ওয়াটার পাম্পিং টিমকে বোঝানো হয়েছে। থাই নেভি সিলের ফেসবুক পাতা থেকে কার্টুনটি এ পর্যন্ত (১১ জুলাই, দুপুর দেড়টা) ৬৯ হাজারবার শেয়ার হয়েছে। দুই লাখ ৮৫ হাজার মানুষ এতে লাইক দিয়েছে। কমেন্ট পড়েছে ছয় হাজারের মতো।

     গ্রন্থণা: পিন্টু রঞ্জন অর্ক ও আহনাফ সালেহীন 



মন্তব্য