kalerkantho


ফেসবুক থেকে পাওয়া

১৪ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



ফেসবুক থেকে পাওয়া

শেষ খেলা

পারভেজ ভাইয়ের অনেক বড় একটা অর্জন আছে, যে অর্জন হয়তো ইংরেজি বিভাগের অনেক শিক্ষকের কাছেও স্বপ্নের ব্যাপার। হ্যাঁ, ‘IELTS’-এ তাঁর স্কোর ৯-এ ৯। আমার মতো হয়তো অনেক পাবলিক আছে, যারা ইংরেজিতে এমএ করা সত্ত্বেও তাঁর সঙ্গে ইংরেজি বলতে ভয় পায়। কারণ তাঁর কথা একেবারে নেটিভ স্পিকারদের মতো। 

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি ইংলিশে এমএ করেছেন, কিন্তু দেখলে মনে হয় তিনি কোনো মসজিদের ইমাম। অন্যদের চেয়ে আলাদা।  

সেদিন তিনি ও মিসেস পারভেজ (আমাদের ভাবি, তিনিও ইংরেজিতে এমএ) বাসে কোথাও যাচ্ছিলেন। তাঁদের পাশের সিটের এক দম্পত্তি ভুল ইংরেজিতে বাতচিত করছিলেন। কিন্তু তাঁদের ভাবে বাসের সবাই মোটামুটি বিরক্ত। সেই দম্পত্তি হয়তো ধারণাও করতে পারেননি তাঁদের পাশে ইংলিশের একজন বস বসে আছেন।

বাস যখন গন্তব্যে পৌঁছল, তখন পারভেজ ভাই তাঁর নেটিভ স্পিকারদের মতো টোনে সেই দম্পত্তিদের জানিয়ে দিলেন যে তাঁরা প্রচুর ভুল বলছেন। বাসের সবাই ‘ইমামের’ এমন পারফরম্যান্সে খুশি। বিশেষ করে বাসের বৃদ্ধ কন্ডাক্টর। খুশিতে তিনি বলে উঠলেন, ‘শাবাশ, খেলা তো শেষে হুজুরই দেহাইলে।’

সায়েক সজীব

ইংরেজি বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

 

ব্যস্ত শহরে সবুজের স্নিগ্ধতা

পাঁচ তলার ছাদে ছোট্ট একটা পুকুর, তাতে হাঁটু সমান পানি। পানিতে নীল পদ্ম ভাসছে। জ্যোত্স্না রাতে যখন চাঁদের আলো পড়ে, তখন পুকুরের সৌন্দর্য আরো বেড়ে যায়। চারপাশে রকমারি ফুল ও ফলের গাছ। আর বিকেলে পুকুরপাড়ে বসলে বাতাসের স্নিগ্ধতা মনটা ভালো করে দেয়। পুকুরে ওই রঙিন অ্যাকোয়ারিয়াম ফিশগুলোর সাঁতরে বেড়ানো। আর ময়ূরপঙ্খি কবুতরের পেখম তুলে এদিক-ওদিক ঘুরে বেড়ানো দেখতে কার না ভালো লাগবে। কথাগুলো শুনে হয়তো কোনো কাল্পনিক গল্পের কথা মনে হচ্ছে! এই ব্যস্ত শহরে এমন পরিবেশে বেড়ে ওঠার কথা অনেকেই হয়তো কল্পনাও করতে পারে না। সত্যি, বাস্তবে এগুলো উপভোগ করতে পেরে নিজেকে অনেক ভাগ্যবতী মনে হয়। আর এমন একটা পরিবেশ সৃষ্টি করে দেওয়ার পেছনে অবদান আমার আব্বুর। আব্বুর প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা আর শৌখিনতা আমাদের এক অন্য রকম পৃথিবীতে পৌঁছে দেয়, এত ব্যস্ততম জীবনেও। আর সঙ্গে আম্মুর সহযোগিতা সত্যিই অকল্পনীয় এবং আশীর্বাদস্বরূপ। আব্বুর মতো শৌখিন মানুষ খুব কম দেখেছি। যদিও বা এখন অনেকেই আব্বুর দেখাদেখি ছাদে বাগান করা শুরু করেছেন। রাস্তায় দাঁড়ালে সেখান থেকে দেখা যায় আমাদের সবুজে ঘেরা বাড়িটা। এখন তো আমাদের বাড়িটা ‘চৌধুরী হাউসের’ তুলনায় ‘বাগানবাড়ি’ হিসেবে বেশি পরিচিত।

সানজিদা চৌধুরী আলভী,

পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, চট্টগ্রাম।

 

ঈদ আর নেই সেই ঈদ

এই তো আজ থেকে বছর দশেক আগেও ঈদগুলো ছিল একদম অন্য রকম। ডিশ লাইন তখনো গ্রামে আসেনি, মোবাইল বলতে অতি সাধারণ ফিচার ফোন। ২৯ রোজার মাগরিবের নামাজের পর সবাই মিলে রাস্তার উঁচু জায়গায় উঠে চাঁদ খোঁজার চেষ্টা করতাম। যদি কেউ একজন দেখত আমরাও সমস্বরে চিৎকার দিয়ে উঠতাম ‘দেখেছি দেখেছি’ বলে। তারপর সবাই চলে যাওয়ার পর বাড়ি এসে আবার আকাশে খুঁজতাম। পেতাম না তখন। কখনো যদি একবার চাঁদ আগে দেখে ফেলতাম তাহলে হাতে আকাশের চাঁদ পাওয়ার মতো আনন্দ হতো। আর ঈদের পোশাক তো কেনার পর ভাঁজগুলোই খুলতাম না। আলমারিতে তুলে রাখতাম। কেউ দেখলেই পুরনো হয়ে যাবে এই ভয়ে। আর ঈদের অনুষ্ঠান বলতে বিটিভির একটানা সাত দিন ছবি আর রাতে মজার নাটক। যদিও ঈদের দু-তিন দিন সারা দিন বিদ্যুৎ থাকলেও তারপর খুব একটা থাকত না। ঈদের পর ল্যাব থেকে একজন আসত বাড়িতে, সবাই সুন্দর করে সেজেগুজে গ্রুপ ছবি তুলতাম। আর অপেক্ষা করতাম কবে এই ছবি ওয়াশ হবে!

সেই দিনগুলো অনেক দ্রুতই পালটে গেল, এখন ঈদের খবর পেতে চাঁদ দেখার চেয়ে টিভি, ফেসবুক মানুষ বেশি দেখে। হাজারো টিভি চ্যানেলের ভিড়ে সেই বাংলা মুভির মজা আর আসে না, আর ছবি তোলার জন্যও আর কেউ আসে না বাড়িতে।

মোবাইল দখল করে নিয়েছে আমাদের সব কিছু, আমাদের আবেগ, আমাদের নির্ভেজাল সেই আনন্দগুলোও। আর হয়তো কোনো দিন ফিরে পাব না সেই চাঁদ দেখার অপেক্ষা কিংবা নতুন পোশাক লুকিয়ে রাখার মজা। তবু প্রতিবছর ঈদ আসে, ঈদ আবার চলেও যায়। শুধু মনে রাখার মতো সেসব স্মৃতি আর রেখে যায় না।

আল সানি

সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।

 

১২ টাকার বার্থডে পার্টি

আমি, রুবি, মাহমুদ—আমরা তিনজন ছোটবেলায় খুব কাছের ছিলাম। রুবি আর মাহমুদ—আমার কাজিন। আমি আর রুবি সমবয়সী, মাহমুদ আমাদের ছোট। এ কারণে ও ছিল আমাদের ভীষণ আদরের। আমরা একসঙ্গে ঘুরতাম আর মজা করতাম। একবার আমি আর রুবি মিলে প্ল্যান করলাম—মাহমুদের জন্মদিন পলন করব। যদিও ওর জন্ম তারিখটা আমরা জানতাম না। তবু ইচ্ছা হলো—টিভিতে যেভাবে দেখি ঠিক সেভাবে আমরাও কেক কাটব। খাবার দিয়ে টেবিল সাজাব আর ওকে গিফট দেব। সেই সঙ্গে হ্যাপি বার্থডে টু ইউ গাইব। যেই কথা সেই কাজ। আমরা জমানো পয়সাগুলো একত্র করে দেখি মাত্র ১২ টাকা! তখন অবশ্য ১২ টাকায় আমাদের কাছে অনেক টাকা। কিন্তু মাত্র ১২ টাকাই কি-ই বা কেনা যাবে! বাদাম, চকোলেট, পাঁপড়, বুনবুনি, মোমবাতি ও তিলের খাজা কিনলাম। আর দুই টাকা দিয়ে একটা স্কয়ার সাইজের বড় বিস্কুট কিনলাম কেক হিসেবে ব্যবহার করার জন্য। ১২ টাকাতেই দারুণ আয়োজন। বাকি ছিল জন্মদিনের গিফটটা। সেটাও তৈরি করলাম আমাদের মতো করে। কচুরিপানার ফুল আর নলার ফুল দিয়ে তোড়া বানালাম। তারপর বাগানে খেজুর পাতার পাটি বিছিয়ে সব সাজিয়ে-গুছিয়ে মাহমুদকে ঘুম থেকে টেনে তুলে সেখানে নিয়ে এলাম। আয়োজন দেখে ও খুব খুশি হয়েছিল। আর আমাদের কাণ্ডকারখানা দেখে ওর মা-বাবা হেসেই কুটি কুটি। ক্যামেরা থাকলে দিনটাকে ফ্রেমবন্দি করে রাখা যেত। তখন আমাদের বয়স সাত কি আট, আর মাহমুদের পাঁচ বছর।

জীবন বদলে গেছে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে। এখন আমি আর রুবি নিজ নিজ সংসার আর দায়িত্বের বেড়াজালে বন্দি। মাহমুদ এখন ব্যাংকার। সবাই যার যার মতো ব্যস্ত। কবে কার জন্মদিন তা মনে রাখার সময় যেন নেই। তবে এখন মাহমুদের বার্থডে পার্টিতে তোলা সেলফি দেখা যায় ফেসবুকে। আজ হয়তো ওর মনে নেই সেদিনের সেই বার্থডে পার্টির কথা। জীবনের এমন অনেক ঘটনা প্রতিনিয়তই মুছে যায়।

আইরিন আক্তার ইতি

আমলা সদরপুর, মিরপুর, কুষ্টিয়া।



মন্তব্য