kalerkantho


বিশাল বাংলা

চাষি রীনা বেগম

৩০ জুন, ২০১৮ ০০:০০



চাষি রীনা বেগম

সবজির পরিচর্যা করছেন রীনা বেগম

শুধু নিজের নয়, পুরো গ্রামের চিত্রই বদলে দিয়েছেন রীনা বেগম। টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার মামুদপুর মধ্যপাড়া গ্রামের তিনি গৃহবধূ। পেয়েছেন দেশের আদর্শ কৃষকের স্বীকৃতি। জাতিসংঘের কৃষি ও খাদ্য সংস্থার পুরস্কারও পেয়েছেন। অরণ্য ইমতিয়াজ দেখা করে এসেছেন

রীনার দাদাও কৃষক ছিলেন, বাবাও। লেখাপড়ার পাশাপাশি বাবাকে সহযোগিতা করতেন। ক্লাস সেভেনে ওঠার পরই বিয়ে হয়ে যায়। শ্বশুরবাড়িরও সবাই কৃষিকাজই করতেন। শাশুড়ির কাছে বাড়ির আঙিনায় সবজি চাষ করার পদ্ধতি শিখলেন। ১৯৯১ সালে রীনার সংসার আলাদা হয়। শাশুড়ির পরামর্শে ৭০ শতাংশ জায়গা বর্গা নেন রীনা ও তাঁর স্বামী মাইনউদ্দিন। জৈব সার ব্যবহার করে সবজিসহ ধান ও পাটের আবাদ শুরু করেন। ১৯৯৫ সালে শ্বশুর মারা যান। ১৯৯৭ সালে মাইনদ্দিন উত্তরাধিকারসূত্রে ১১০ শতাংশ জমি পান। রীনা নতুন উদ্যমে সেখানে আবাদ শুরু করেন। নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে মনোযোগী হন। ২০০৭ সাল থেকে রীনা রাসায়নিক সার ব্যবহার করা পুরোপুরি বাদ দেন। নিজেই তৈরি করতে থাকেন জৈব সার। অন্যরা ঠাট্টা-বিদ্রূপ করলেও রীনা দমে যাননি। বললেন, শাশুড়ি বলতেন, রাসায়নিক সার দিয়ে উৎপাদিত ফসল খেলে রোগব্যাধি হয়। তাঁর (শাশুড়ির) কাছ থেকেই জৈব সার তৈরি করা শিখেছি। পরে কয়েকটি বেসরকারি সংস্থাও উৎসাহ দিয়েছে। আসলে বিষমুক্ত ফসল কম ফললেও শরীর ভালো থাকে। এই মৌসুমে বেগুন, চালকুমড়া, ধুন্দল, চিচিঙ্গা, মরিচ, হলুদ, কাঁকরোল, কচু, লেবুর চাষ করেছি। অন্য মৌসুমে অন্য ফসল আবাদ করি।’

রীনা বেগমের বীজ সংগ্রহশালা

বীজও সংরক্ষণ করেন

রীনা বেগম ফসলের বীজও সংরক্ষণ করেন। শুরুটা ২০০২ সালে। নিজের ঘরেই আট প্রকারের বীজ সংরক্ষণ করে সংগ্রহশালা চালু করেছিলেন। এখন তাঁর সংগ্রহে প্রায় ১০০ জাতের বীজ আছে। যেখানেই যান ভালো জাতের বীজের খোঁজ করেন। নিজে তো ব্যবহার করেনই, অন্যদেরও বীজ দিয়ে সাহায্য করেন। রীনা বলেন, ‘ভালো বীজ হলে ভালো ফসল হয়। বীজই কৃষকের শক্তি।’

 

দক্ষ সংগঠক

মামুদপুর মধ্যপাড়া মহিলা সমবায় সমিতির সভাপতি রীনা বেগম। ২০০৯ সালে এর প্রতিষ্ঠা। ২০ জন নারী সমিতির সদস্য। প্রতি মাসে একবার রীনার বাড়ির উঠানে সমিতির সভা হয়। সভায় বিষমুক্ত ফসল আবাদের সমস্যা ও সমাধান নিয়ে আলোচনা হয়। রীনার পরামর্শে সমিতির সদস্যরা নিজ বাড়ির আঙিনায় বিষমুক্ত ফসল আবাদ করে সফল হয়েছে।

 

জাতিসংঘের কৃষি ও খাদ্য সংস্থা থেকে পাওয়া পুরস্কার

স্বীকৃতি

২০১৫ সালে সরকার রীনা বেগমকে আদর্শ কৃষক ঘোষণা করে। একই বছর জাতিসংঘের কৃষি ও খাদ্য সংস্থা পুরস্কৃত করে। থাইল্যান্ডে তাঁর হাতে এ পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। রীনা বেগম বলেন, ‘বিদেশ থেকে ঘুরে এসে অনেক ভালো লেগেছে। অনেক কিছু শিখছি। সবাই আমাকে অনেক সম্মান করেছে। এখন আমার দায়িত্ব আরো বাড়ছে।’

 

 

রীনা চান

রীনা বেগম স্বামীর অনেক সহযোগিতা পেয়েছেন। তিনি চান দেশের অন্য নারীদের স্বামীরাও স্ত্রীদের সাহায্যে এগিয়ে আসুক। বলেন, ‘আমরা একদিন থাকব না। যারা থাকবে, তারা যেন বিষমুক্ত ফসল আবাদ করে রোগমুক্ত জীবনযাপন করতে পারে। নিরাপদ খাদ্যের জন্য বীজও সংগ্রহে রাখা দরকার।’

 

এবার তাই   

এ বছর গ্রামের কৃষকদের মধ্যেও বিষমুক্ত আন্দোলন ছড়িয়ে দেওয়ার কাজ শুরু করেছেন রীনা। জনে জনে যেমন বোঝাচ্ছেন, সভা করেও সচেতন করছেন। বিশেষ করে বলছেন জৈব সার ব্যবহারের কথা।

ছবি : লেখক

 

 



মন্তব্য