kalerkantho


বৈঠকখানা

FIFA WORLD FOOTBALL MUSEUM

২৩ জুন, ২০১৮ ০০:০০



FIFA WORLD FOOTBALL MUSEUM

সুইজারল্যান্ডের জুরিখে ফিফার সদর দপ্তর। বিশ্ব ফুটবল জাদুঘরও জুরিখে। জুবায়ের আহম্মেদ খোঁজ নিয়েছেন। বলছেন কয়েকটি দ্রষ্টব্যের কথা

 

সব মিলিয়ে হাজারখানেক দেখার জিনিস আছে ফিফা জাদুঘরে। এগুলোর মধ্যে নথিপত্র, আলোকচিত্র, স্মারকলিপিও আছে। বইও আছে অনেক। শুধু স্মারক জার্সিই আছে ২০৯টি। মঙ্গল থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা খোলা থাকে। আর শুক্র থেকে রবিবার খোলা থাকে সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। জাদুঘরটি তৈরি করতে সময় লেগেছে তিন বছর।

 

রুডল্ফ ক্রিটলেইনের নোটপ্যাড

লাল কার্ড, হলুদ কার্ড

১৯৬৬ সালে ওয়েম্বলিতে ইংল্যান্ড-আর্জেন্টিনার কোয়ার্টার ফাইনাল ছিল। খেলাটি হয়েছিল উত্তেজনাপূর্ণ। রেফারি রুডল্ফ ক্রিটলেইন ৩৫ মিনিটে আর্জেন্টিনা দলের অধিনায়ক অ্যান্টোনিও রাতিনকে মাঠ থেকে বহিষ্কার করেন। অ্যান্টোনিও নিজেকে নির্দোষ দাবি করে মাঠ ছাড়তে অস্বীকার করেন এবং একজন দোভাষীর সাহায্য চান। এসব কথা জানা যায় রুডল্ফের লেখা থেকে। লেখা পত্রটি সংরক্ষিত আছে জাদুঘরে। আন্টোনিওকে শেষে মাঠ ছাড়তেই হয়েছিল। ওই ঘটনাই পরে হলুদ ও লাল কার্ডের প্রচলন ঘটিয়েছে। ইংলিশ রেফারি কেইন অ্যাস্টনের এতে ভূমিকা রয়েছে। ট্রাফিক সিগন্যালের হলুদ আর লাল বাতি তাঁকে হলুদ আর লাল কার্ডের কথা ভাবিয়েছে। প্রথমবার ব্যবহৃত হয়েছে ১৯৭০ সালের বিশ্বকাপে।

 

সাক্ষী সেই বল

বলটি একটি রেকর্ড ভাঙা ম্যাচের। এটি ছিল ২০১৫ সালে ফিফা নারী বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচ। সেই খেলায় মার্কিন খেলোয়াড় কার্লি লয়েড হ্যাটট্রিক করেছিলেন। দ্রুততম হ্যাটট্রিক। প্রথম ও দ্বিতীয় গোলটি করেছিলেন তৃতীয় ও পঞ্চম মিনিটে, আর ১৬ মিনিটে করেছিলেন তৃতীয় গোলটি। যুক্তরাষ্ট্র সে খেলায় জাপানকে সহজেই হারিয়েছিল। কার্লির হ্যাটট্রিক বলটি আছে জাদুঘরে।

 

পুরনো ছবি

জাদুঘরটি ফিফার টুর্নামেন্ট ও ফুটবল-বিষয়ক ইভেন্টগুলোয় তোলা ছবি সংরক্ষণ করে। বছর বছর ফুটবলে যেসব পরিবর্তন এসেছে, ধারাবাহিকভাবে তা বোঝার সুযোগ করে দেয় এই ছবিগুলো। খেলার নিয়মের পরিবর্তন থেকে পোশাক পরিবর্তন পর্যন্ত অনেক কিছুই দেখার সুযোগ হয়।

 

বেনিনের ওঝা

ফুটবল সারা পৃথিবীর মানুষই খেলে। প্রচুর তুকতাকও হয়। ওঝারা মন্ত্র পড়ে খেলাকে নিয়ন্ত্রণ করতে চায়। বেনিনের একজন ওঝার প্রতিরূপ রাখা হয়েছে ফিফা জাদুঘরে। অনেক তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে মূর্তিটিতে। এই প্রতীকী অর্থে যে ওঝাটি যেন আর কোনো খেলাকে নিয়ন্ত্রণ না করতে পারে।

 

পেলে ট্র্যাকস্যুট

এডসন আরান্তেস দো নাসিমেন্তোকে আমরা পেলে নামে চিনি। তিনি ফুটবলের প্রথম বিশ্ব তারকা। ১৯৫৮ সালে তাঁর বয়স ১৭ ছিল মাত্র। ব্রাজিলকে বিশ্বকাপ ট্রফি এনে দেন। সেবার তিনি যে ট্র্যাকস্যুটটি পরেছিলেন সেটি জাদুঘরে রক্ষিত আছে।

 

রবেন দ্বীপের বেলচা

আট বছর আগে ফিফা দক্ষিণ আফ্রিকায় বিশ্বকাপ আয়োজন করেছিল। সেখানাকার রবেন দ্বীপটি বিখ্যাত এর বন্দিশালার কারণে। নেলসন মান্ডেলাও বন্দি ছিলেন এখানে। বলতে গেলে ফুটবলই ছিল রবেন দ্বীপের বন্দিদের একমাত্র বিনোদন। মাকানা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন গড়ে উঠেছিল দ্বীপটিতে। বন্দিদের আশা বাঁচিয়ে রেখেছিল ফুটবল। সাহায্য করেছিল মনোবল ধরে রাখতে। বন্দিদের বাধ্য করা হতো চুনাপাথরের খনিতে কাজ করতে। প্রত্যেককে একটি করে বেলচা দেওয়া হতো। তেমন একটি বেলচা আছে এই জাদুঘরে। আর আছে টোকিও সেক্সওয়ালে নামের এক বন্দির ব্যক্তিগত কিছু ঘটনার বয়ান।

 

১৯১৩ সালের সভাবিবরণী

খেলার

নিয়মাবলিসংক্রান্ত নথিপত্র

ফুটবলের সঙ্গে যুক্ত অনেক ঐতিহাসিক নথিপত্র আছে জাদুঘরে। ১৯১৩ সালের একটি সভাবিবরণী আছে। ওই বছরই ইন্টারন্যাশনাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ড ফিফার সঙ্গে যুক্ত হয়। ফিফা ফুটবল খেলার নিয়ম-কানুন তৈরি ও সংরক্ষণ করে। সম্প্রতি যেমন উদ্ভাবন করেছে গোল লাইন প্রযুক্তি। ফ্রান্সের করিম বেনজেমাই যে হন্ডুরাসের বিপক্ষে ২০১৪ সালের বিশ্বকাপে প্রথম গোলটি করেছিল, ওই প্রযুক্তি দিয়ে তা প্রমাণ করা গেছে।

 

 

 

 



মন্তব্য