kalerkantho

বিকেলবাড়ি

GAME ON

২৩ জুন, ২০১৮ ০০:০০



GAME ON

এখন খেলার মৌসুম। বিনয় দত্ত আড্ডা দিতে গিয়েছিলেন স্পোর্টস ক্যাফে গেম অনে। এখানে খেলার মুডে খাওয়াদাওয়া চলে

 

ধানমণ্ডিতে (৯-এ) এই ক্যাফে গেম অন। কেবি স্কয়ারের ১৩ তলায়। খেলাপাগল সাত বন্ধু নিজেদের বসার জায়গা খুঁজতে খুঁজতে রেস্টুরেন্টটি দিয়ে বসে। তাঁরা চাইছিল খেলা দেখার পাশাপাশি খাওয়াদাওয়া চালাতে। তাঁদের কেউ বুয়েটের, কেউ বা চারুকলার। রেস্টুরেন্টের নামফলকের নকশায়ও চমক আছে—গ্যালারিসমেত মাঠের মাঝখানে লেখা গেম অন। ক্যাফেটির সব দেয়াল স্পোর্টস স্টারদের ছবিতে ভরা। কোথাও আছেন ক্রিকেট তারকা, কোথাও বা ফুটবল তারকা। বাস্কেট বল তারকা মাইকেল জর্ডানও বাদ যাননি। তবে মেসি, সাকিব, মাশরাফি, পেলে, রোনাল্ডো, ম্যারাডোনারাই জায়গা দখল করেছেন বেশি। গেম অন কিন্তু সাঁতার, দৌড়, বক্সিং, টেনিসের তারকাদেরও ভোলেনি। স্পোর্টস গ্রাফিতি এত বেশি, একসঙ্গে দেখার সুযোগ ঢাকায় বুঝি আর নেই! রেস্টুরেন্টিয়ারদের (মালিক) একজন দিলশাদ জাহান। বলেন, ‘খেলার আমেজেই আমরা গেম অন গড়ে তুলেছি।’

 

আরো গেম অন

এক হাজার ৪০০ স্কয়ার ফুট জায়গা নিয়ে গেম অন। তিনটি অংশ আছে এর। প্রথম অংশে অনেক লোক একসঙ্গে দুই দেয়ালের দুটি পর্দায় খেলা দেখতে ও খেতে পারবে। সাধারণত ফুটবল ও ক্রিকেট খেলার সময় লোক এখানে বেশি ভিড় করে। আরেক রেস্টুরেন্টিয়ার সাঈদ বিন ফয়সাল বললেন, ‘ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ, চ্যাম্পিয়ানস লিগ বা স্প্যানিশ লিগের খেলা দেখারও সুবন্দোবস্ত আছে আমাদের এখানে। আর এখন তো বিশ্বকাপের দিন। আর যেদিন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের খেলা থাকে, সেদিন আমরা ফেসবুকে খেলা দেখার আমন্ত্রণ জানাই বন্ধুবান্ধব ও আর সবাইকে।’

রেস্টুরেন্টের আরেকটি অংশে খেলা দেখার পাশাপাশি গেম খেলারও সুযোগ আছে। ফিফা এইটিন গেমটি এখানে এত বড় একটি মনিটরে খেলা যায় যে গেমাররা ভারি আনন্দ পাবেন। আর একেবারে শেষ অংশটি হলো আউটডোর জোন। এই জোনে প্রাকৃতিক পরিবেশে খাওয়া ও গল্প করার সুযোগ আছে। ব্যাট-বলে টুকটাপ ঠোকাঠুকিরও সুযোগ পাওয়া যায়। সংহিতা মজুমদার গেম অনের আরেক কর্ণধার। বললেন, ‘এই জোনে রাতের খাবার খেতে খুব ভালো লাগে। ভালো লাগে আড্ডা দিতেও। আর আমাদের রেস্টুরেন্টটা এত উঁচুতে যে পুরো ধানমণ্ডি এক নজরে দেখে নিতে পারবেন। এটা বেশ মজার।’

 

এবং গেম অন

গেম অনের ভেতরে বিভিন্ন ফুটবল ক্লাবের পতাকা টাঙানো আছে। আছে রিয়াল মাদ্রিদ, বার্সেলোনা, ম্যানচেস্টার সিটি, লিভারপুল, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, চেলসি, আর্সেনাল, এসি মিলান বা বায়ার্ন মিউনিখের লোগো বা প্রতীক। ক্যাফেটির এদিক-ওদিকে টেনিস বল, কাঠের বল, ফুটবল, ক্রিকেট ব্যাট বা বাস্কেটবল ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। ক্রিকেট ব্যাটগুলোতে ক্রিকেটারদের দেওয়া অটোগ্রাফ দেখতে পাবেন। রেস্টুরেন্টে টিস্যু হোল্ডারেও খেলার আমেজ রাখা হয়েছে। দেশি ও বিদেশি ফুটবলারদের জার্সির নকশায় তৈরি হয়েছে টিস্যু হোল্ডারগুলো।

 

খাওয়া অন

আট রকম পিত্জা আর তিন রকম পাস্তা গেম অনের বিশেষ আকর্ষণ। বার্গারের আকর্ষণও ছাড়তে পারেন না অনেকে। এখানকার মাইকেল জর্ডানস চিকেন চিজ মেন্যু বার্গারের দাম ১৮৫ টাকা। আলিস বিফ চিজ বার্গার পাওয়া যায় ২৩০ টাকায়। লিওস বিফ সাবমেরিন স্যান্ডউইচের দাম ২৭০ টাকা। পাস্তা বার্সেলোনা পাবেন ৩২০ টাকায়। মোনাকোস বারবিকিউ পিত্জার দাম ৪২০ টাকা। ইয়ুভেন্টাস স্পেশাল পিত্জা পাবেন ৬৮০ টাকায়। আছে সেট মেন্যু। তিন ধরনের পাস্তা, বার্গার ছাড়াও রয়েছে সেট মেন্যু। কাস্টমারদের পছন্দের কথা মাথায় রেখে এই আট ধরনের পিত্জা এবং তিন ধরনের পাস্তার আয়োজন করা হয়েছে। প্রতিটি পিত্জা এবং পাস্তা স্বাদে অনন্য। আরেক রেস্টুরেন্টিয়ার উম্মে দীপিকা ইসলাম বলেন, ‘ভালো খাবার পরিবেশনের ইচ্ছা আমাদের ১০০ শতাংশ। কোনোভাবেই আমরা কম্প্রোমাইজ করতে চাই না।’

ছবি : লেখক ও সংগ্রহ

 

গেম অনের সাত বন্ধু—১. সাঈদ বিন ফয়সাল ২. দিলশাদ জাহান ৩. নাদিয়া আকরাম মিষ্টি ৪. জান্নাতুল তনু ৫. উম্মে দীপিকা ইসলাম ৬. আফরোজা ওহাব রুমি ৭. সংহিতা মজুমদার

খেলা শেষ না হওয়া পর্যন্ত খোলা থাকছে

জান্নাতুল তনু

গেম অনের সাতজনের একজন

গেম অন কিভাবে?

আমাদের সাতজনের সবারই খেলার প্রতি অনুরাগ আছে। খেলা দেখা নিয়ে স্মৃতিও অনেক—টিকিটের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা, টিকিটের জন্য ঝগড়া, টিকিট না পেয়ে স্টেডিয়ামের গেটে বসে থাকা, খেলা দেখার সময় কে কত জোরে চিৎকার করতে পারে, তার প্রতিযোগিতা ইত্যাদি। এসব স্মৃতি মিলেমিশে এই গেম অন। আগে তো ক্লাব ফুটবল (বার্সেলোনা, রিয়েল মাদ্রিদ, লিভারপুল ইত্যাদি) বেশি আগ্রহ ছিল না, এখন বার্সেলোনার খেলা থাকলে মানুষ রাতও জাগে। আর খেলা সবাই দেখতে চায় দল বেঁধে। কিন্তু এক বন্ধুর বাসায় কয় দিন? এদিকে আমাদের রেস্টুরেন্ট প্রতিদিন খোলা থাকে। প্রতিদিন সবাই দল বেঁধে খেলা দেখতে পারেন।

 

বিশ্বকাপ নিয়ে আপনাদের আয়োজন কী?

সাধারণত গেম অন সকাল ১১টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত খোলা থাকে। বিশ্বকাপ উপলক্ষে খোলা থাকছে রাত ২টা পর্যন্ত। মানে, খেলা শেষ না হওয়া পর্যন্ত। প্রতিদিন কুইজ অফার থাকছে। প্রশ্নের উত্তর দিয়ে ৫০ শতাংশ কম দামে খাবার খাওয়ার সুযোগ থাকছে। বড় দলগুলোর খেলায় জার্সি উপহার দেওয়া হচ্ছে। প্লে-স্টেশন ও ফুটবল বোর্ড গেম বিজয়ীরা ১০ শতাংশ ছাড় পাচ্ছেন।

 

মেন্যুতে নতুন কিছু যোগ হচ্ছে?

খেলোয়াড়দের নামে নতুন ঠাণ্ডা পানীয় আনা হচ্ছে।

 

গেম অনের ভবিষ্যৎ?

আরো বড় হবে গেম অন। জাপানি ফুড পরিবেশনের কথা ভাবছি। সুবিধাবঞ্চিত মেধাবী খেলোয়াড়দের খুঁজে বের করে আর্থিক সহায়তা দেবে গেম অন।

 

 

 



মন্তব্য