kalerkantho


স্বপ্ন দেখে বাংলাদেশ

জিনিয়ার যাত্রা শুরু

২৬ মে, ২০১৮ ০০:০০



জিনিয়ার যাত্রা শুরু

জিনিয়ার পোশাকে মডেল

ছবি আঁকতে জানেন। সেই সঙ্গে আছে প্রবল আগ্রহ। তাতে ভর করেই জিনিয়া এশিয়ান ডিজাইনার উইকে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়ে গেছেন। তাঁর সফরনামা লিখেছেন নাঈম সিনহা

 

জিনিয়ার জন্ম কক্সবাজারে। চট্টগ্রামে পড়েছেন পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত। এসএসসি দিয়েছেন ঢাকার এভিয়েশন স্কুল থেকে। এইচএসসি পাস করেছেন ২০০৩ সালে হলিক্রস কলেজ থেকে। তারপর ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগে। স্নাতকোত্তর হন ২০১১ সালে। 

 

ফারহানা আক্তার জিনিয়া

কর্মজীবন ও ফ্যাশন উইক

বাংলালিংকে কিছুদিন কাজ করেছেন। অফিসার ছিলেন। তারপর ২০১১ সালে যোগ দেন আইসিডিডিআরবিতে। সিনিয়র রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট। বিয়ে হয় মাস্টার্স করার পরপরই।  সন্তানসম্ভবা হওয়ায় ২০১৪ সালে চাকরিতে ইস্তফা দেন। প্রায় বছর দেড়েক বিরতির পর আবার যোগ দেন একটি গার্মেন্ট কম্পানিতে। অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার পদে। তবে ২০১৭ সালে চাকরি ছেড়ে দিয়ে ভর্তি হন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ফ্যাশন অ্যান্ড ডিজাইন টেকনোলজিতে (বিআইএফডিটি)।  ফ্যাশন ডিজাইনিংয়ে ডিপ্লোমা কোর্স করতে থাকেন। পোর্টফোলিও তৈরি হয়ে গেলে জিনিয়া নজর রাখা শুরু করেন ওয়েবসাইটগুলোতে। একদিন এশিয়ান ডিজাইনার উইকের খবর পান। নতুন ডিজাইনারদের সেখানে অংশ নেওয়ার সুযোগ আছে। আয়োজকরা পোর্টফোলিও দেখে জিনিয়াকে দাওয়াতও দিয়ে ফেলে। জিনিয়ার কাছে পাঁচটি পোশাক চাওয়া হয়। তাঁর হাতে অবশ্য সময় বেশি ছিল না। তার ওপর ছেলে সাফওয়ান খুবই ছোট। তবে স্বামী সাউদ বরাবরের মতোই সহযোগিতা দিলেন। এপ্রিলের ২৫ তারিখ সপরিবারে রওনা হয়ে গেলেন দিল্লি।

 

দিল্লিতে ডিজাইনার উইকে মডেলদের সঙ্গে জিনিয়া

দিল্লির দিনগুলো

হোটেল বুক করা ছিল। দিল্লির বিকানির হাউসে জিনিয়ার শোয়ের দিন ছিল ২৮ এপ্রিল। তাঁর নকশা করা পোশাক পরে র‌্যাম্পে হেঁটেছেন যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের পাঁচজন মডেল। দিল্লির ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ফ্যাশন টেকনোলজি ও পার্ল একাডেমি ছাড়াও মিয়ানমার, কাজাখস্তান, আফগানিস্তান, নেপাল, শ্রীলঙ্কা থেকেও ডিজাইনাররা অংশ নিয়েছিলেন। র‌্যাম্প শেষ হওয়ার পর জিনিয়াকে অনেকেই অভিনন্দন জানিয়েছেন। ভেলরের একজন গার্মেন্ট মালিক তাঁর লুকবুক (পোশাকের ক্যাটালগ) নিতে আগ্রহ দেখিয়েছেন।     

 

জিনিয়ার পোশাক

পোশাকগুলো জিনিয়া ডিজাইন করেছেন সম্পূর্ণ দেশীয় কাপড় দিয়ে। জিনিয়া বললেন, ‘দিল্লির শোয়ে আমার পাঁচটি পোশাকের দুটি গাউন, দুটি জাম্প স্যুট ও জ্যাকেট এবং একসেট প্যান্ট ও টপস। পোশাকগুলোয় দেশীয় মোটিফ, যেমন—হাতপাখা, কুলা, মানচিত্র বা বাংলা হরফে বাংলাদেশ লেখা ব্যবহার করেছি। কাঁথা স্টিচের কাজ ছিল এগুলোয়।  জামদানি, খাদি, সুতি, জুট কটন ইত্যাদি ফ্যাব্রিক ব্যবহার করেছি।’

 

আগামী দিন

জিনিয়া এরই মধ্যে মালয়েশিয়া ও লন্ডনে দুটি ফ্যাশন শোয়ের দাওয়াত পেয়েছেন। তবে এখনো কোর্সের দুটি সাবজেক্ট শেষ করা বাকি। তাই ভাবছেন, এগুলো শেষ না করে শো করতে যাবেন না। তিনি মালয়েশিয়া ও লন্ডনের দুটি শোতেই অংশ নিতে চান আর সেটা আগামী বছর।

 



মন্তব্য