kalerkantho


ছবির বাইরের ছবি

এটুকু দেখা বাকি

গিয়াসউদ্দিন সেলিমের নতুন ছবি ‘স্বপ্নজাল’ দর্শকের মন কেড়েছে এরই মধ্যে। ছবিটি বোনার সময়ের কিছু গল্প শুনে এসেছেন মাহবুবর রহমান সুমন

২১ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০



এটুকু দেখা বাকি

২০১৪ সালে বিউটিফুল বাংলাদেশ—ল্যান্ড অব রিভার প্রকল্পের কাজে চাঁদপুর গিয়েছিলেন গিয়াসউদ্দিন সেলিম। শহরটির মাঝখান দিয়ে গেছে ডাকাতিয়া নদী। এক ধারে পুরান বাজার, আরেক ধারে নতুন বাজার। সেলিমের কাছে চাঁদপুরকে লন্ডনের মতো লেগেছিল। চাঁদপুরের রূপ দেখেই তাঁর স্বপ্নজালের গল্প বোনা শুরু। তারপর গেছে ১৮ মাস। লিখেছেন কাহিনি, চিত্রনাট্য আর সংলাপ। ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে সেলিম দৃশ্য ধারণ শুরু করেন।

যে কারণে তাঁরা স্বপ্নজালে

স্বপ্নজালের প্রধান দুই চরিত্রে অভিনয় করেছেন  ইয়াশ রোহান ও পরীমণি। ছবিতে তাঁদের নাম অপু রহমান ও শুভ্রা। পরিচালক ইয়াশকে চিনতেন আগে থেকেই। একসঙ্গে কয়েকটি কাজও করেছেন। কাহিনি লেখার সময় থেকেই অপুর চরিত্রে পরিচালক গিয়াসউদ্দিন সেলিম ইয়াশকে ভেবে রেখেছিলেন। ‘আসলে একটি ইনোসেন্ট ফেস চাইছিলাম।’ তবে নায়িকা শুভ্রার খোঁজ পেতে ঝামেলা পোহাতে হয়েছে সেলিমকে। কয়েক মাস ধরেই অডিশন চালিয়েছেন। কিন্তু কাউকেই মনে ধরছিল না। হঠাৎই পরীমণির কথা মনে পড়ে। ভালো করে ভেবেচিন্তে বুঝলেন, এটাই তাঁর শুভ্রা। ফজলুর রহমান বাবু ছবিটিতে আয়নাল গাজী চরিত্রে অভিনয় করেছেন। পরিচালক তাঁকে নিয়ে বলছিলেন, ‘এই চরিত্রের জন্য এমন একজনকে প্রয়োজন ছিল যে সুস্থ মানুষ থেকে ধীরে ধীরে অসুস্থ হয়ে ভেঙে পড়বে। বাবু ভাইয়ের সঙ্গে আমার অনেক দিনের জানাশোনা। আমি জানতাম তিনি ভিন্ন আর কেউ এ চরিত্র সেভাবে ফুটিয়ে তুলতে পারবেন না।’

 

যেখানে স্বপ্নজাল

দেড় বছর ধরে থেমে থেমে চলেছে স্বপ্নজালের শুটিং। মোট ৫৪ দিন শুটিং হয়েছে। এর মধ্যে চাঁদপুরে ৩০ দিন, কলকাতায় ১৫ দিন আর বাকি দিনগুলোয় শুটিং হয়েছে পদ্মার চরে ও কিশোরগঞ্জের হাওরে। গল্পের শেষ দৃশ্যে শুভ্রাকে পানির মধ্যে ছুটতে দেখার দৃশ্যটি ওই হাওরের। ছবির প্রথম গানের শুটিংও হয়েছে হাওরে। হাওরের শুটিং নিয়ে পরিচালক বলছিলেন,  কিশোরগঞ্জের নিকলীতে যেতে কষ্ট করতে হয়। উপরন্তু আমাদের দরকার ছিল রোদ অথচ সে সময় গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছিল। যাহোক একসময় সূর্যের দেখাও পেয়েছিলাম কিন্তু সমস্যা বেধেছিল মানুষ নিয়ে। হাজার হাজার মানুষ নৌকা নিয়ে শুটিং দেখতে এসেছিল। শট নেওয়ার মতো ফাঁকা জায়গাও পাচ্ছিলাম না। আমাদের ভলান্টিয়াররা হাল ছেড়ে দিলে আমি মাইকে বললাম, ‘দয়া করে দক্ষিণ দিকটা ফাঁকা করে দিন।’ তাতে কাজ হয়েছিল।

 

একটি সংলাপ

আমার মনটাকে তোমার কাছে রেখে গেলাম, মনটাকে মোর বসতে দিয়ো, মুড়ি-মুড়কি খেতে দিয়ো, জলের গ্লাস দেওয়ার ছলে একটু শুধু ছুঁয়ে দিয়ো—সংলাপটি খুবই জনপ্রিয় হয়েছে। পরিচালকের কাছে জানতে চেয়েছিলাম এর শুটিং সময়ের কথা।

‘সেদিন সকালে আমি খুব রেগে উঠি আর চিৎকার করে কথা বলতে থাকি। এতে সবার মন খারাপ হয়। আর তার মধ্যেই সংলাপটি ধারণ করা হয়েছিল। এই ছবিতে কান্নার দৃশ্যে আমরা গ্লিসারিন ব্যবহার করিনি। সেটে এমন পরিবেশ তৈরি করতাম যেন দৃশ্যটা আপনা থেকেই তৈরি হয়।’

 

চাঁদপুরে লাফ

‘চাঁদপুরে শুটিংয়ের সময় আমরা বজরায় থাকতাম। প্রতিদিন সকাল ৯টায় শুটিং শুরু হতো আর শেষ হতে রাত ৯টা বেজে যেত। তারপর আড্ডা দিতে বজরার ছাদে চড়ে বসতাম। পুরো বজরা মশারিতে ঢাকা থাকত। একদিনের ঘটনা শুনুন, প্রতি সাত দিন পর একটি করে ডে অফ থাকত আমাদের। সেটা একটা ডে অফের দিন ছিল। বজরার ছাদ থেকে ছেলেরা নদীতে লাফিয়ে লাফিয়ে পড়ছিল। একসময় ইয়াশ আর পরীমণিও লাফিয়ে পড়ল। তারপর আমিও লাফানোর লোভ সামলাতে পারলাম না। প্রচুর মজা করেছিলাম চাঁদপুরে।’

 

সংক্ষেপে স্বপ্নজাল

রহমান মিয়া ও হিরন সাহা দুই বন্ধু। হিরন সাহার মেয়ে শুভ্রা ও রহমান মিয়ার ছেলে অপু রহমানের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। আয়নাল গাজীর সঙ্গে হিরন সাহার ঝামেলা বাধে। গাজীর কূটচালে হিরন সাহা পরিবার নিয়ে ভারতে চলে যেতে বাধ্য হয়। তখন অপু এপারে আর শুভ্রা ওপারে। কিন্তু প্রেম তো সীমানা মানে না। ১৪৭ মিনিট দৈর্ঘ্যের এ ছবিতে হিরন সাহার হত্যা রহস্যের কিনারাও হয়।


মন্তব্য