kalerkantho


সরেজমিন

আঞ্চলিক হাঁস প্রজনন খামার, নওগাঁ

নওগাঁ সদর উপজেলার বোয়ালিয়া ইউনিয়নের সান্তাহার-বগুড়া সড়কের ধারে আছে আঞ্চলিক হাঁস প্রজনন খামার। একদিন সকালে ঘুরে দেখে এসেছেন মাসুদ রানা আশিক

২১ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০



আঞ্চলিক হাঁস প্রজনন খামার, নওগাঁ

সদর দরজা পার হওয়ার পর হাতের বামে হ্যাচারি ভবন। এখানেই ডিম ফোটানো হয়। রুমগুলোয় হিটার আছে। হিটার দিয়ে তাপমাত্রা ওঠানো হয় ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইটে। আর তাতেই ডিম ফোটে। মোট ২৮ দিন লাগে ডিম ফুটে বাচ্চা বেরোতে ( উল্লেখ্য, হাঁস তা দিলেও লাগে ২৮ দিন)। এই ভবনে একসঙ্গে ২৮ হাজার ডিম রাখা সম্ভব। কয়েকজন কর্মচারীকে দেখলাম পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে ব্যস্ত। তারপর অফিস ঘরে দেখলাম কয়েকজন খাতাপত্র সামলাচ্ছেন। অফিস ঘরের নিচতলা সাফ করার কাজ চলছে। এখানে প্রশিক্ষণ হবে। হাঁস পালন প্রশিক্ষণ। অফিস ঘরের ডান দিকে আছে স্টাফ কোয়ার্টার। এই খামারে হাঁস পালনের জন্য আটটি শেড আছে। প্রতিটি শেড জালি দিয়ে ঘেরা। সব শেডেই হাঁসের খাওয়ার জন্য পানি রাখার আলাদা জায়গা আছে। হাঁসগুলো যেন পানিতে ভাসতে পারে তারও ব্যবস্থা আছে। হাঁসের খাবার রাখার জন্য আছে কাঠের তৈরি বাক্স। শেডগুলোতে প্রাপ্তবয়স্ক প্রায় তিন হাজার হাঁস আছে। একটা গোডাউনও আছে এই খামারে। আছে ব্রুডার শেড। এতে হাঁসের বাচ্চা রাখা হয়। এর তাপমাত্রাও নিয়ন্ত্রিত।

 

খামারের কথা

সাত একর জায়গা নিয়ে ১৯৯৯ সালে এই খামার গড়ে তোলা হয়। সরকারের উদ্দেশ্য ছিল বেকারত্ব ঘোচানো, মানে হাঁস পালনের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করা। সেই উদ্দেশ্য অসফল বলা যায় না। কেউ কেউ ২০০ বাচ্চাও নেন। বেশির ভাগ গ্রাহক এক দিন বয়সী বাচ্চা নেন। ১০ থেকে ৪০ দিন বয়সী বাচ্চাও আছে খামারে। এক দিন বয়সী একটি বাচ্চার দাম ২০ টাকা। খামারের কর্মচারী সাইফুল ইসলাম বললেন, ‘বগুড়া, গাইবান্ধা, রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, জয়পুরহাট, রাজশাহী, নওগাঁ, নাটোরসহ ২০টি জেলায় এখান থেকে বাচ্চা যায়। অনেকেই স্বাবলম্বী হয়েছে এখান থেকে বাচ্চা নিয়ে। এই যেমন নওগাঁরও কয়েকজন নারী ২০টি করে বাচ্চা নিয়েছিল। তারা এখন ডিম আর হাঁসের বাচ্চা বিক্রি করে স্বাবলম্বী। প্রতিবছর প্রায় হাজারজন মানুষ এখান থেকে বাচ্চা সংগ্রহ করছে। অনেকে ব্যবসার জন্যও নেয়। ব্যবসা করেও লাভবান হয়।’ প্রাপ্তবয়স্ক হাঁসা-হাঁসিও বিক্রি হয় এখানে। ডিমও বিক্রি হয়। বিশেষ করে যে ডিম থেকে বাচ্চা হওয়ার সম্ভাবনা কম দেখা যায়। সেগুলো খুচরা আর পাইকারি মূল্যেও বিক্রি হয়। এখানে কয়েক রকমের হাঁস পালন করা হয়, যেমন ডিমের জন্য ক্যাম্বেল আর জেনডিং, মাংসের জন্য পিকিং ইত্যাদি।

 

সদর দরজায় দেখা হলো

বেরোনোর সময় গেটে দুজনের সঙ্গে দেখা হলো। একজন সোলেমান আলী। নাটোর থেকে এসেছেন। কয়েক দিন আগেই ফোনে ১০০ হাঁসের বাচ্চা নেবেন বলে রেখেছিলেন। সেগুলো আজ নিতে এসেছেন। বললেন, ‘পড়ালেখা শেষ করে বেকার জীবন কাটাচ্ছিলাম। পরে এক আত্মীয়ের পরামর্শে এই খামারে চার দিনের প্রশিক্ষণ নিই। সেটা ২০১০ সালের কথা। তারপর ২০টা বাচ্চা নিয়ে যাই। এখন আমার ভালোই যাচ্ছে দিন।’ সোলেমান বাড়িতেই ১০০টি হাঁস পালেন। বাড়ি থেকেই হাঁস আর ডিম বিক্রি করেন। আরেকজনের নাম ইলিয়াস। এসেছেন লালমনিরহাট থেকে। তিনি ১৫০টি বাচ্চা নেবেন। আগে করতেন ভাঙ্গারির ব্যবসা। কিন্তু তাতে সংসার চলছিল না। তখন হাঁস পালনের কথা ভাবেন। প্রথমে স্থানীয় বাজার থেকেই কয়েকটি হাঁস কিনেছিলেন। সেটা ২০০৬ সাল ছিল। তারপর এখান থেকে ১৫টি খাকি ক্যাম্বেল জাতের হাঁসের বাচ্চা নিয়ে যান তিনি। এখন তাঁর একটি হাঁসের খামার আছে। ডিম আর হাঁস বিক্রি করে সংসার চালাচ্ছেন।

    ছবি : লেখক



মন্তব্য