kalerkantho


ফেসবুক থেকে পাওয়া

রাত ১২টার আগেই বক্সটা নিয়ে হাজির হবি

৩১ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



রাত ১২টার আগেই বক্সটা নিয়ে হাজির হবি

ভোর ৫:০৯

ফোনের রিংটোনে জেগে উঠল স্নিগ্ধা। নেহালের  ফোন, ‘এই স্নিগ্ধা, আজ বিকেল ৫টায় আমরা দেখা করব। তুমি রেডি হয়ে চলে এসো। আমি একটা দরকারি কাজে বাইরে যাচ্ছি। তাই এখন জানালাম। ফোন অফ থাকবে।’

স্নিগ্ধা কিছু বলার আগেই লাইনটি কেটে গেল। হোস্টেলে থাকা স্নিগ্ধা বেশ বেলা করেই ঘুম থেকে ওঠে। কিন্তু এই ভোরে নেহালের এই আচমকা ফোন বেশ টেনশনে ফেলে দিয়েছে মেয়েটাকে। বছর চারেক হয়েছে তাদের রিলেশনশিপ। নেহাল এমন আচমকা ফোন কখনো দেয়নি। তাই ব্যাপারটা ভাবাচ্ছে স্নিগ্ধাকে।

আর ঘুমাল না স্নিগ্ধা। চিন্তা আর কৌতূহল নিয়ে ভাবনার লম্বা একটা দিন পাড়ি দিল। ৩টা বাজার কিছুক্ষণ আগেই রওনা দিল তাদের প্রিয় সেই বটতলায়। এর মধ্যে বেশ কয়েকবার নেহালকে ফোন দিয়েছে। কিন্তু নেহালের ফোন বন্ধ।

বিকেল ৫:১৫

নেহাল এখনো আসেনি। ফোনও বন্ধ। স্নিগ্ধার চিন্তা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। বটগাছটার নিচে বসে আছে সে। হঠাৎ নির্জন জায়গাটায় দুজন আগুন্তুক এলো। বেশ লম্বা, সুঠাম দেহ। মুখে মাস্ক পরা, শুধু চোখ দুটি দেখা যায়। শিউরে উঠল স্নিগ্ধা। ভয়ে কথা আটকে গেছে তার। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তার মুখ বেঁধে সাদা একটি গাড়িতে উঠাল দুজনে। চেঁচিয়ে ওঠার অনেক চেষ্টা করেও ব্যর্থ মেয়েটি। হঠাৎ সে লক্ষ করল সেই মুখ ঢাকা দুজনের কোনো একজন ফোনে কার সঙ্গে যেন কথা বলছে। ‘তোর গার্লফ্রেন্ডকে উঠিয়ে নিয়েছি। রাত ঠিক ১২টার আগে বক্সটা নিয়ে হাজির হবি। মনে রাখিস, শেষ সময় রাত ১২টা!’ স্নিগ্ধার বুঝতে বাকি থাকল না যে ফোনের ওপাশের মানুষটা নেহাল। কিন্তু এরা কারা? কী চায়? কিসের বক্স? এসব চিন্তা আর ভয়ে স্নিগ্ধা দিশাহারা। স্নিগ্ধাকে তারা চোখ বেঁধে নিয়ে গেল একটা মস্ত ঘরে। বেশ খোলামেলা তবে নির্জন। মেয়েটি ভয়ে মূর্ছা যাওয়ার অবস্থা। হেলানো চেয়ারে বেশ নরমভাবেই বাঁধা হয়েছে তাকে। দেয়ালে টানানো ঘড়িতে তখন পৌনে ৮টা। আবার ফোনে কথা বলছে সেই লোকটা, ‘কি, সময়টা মনে আছে তো? ভুল যেন না হয়। তোর গার্লফ্রেন্ড ভালো আছে। সময়মতো বক্স নিয়ে পৌঁছে যাস।’ ওপাশ থেকে কী আওয়াজ এলো স্নিগ্ধা তা শুনতে পায় না। কিন্তু নেহালের কথা ভেবে তার খুব খারাপ লাগছে। সে হয়তো চিন্তায় দিশাহারা। ভয়ে ভয়ে সময়ের পাহাড় কেটে গেল।

রাত ১১:৫৫।

ফোন বেজে উঠল লোকটির। ওপাশ থেকে হয়তো জায়গার কথা জানতে চাওয়া হয়েছে। ঠিকানা বলছে লোকটি। মিনিটদুয়েক পর হাজির নেহাল। স্নিগ্ধা যেন প্রাণ ফিরে পেল। নেহালের হাতে কাগজ মোড়ানো চারকোনা একটি ব্যাগ। ব্যাগটি এগিয়ে দিল সে। বাঁধন খোলা হয়েছে স্নিগ্ধার। ভয়ার্ত স্নিগ্ধা। সেই অচেনা মানুষ দুটি একটি ছোট্ট টেবিল ঘিরে দাঁড়িয়ে আছে। টেবিলের ওপর সেই বক্স। আস্তে আস্তে বক্সটা খুলতে শুরু করল একজন। স্নিগ্ধার চোখ কপালে। এ কী। কানে এলো পরিচিত এক ঝাঁক সুর আর চোখে ভেসে উঠল রঙিন কেকের ভাঁজে লেখা—হ্যাপি বার্থ ডে স্নিগ্ধা। দরজার আড়াল থেকে বেরিয়ে এলো নীহারিকা, ধ্রুব, কিশোর, রাহাত আরো অনেকে। ঘড়িতে একপলক তাকিয়ে দেখল স্নিগ্ধা। রাত ১২:০১। অভিমান আর আশ্চর্য মিশে এ এক অন্য স্নিগ্ধা। তবুও সব কিছুকে ছাড়িয়ে যেন রাঙা চোখে ফুটছে মুগ্ধতা।

 

একগাল হেসে নেহাল বলে উঠল, ‘কী বলেছিলাম না, এবারের জন্মদিনটা তোমার একেবারেই অন্য রকম হবে। প্রমাণ হলো তো?’ অট্টহাসিতে বিশাল ঘর ঝনঝনিয়ে উঠল। ধ্বনিত হলো—হ্যাপি বার্থ ডে স্নিগ্ধা। হ্যাপি বার্থ ডে টু ইউ।

মাহফিজুর রহমান

গাজী মেডিক্যাল কলেজ, খুলনা।



মন্তব্য