kalerkantho


একাত্তরের কান্না

জল্লাদখানা

মিরপুরের জল্লাদখানা মনে করিয়ে দেয় একাত্তরের ভয়ংকর দিনগুলোর কথা। আপনাদের ঘুরিয়ে দেখাচ্ছেন জুবায়ের আহম্মেদ

৩১ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



জল্লাদখানা

মিরপুর ১০ নম্বরের বেনারসি পল্লী। ১ নম্বর গেট ধরে সোজা হেঁটে গেলে বাঁ দিকে কালো রঙের ফটক পাবেন। ঢোকার আগেই লেখা দেখবেন—কানপেতে শুনি কী বলতে চাইছে বধ্যভূমি। এটি জল্লাদখানা বধ্যভূমি স্মৃতিপীঠ। ১৯৭১ সালে এখানে হাজারো মানুষ আর্তনাদ করে উঠেছিল। লাল ইটের দেয়াল দিয়ে ঘেরা জায়গাটি উন্মুক্ত। সন্তানহারা মায়ের কোলের প্রতীক এ খোলা প্রান্তর। স্মৃতিপীঠের সুপারভাইজার প্রমীলা বিশ্বাস বললেন, ‘প্রতিদিন প্রায় ১৫০-২০০ লোক জল্লাদখানা দেখতে আসেন। জায়গাটি বেশি বড় নয়, কিন্তু এটি অনেক কান্না ধরে রেখেছে। পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের দোসররা নির্মম হত্যাযজ্ঞে মেতে উঠেছিল এখানে। একাত্তরে এটি ছিল ওয়াসার পাম্প হাউস। ’

 

একটি ভাস্কর্য

শেষ অংশে আছে ইটেগড়া একটি বর্গাকার ভাস্কর্য। এর নাম জীবন অবিনশ্বর। এর ওপরের দিকে আছে বিজয়সূর্য। নিচের দিকে ছয়জন মানুষের স্মৃতি পড়ে আছে। ছয়জন গলাকাটা মানুষ স্তূপাকারে পড়ে থাকলে যেমন দেখায় তেমনটি গড়া হয়েছে ইট দিয়ে। ভাস্কর্যটি গড়েছেন শিল্পী রফিকুন নবী ও মনিরুজ্জামান।

 

 

লাশ ফেলার সেই কূপ

একাত্তরে পাম্প হাউসটি ছিল পরিত্যক্ত। হানাদার বাহিনী বা রাজাকাররা নিরীহ বাঙালিদের ধরে আনত এখানে। হত্যা করার পর শবগুলো কূপে ফেলে দিত। বুঝি ভেবেছিল কূপে ফেলে দিলেই গণহত্যা চাপা পড়ে যাবে! আশপাশ থেকেও আরো শব কুড়িয়ে এনে এখানে ফেলেছিল। যুদ্ধ শেষে এখান থেকে এত শব উদ্ধার করা হয়েছিল যে তিনটি ট্রাক উপচে পড়েছিল। ২০ থেকে ২৫ হাজার বাঙালিকে এখানে হত্যা করা হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। এখন পর্যন্ত যাঁদের পরিচয় মিলেছে, তাঁদের নাম একটি কাচের ফলকে লেখা রয়েছে।

 

রাখা আছে বধ্যভূমির মাটি

দেয়াল ঘেঁষে ইটের থাম তৈরি করা হয়েছে বেশ কিছু। থামের ওপর রাখা হয়েছে কাচের খাঁচা আর খাঁচার ভেতর মাটির পাত্রে আছে মাটি। দেশের বিভিন্ন এলাকার বিভিন্ন বধ্যভূমির মাটি এগুলো। যেমন আছে খুলনার চুকনগর বধ্যভূমির মাটি, চট্টগ্রামের ফয়’স লেক বধ্যভূমির মাটি, রাজশাহীর বাবলা বন বধ্যভূমির মাটি বা কিশোরগঞ্জের বরইতলা বধ্যভূমির মাটি। আছে আদিত্যপুরসহ সিলেটের ছয়টি বধ্যভূমির মাটি। উল্লেখ্য, ২০০৭ সালের ২১ জুন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের সহযোগিতায় এই স্মৃতিপীঠের উদ্বোধন হয়।

 

বধ্যভূমি খননে যা পাওয়া গিয়েছিল

১৯৭১ সালে মিরপুরের অনেক জায়গা বধ্যভূমিতে পরিণত হয়েছিল। ১৯৯৯ সালে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় জল্লাদখানা নামে পরিচিত এই পাম্প হাউসে খননকাজ চালায়। পাওয়া যায় ৭০টি অস্থি, পাঁচ হাজার ৩৯২টি অস্থিখণ্ডসহ আরো নানা সামগ্রী। যেমন ওড়না, শাড়ি, জুতা, মানিব্যাগ ইত্যাদি। স্মৃতিপীঠে এসব দেখার সুযোগ রয়েছে। এক অংশে রয়েছে বিজয়স্তম্ভ। উঁচু, বেশ উঁচু। উল্লেখ্য,

সপ্তাহে শনিবার সকাল ১১টায় এখানে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণা হয়। উদ্দেশ্য নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের কথা জানানো। 

ঠিকানা :  এভিনিউ ১, ব্লক ডি, মিরপুর ১০, ঢাকা।

 

ছবি: মোহাম্মদ আসাদ



মন্তব্য