kalerkantho


আমার স্বাধীনতা

২৪ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



আমার স্বাধীনতা

২০১০ সালে প্রকাশিত ডাকটিকিটে চারটি স্মারকসৌধ ও বঙ্গবন্ধু

শখটা ছোটবেলার। ডাকটিকিট সংগ্রহের। তখন বেশি করতেন বিদেশি স্ট্যাম্প সংগ্রহ। বড়বেলায়ও শখটা তাঁকে ছেড়ে যায়নি। তবে এখন বেশি করেন দেশি স্ট্যাম্প সংগ্রহ। ২৬ মার্চ নিয়ে প্রকাশিত ডাকটিকিটগুলোও আছে উদয় শংকর বিশ্বাসের কাছে

 

স্বাধীনতা দিবস নিয়ে প্রথম স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশিত হয় ১৯৭২ সালের ২৬ মার্চ। তিনটি ডাকটিকিটের একটি সেট। ২০, ৬০ ও ৭৫ পয়সা মূল্যমানের। প্রতিটিরই আকার দৈর্ঘ্যে ৩৯ মিলিমিটার, আর প্রস্থে ২৯ মিলিমিটার। আগুনের লেলিহান শিখার ছবি আছে সেগুলোয়। ‘২৬শে মার্চ প্রথম স্বাধীনতা বার্ষিকী’ কথাটি টিকিটের গায়ে লেখা। বাংলায় ‘বাংলাদেশ’ সবার ওপরে লেখা, আর সবার নিচে ইরেজিতে BANGLADESH কথাটি। আমি বারবারই মুগ্ধ হয়ে দেখি টিকিট তিনটি। কাগজের মান খুব ভালো নয়, কিন্তু খুব উজ্জ্বল টিকিটগুলো। নিতুন কুণ্ডু নকশা করেছিলেন। ভারতের সিকিউরিটি প্রিন্টিং প্রেস (নাসিক) থেকে ছাপিয়ে আনা হয়েছিল। বাংলাদেশ ডাকবিভাগ বিশেষ সিলমোহর আর উদ্বোধনী খামও প্রকাশ করেছিল। ঢাকা জিপিওর সিলমারা খামটি সংগ্রহ করেছিলাম রাজশাহীর ডাক নিলাম থেকেই। ২০০৯ সালে।

 

গত বছর প্রকাশিত এই খামটিতে আছে ২৬টি পায়রা, সিলে মুষ্টিবদ্ধ হাত, আর ডাকটিকিটে স্থান পেয়েছে পদ্মা সেতু

 

২০ বছর পূর্তি ছিল সেবার

১৯৯১ সাল। স্বাধীনতার ২০ বছর পূর্তি উপলক্ষে পাঁচটি স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশ করে ডাকবিভাগ। প্রতিটির মূল্য চার টাকা। বাংলাদেশ সিকিউরিটি প্রিটিং করপোরেশন থেকে ছাপানো হয়। নকশায় পাঁচটি ভাস্কর্য ব্যবহৃত হয়েছে। এগুলো হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলা, জয়দেবপুর চৌরাস্তার মুক্তিযোদ্ধা, মুজিবনগর স্মৃতিসৌধ, ঢাকা সেনানিবাসের শিখা অনির্বাণ এবং সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধ। মাহবুব আকন্দ টিকিটগুলোর নকশাকার। তিনি চেয়েছেন, মুক্তিযুদ্ধে আমাদের বীরত্বের কথা তুলে ধরতে। টিকিটের সঙ্গে উদ্বোধনী খাম আর বিশেষ সিলমোহরও প্রকাশিত হয়। আমার সংগ্রহে শুধু টিকিটগুলো আছে। উদ্বোধনী খাম নেই। সংগ্রহের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

 

স্বাধীনতা দিবস নিয়ে প্রথম স্মারক ডাকটিকিট

 

স্বাধীনতার রজত জয়ন্তী

১৯৯৬ সালের ২৬ মার্চ ছিল আমাদের স্বাধীনতার রজত জয়ন্তীর বছর। তখনো আমি স্কুলের ছাত্র। মনে আছে, অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে দিবসটি পালন করা হয়েছিল স্কুলে। ছয়টি স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশিত হয় রজত জয়ন্তী উপলক্ষে। প্রতিটির মূল্য চার টাকা। টিকিটগুলোর নকশা করেন আনোয়ার হোসেন, মোজাম্মেল হক, মো. শামসুজ্জোহা এবং মো. মতিওর রহমান। তাঁরা স্বাস্থ্য, শিক্ষা, চিকিৎসা, যোগাযোগ ও বাণিজ্যে বাংলাদেশের উন্নয়নকে তুলে ধরেন। একটি টিকিটে পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বরতার চিত্রও তুলে ধরা হয়। সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধও আনা হয় একটি টিকিটে। গড়পড়তা টিকিটের আকারের চেয়ে এগুলো বড়। খামের আকারও বড় ছিল আর সিলমোহরে সূর্য কিরণ ব্যবহৃত হয়েছে।

 

স্বাধীনতার রজত জয়ন্তীতে প্রকাশিত ডাকটিকিটের একটি

 

ডাকটিকিটে বঙ্গবন্ধু

স্বাধীনতার রজত জয়ন্তী উপলক্ষেই প্রকাশিত হয় আরেকটি ডাকটিকিট। তবে সেটি ১৯৯৭ সালে। মূল্য চার টাকা। এতেই প্রথমবারের মতো বঙ্গবন্ধুকে দেখা যায়। জনতার উদ্দেশে ভাষণ দিচ্ছেন। পেছনে মানচিত্রখচিত পতাকা আর উত্তাল জনসমুদ্র। মো. মতিওর রহমান এর নকশা করেন। টিকিটটি আমার খুব পছন্দের। ঢাকা জিপিও এবং বগুড়া প্রধান পোস্ট অফিসের সিলমারা দুটি উদ্বোধনী খামও আছে আমার সংগ্রহে। সিলমোহরে ‘স্বাধীনতার রজত জয়ন্তী’ লেখা।

 

কিছু খাপছাড়া

২৬ মার্চ নয়, ২০০৪ সালে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে ডাকটিকিট প্রকাশিত হয় ২৪ মার্চ। পাঁচ টাকা দাম। এতে দেখা যায় চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিচ্ছেন। পরের বছরের ডাকটিকিটেও জিয়াউর রহমানের ছবি। টিকিটটির একপাশে জাতীয় স্মৃতিসৌধ, জিয়াউর রহমান অন্যপাশে। এটিও প্রকাশিত হয় ২৪ মার্চ। ২০০৬ সালে জাতীয় দিবসের স্মারক ডাকটিকিট ও খাম প্রকাশিত হয় ২৩ মার্চ। দাম ১০ টাকা। এতে সেক্টর কমান্ডার জিয়াউর রহমানের মুখাবয়ব দেখানো হয় বাংলাদেশের মানচিত্রের মধ্যে। পতাকা আর স্মৃতিসৌধও স্থান পেয়েছে।

 

জাতীয় সংগীত

আলাদা করেই বলতে হয় এ টিকিটটির কথা। ২০০৮ সালে প্রকাশিত। কে জি মুস্তাফার নকশা করা এ টিকিটে বিজয়ে উল্লসিত দুজন মুক্তিযোদ্ধাকে দেখা যায়। দেশের পতাকাও আছে এই সঙ্গে। উদ্বোধনী খামে স্থান পেয়েছে জাতীয় সংগীত। খামটি নকশা করেছেন ফিলাটেলিস্ট এ টি এম আনোয়ারুল কাদির। আমার সংগ্রহে থাকা খামগুলোয় রাজশাহী, ঢাকা ও ময়মনসিংহের ডাকঘরের সিল আছে।

 

শান্তির পায়রা

২০০৯ সালের স্বাধীনতা দিবসে তিন টাকা মূল্যের স্মারক টিকিটটিতে আছেন বঙ্গবন্ধু। উদ্বোধনী খামে দেখা যায় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। তিনি শান্তির পায়রা ওড়াচ্ছেন। জাতীয় স্মৃতিসৌধ ও জাতীয় পতাকাও দেখা যায়। আমার মনে হয়, স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে প্রকাশিত খামগুলোর মধ্যে এটিই সবচেয়ে আকর্ষণীয়। টিকিট ও খাম উভয়েরই নকশা করেন নকশাবিদ জসিম উদ্দিন।

 

চারটি সৌধ

চারটি স্মারক সৌধ নিয়ে পাঁচ টাকা মূল্যের চারটি ডাকটিকিট প্রকাশিত হয় ২০১০ সালের স্বাধীনতা দিবসে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পাবলিক লাইব্রেরি, গাজীপুরের সফিপুর এবং রংপুরের ভোকেশনাল ইনস্টিটিউটের স্মৃতিসৌধ আছে টিকিটগুলোতে। বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিও আছে। উদ্বোধনী খামে আছে নিতুন কুণ্ডুর ভাস্কর্য শাবাশ বাংলাদেশের জলছাপ।

 

বেশি মূল্যের টিকিট

এক বছর বিরতি দিয়ে ২০১২ সালে স্বাধীনতা দিবসে আবার ডাকটিকিট বের হয় আনোয়ার হোসেনের নকশায়। ৭ই মার্চে জাতির জনকের ভাষণের আলোকচিত্র ব্যবহৃত হয় এতে। ‘এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’ কথাটিও লেখা আছে এতে। টিকিটটির মূল্যমান ২৬ টাকা। উদ্বোধনী খামে উল্লসিত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ছবি স্থান পেয়েছে। ২০১৩ সালের টিকিটটিতে বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনীর প্রচ্ছদে ব্যবহৃত আলোকচিত্রটি স্থান পেয়েছে। আমার কাছে রাজশাহী, ঢাকা ও চট্টগ্রামের উদ্বোধনী খাম রয়েছে। ২০১৪, ২০১৫ আর ২০১৬  সালের স্বাধীনতা দিবসের ডাকটিকিটেও বঙ্গবন্ধুকে সম্মান জানানো হয়েছে। ২০১৭ সালের টিকিটটিতে স্থান পেয়েছে পদ্মা সেতু। সিলে রয়েছে উত্তোলিত মুষ্টিবদ্ধ হাত। জয় বাংলা কথাটিও আছে। খামে আছে ২৬টি পায়রা।

স্বাধীনতার ২০ বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রকাশিত পাঁচটি স্মারক ডাকটিকিট। নকশাকার মাহবুব আকন্দ


মন্তব্য