kalerkantho


যাঁরা আঁধার তাড়ায়

২০১৩ সাল থেকে প্রতিবছর নারী দিবসে জয়া আলোকিত নারী সম্মাননা প্রদান করছে আরটিভি। এবারও পেয়েছেন আট আলোকিত নারী। তাঁদের নিয়ে লিখেছেন পিন্টু রঞ্জন অর্ক

১০ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



যাঁরা আঁধার তাড়ায়

ডা. সায়েবা আক্তার

চিকিৎসাসেবা

কনডম, স্যালাইন আর পানি—এই তিনটি উপকরণ দিয়ে সায়েবা যে ‘কিট’ বানিয়েছেন সেটি এখন তৃতীয় বিশ্বের যেকোনো প্রসবকালীন অপারেশনে চিকিৎসকের বড় সহায়। ডা. সায়েবার গবেষণা ফল ২০০৩ সালে মেডস্কেপ জেনারেল মেডিসিন সাময়িকীতে ছাপা হয়। সেই থেকে পদ্ধতিটি ‘সায়েবাস মেথড’ নামে পরিচিত। এরপর বিবিসিসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিশদ প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে সায়েবার পদ্ধতি নিয়ে। প্রসবকালে প্রসূতি মায়ের রক্তক্ষরণ বন্ধে সায়েবাস মেথড একটি কার্যকরী ও সহজলভ্য পদ্ধতি। এখন এ পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে বিশ্বের ১৫টিরও বেশি দেশে। সায়েবা বলেন, ‘উপকরণগুলো এত সহজলভ্য যে গ্রামগঞ্জে চাইলে ধাত্রীরাই এটা বানিয়ে নিতে পারবেন। দরকার শুধু প্রশিক্ষণ। সে জন্য এখন কাজ করে যাচ্ছি।’

ডা. সায়েবা আক্তারের জন্ম চট্টগ্রামে। বাবা আব্দুল মালেক ছিলেন টাঙ্গাইলের করটিয়া সা’দত কলেজের অধ্যাপক। সায়েবা পড়েছেন চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। ১৯৭৬ সালে কাজও শুরু করেন ওখানেই। ১৯৮২ সালে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে। এরপর বরিশাল মেডিক্যাল হয়ে ১৯৯৫ সালে আসেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে। ২০০৬ সালে অবসর নিয়েছেন। এরপর ঢাকার নিউ ইস্কাটন এলাকায় গড়ে তোলেন ‘মামস ইনস্টিটিউট অব ফিস্টুলা অ্যান্ড ওমেনস হেলথ’। এটি একটি ২০ শয্যার দাতব্য হাসপাতাল।


রুবী রহমান

সাহিত্য

রুবী রহমানের জন্ম ১৯৪৬ সালে কলকাতায়। দেশভাগের পর পরিবারের সঙ্গে রুবী ঢাকায় চলে আসেন। পুরান ঢাকায়ই তাঁর বেড়ে ওঠা। ছোটবেলা থেকেই লেখালেখির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ১৯৫৬ সালে তাঁর প্রথম লেখা প্রকাশিত হয়েছিল দৈনিক ইত্তেফাকের কচিকাঁচার আসরে। ষাটের দশকে নিরীক্ষাধর্মী কবিতা আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর হন। ১৯৯১ সালে তাঁর ‘জীবন ফড়িঙ’, ২০০৬ সালে ‘কান পেতে আছি’ ও ‘মৌমাছি’ কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়। তাঁর কবিতার ইংরেজি অনুবাদ যুক্তরাষ্ট্রের পোয়েট্রি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। ২০০৮ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের আয়ওয়ায় আন্তর্জাতিক লেখক কর্মসূচিতে অংশ নেন। দীর্ঘদিন সরকারি কলেজে অধ্যাপনা করেছেন। ১৯৮৭ সাল থেকে জাতীয় কবিতা পরিষদের সঙ্গে যুক্ত আছেন। তিনি কালি ও কলম সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদনা পর্ষদের সদস্য। রুবী রহমান ২০১০ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, ২০০৪ সালে অনন্যা সাহিত্য পুরস্কার এবং ২০১৭ সালে মাযহারুল ইসলাম কবিতা পুরস্কার পেয়েছেন।


সূচিশিল্পী মৌলুদা খানম

শিল্পকলা

চাচির কাছে সুই-সুতার কাজ শিখেছেন মৌলুদা। নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় তাঁর বিয়ে হয়ে যায়। বাবার বাড়ি পাবনা থেকে চলে যান দিনাজপুরে শ্বশুরবাড়িতে। সেখানে অবসরে কাপড়ের ক্যানভাসে ফুল-পাখি আঁকতেন। তারপর শখের বশেই মানুষের মুখ ফুটিয়ে তুলতে থাকেন। স্বামী নাসিম উদ্দিন ছিলেন বিদ্যুৎ প্রকৌশলী। স্বামীর বদলিসূত্রে একসময় ঢাকায় আসেন মৌলুদা। ঘরসংসার ভালোই চলছিল। হঠাৎই স্বামী হারালেন। সুই-সুতা হয়ে উঠল তাঁর জীবিকা আহরণের উপায়। পোশাক কারখানার চাহিদামতো সোয়েটারে নকশা করতে লাগলেন। এলাকার মেয়েদের সেলাই প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদেরও সঙ্গে নেন। একসময় অবস্থা ফেরে। তিনি বিখ্যাত মনীষীদের প্রতিকৃতি আঁকা শুরু করলেন কাপড়ের ওপরে। এখন তাঁর ঘরের দেয়ালে ঝুলছে রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, শরত্চন্দ্র, রোকেয়া, সুফিয়া কামালসহ অনেক মানুষের প্রতিকৃতি। বঙ্গবন্ধুর ছবিও তুলেছেন সুই-সুতায়। দূর থেকে দেখলে মনে হয় রংতুলিতে আঁকা। সংখ্যাটা নেহাত কম নয়। দেড় হাজারেরও বেশি মানুষের প্রতিকৃতি তিনি করেছেন। জাতীয় জাদুঘর এগুলো দিয়ে ২০০৯ সালে বিশেষ প্রদর্শনীরও আয়োজন করেছিল। ওই বছরই তিনি অনন্যা শীর্ষ ১০ সম্মাননা পেয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এটা আমার নেশা। সারা জীবন এ কাজ করেই সময় কাটিয়েছি। এখন আমি অসুস্থ কিন্তু এ ছাড়া থাকতেও পারি না।’


অধ্যাপক ড. হোসনে আরা বেগম

সমাজসেবা

১৯৭৫ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর হন হোসনে আরা বেগম। পড়েছেন উদ্ভিদবিদ্যা। কয়েক বছর শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত ছিলেন। ১৯৬৪ সালে ১২৬ জন নারী গড়ে তোলেন ঠেঙ্গামারা মহিলা সবুজ সংঘ বা টিএমএসএস, যাদের বেশির ভাগই ভিক্ষাবৃত্তির সঙ্গে জড়িত ছিল। তাঁর নেতৃত্বে টিএমএসএস আজ অনুকরণীয় প্রতিষ্ঠান। এর সঙ্গে যুক্ত আছে এক লাখ ১২ হাজার সমিতি। প্রতিটির সদস্য ৩০ জন করে। টিএমএসএস মেডিক্যাল কলেজ, টিএমএসএস নার্সিং কলেজ এবং টিএমএসএস ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটও গড়ে উঠেছে তাঁরই উদ্যোগে। মাদার তেরেসা স্বর্ণপদক, বেগম রোকেয়া জাতীয় পুরস্কার, কবি কাজী নজরুল ইসলাম সমাজকল্যাণ পুরস্কারসহ অনেক সম্মাননা পেয়েছেন। তিনি বলেন, ‘মানুষের জন্য কিছু করার আগ্রহ আমার মধ্যে ছিল। এ কারণে ভিক্ষুক ও গৃহ শ্রমিকদের সংঘবদ্ধ করার চেষ্টা করে যাচ্ছি।’


শাহীন সামাদ

সংগীত

কুষ্টিয়ায় জন্ম। বাবার ব্যবসাসূত্রে শৈশব কেটেছে জলপাইগুড়িতে। ১৩ বছর বয়সে ছায়ানটে ভর্তি হন। তালিম নিয়েছেন ওস্তাদ রাম গোপাল, ওস্তাদ ফজলুল হক মিঞা ও ওস্তাদ ফুল মোহাম্মদের কাছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দর্শন বিভাগ থেকে এম এ পাস করেছেন। পরে লন্ডনেও ছিলেন অনেক দিন। ঢাকায় ফেরেন ১৯৯৩ সালে। বাংলাদেশ বেতার ও বিটিভির তালিকাভুক্ত শিল্পী ছিলেন। দেশে-বিদেশে বহু অনুষ্ঠান করেছেন।

১৯৭১ সালে তিনি স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী ছিলেন। তখন তিনি বাংলাদেশ মুক্তিসংগ্রামী শিল্পী সংস্থায় যোগ দিয়েছিলেন। তাঁর গাওয়া উল্লেখযোগ্য দেশাত্মবোধক গানের মধ্যে আছে—দেশে দেশে ভ্রমি তব দুখ গান গাহিয়ে, চল যাই চল যাই চল যাই, শিকল পড়ার ছল, কারার ঐ লৌহ কপাট, জনতার সংগ্রাম ইত্যাদি। নিশি রাত, রূপান্তরের গান, সন্ধ্যা তারা, অভিসার, নহে নহে প্রিয়সহ তাঁর মোট ১০টি অ্যালবাম বেরিয়েছে। ২০১৬ সালে তিনি একুশে পদক লাভ করেন। ২০০৯ সালে নজরুল ইনস্টিটিউট তাঁকে আজীবন সম্মাননা জানিয়েছে। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মাননা পেয়েছেন গেল বছর। বলেন, ‘সংগীতকে ভালোবেসেছি। একসময় নিজে শিখেছি। এখন শিখিয়ে আনন্দ পাই। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত গানের সঙ্গেই থাকতে চাই।’


পারভীন মাহমুদ

নারীর ক্ষমতায়ন

মা শামসুন্নাহার রহমান পরাণ ছিলেন সামাজিক উদ্যোক্তা। মায়ের কাছ থেকেই পেয়েছেন নেতৃত্ব দেওয়ার গুণাবলি। তিনি পেশায় চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট। ছিলেন দ্য ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশের (আইসিএবি) প্রথম এবং এখন পর্যন্ত একমাত্র নারী প্রেসিডেন্ট। পারভীন মাহমুদ সাউথ এশিয়ান ফেডারেশন অব অ্যাকাউন্টস (সাফা) পরিচালনা পর্ষদের প্রথম নারী সদস্য।

এইচএসসি পরীক্ষার পরপরই তাঁর বিয়ে হয়ে যায়। স্বামীর সঙ্গে চলে যান যুক্তরাজ্যে। লন্ডনে গিয়ে সিএ প্রথম পর্বও সম্পন্ন করেন। স্বামী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ তখন যুক্তরাজ্যে শিক্ষকতা করতেন। শাশুড়ি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁরা দেশে ফেরেন। পারভীন দুই সন্তানের জননী। ছেলে-মেয়েরা বড় হলে পরে আবার লেখাপড়া শুরু করেন। সিএ করেন। তাঁর কর্মজীবন শুরু ব্র্যাকে। এরপর অ্যাকশনএইডে ছিলেন ফিন্যানশিয়াল কন্ট্রোলার। পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশনে (পিকেএসএফ) উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন প্রায় এক যুগ। বর্তমানে তিনি গ্রামীণ টেলিকম ট্রাস্টে ব্যবস্থাপনা পরিচালক, শাশা ডেনিমস লিমিটেড, মাইক্রো ইন্ডাস্ট্রিজ ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেসের চেয়ারপারসন এবং ব্র্যাক ইন্টারন্যাশনালের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য। এ ছাড়া ইউসেপ বাংলাদেশের ভাইস চেয়ারম্যান ও এসিড সার্ভাইভরস ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০০৬ সালে নারীকণ্ঠ ফাউন্ডেশন থেকে ‘বেগম রোকেয়া শাইনিং পারসোনালিটি অ্যাওয়ার্ড’ লাভ করেন। বলেন, ‘সমাজকে এগিয়ে নিতে হলে কাউকে বাদ দেওয়া চলবে না। নারী-পুরুষ সবাইকেই সঙ্গে নিতে হবে। আমি সে লক্ষ্যে কাজ করছি।’


নাসরিন সুলতানা

চ্যালেঞ্জিং পেশা

তখন তাঁর সাত-আট বছর বয়স মোটে। মাগুরা সদরে একেবারে রাস্তার ধার ঘেঁষে ছিল বাসা। ঘণ্টা বাজিয়ে রাস্তা দিয়ে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি যেত। ভয়ে দৌড়ে পালাতেন নাসরিন। সেই নাসরিন সুলতানা এখন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের একজন দক্ষ কর্মী। তিনিই প্রতিষ্ঠানটির প্রথম নারী উদ্ধারকর্মী। এইচএসসি পর্যন্ত মাগুরায়ই পড়েছেন। এরপর খুলনা বিএল কলেজ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর হয়েছেন। পড়েছেন বাংলা সাহিত্য। সেবার মন তাঁর ছোটবেলা থেকেই। সেবাধর্মী কোনো প্রতিষ্ঠানে কাজের আগ্রহ ছিল। কিন্তু সেটা যে ফায়ার সার্ভিস হবে ভাবেননি। ‘একদিন বড় বোন এসে বলল, ফায়ার সার্ভিস লোক নিচ্ছে। পদের নাম টেলিফোন অপারেটর। ভাবছিলাম আমাকে নেবে কি না আর চাকরিটা কেমন হবে ইত্যাদি। বোনের উৎসাহেই আবেদন করলেন। সেটা ১৯৮৪ সাল। পরীক্ষা ভালো হলো। চাকরিটাও হয়ে গেল। ঢাকা প্রথম কর্মস্থল। হেডকোয়ার্টার ফায়ার সার্ভিসের কন্ট্রোল রুমে। কয়েক বছর পর খুলনায় বদলি হলাম।’

২০০৯ সালে পদোন্নতি পান স্টেশন অফিসার পদে। যোগ দেন লালবাগ ফায়ার স্টেশনে। এখনো সেখানেই আছেন নাসরিন সুলতানা। অগ্নিনির্বাপণ বা উদ্ধারকাজে নির্দেশনা দেন। তাঁর অধীনে এখন ৩৫ জন কাজ করেন। সহকর্মীদের সবাই পুরুষ। ‘পুরুষ সহকর্মীদের সঙ্গে রাত ২টা-৩টা পর্যন্তও কাজ করেছি। সবাই দারুণ সহযোগিতা করেন। হ্যাঁ, নারীদের জন্য এটি একটি চ্যালেঞ্জিং পেশা। সব সময়ই চেষ্টা করি অসহায় ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকার। সর্বক্ষণ জীবন বাজি রেখে কাজ করতে হয়। কিন্তু মানুষের হাসিমুখ দেখলে সব কষ্ট ভুলে যাই।’ সাহসিকতার স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৫ সালে পেয়েছেন প্রেসিডেন্ট ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স পদক। ব্যক্তিগত জীবনে দুই সন্তানের জননী নাসরিন। তাঁর স্বামী ব্যাংকার। নাসরিন বলেন, স্বামীর সমর্থন ছিল বলেই এত দূর আসতে পেরেছি। কাজের চাপে পরিবারকে ঠিকমতো সময় দিতে পারি না। কিন্তু তারা হাসিমুখেই আমাকে সমর্থন দিয়ে যায়।’


আঁখি খাতুন

ক্রীড়াবিদ

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের পাটখোলা গ্রাম। সেই গ্রামের তাঁতিপাড়ায় জন্ম আঁখির। বাবা আক্তার হোসেন তাঁত শ্রমিক। আর মা নাসিমা বেগম সুতা বোনেন। ছোটবেলায় নিজেও মায়ের সঙ্গে হাত লাগিয়েছেন। সেই আঁখি খাতুনই অনূর্ধ্ব-১৫ সাফ ফুটবলের সেরা খেলোয়াড় হয়েছেন। তা-ও একজন ডিফেন্ডার হয়ে।

স্কুলে আঁখিকে ফুটবল ছাড়া দেখা যায় কম। ২০১৪ সালে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর ইব্রাহিম বালিকা বিদ্যালয়ের হয়ে বঙ্গমাতা ফুটবল টুর্নামেন্ট খেলেছেন আঁখি। এরপর বিকেএসপিতে নাম লিখিয়েছেন। এখন সেখানেই দশম শ্রেণিতে পড়েন। ২০১৫ সালে প্রথম দেশের হয়ে খেলতে গিয়েছিলেন বিদেশে। সেইবার তাজিকিস্তানে হয়েছিল এএফসি অনূর্ধ্ব-১৪ আঞ্চলিক চ্যাম্পিয়নশিপ টুর্নামেন্ট।

সতীর্থদের তুলনায় একটু আলাদা আঁখি। তাঁর উচ্চতা পাঁচ ফুট ছয় ইঞ্চি। রক্ষণভাগের এই খেলোয়াড়কে অনেক দূর থেকেই চেনা যায়। বেশ শক্তপোক্ত মানুষ। সাফ ফুটবলের গ্রুপ পর্বে ভুটানের বিপক্ষে করেছিলেন জোড়া গোল। দুটিই কর্নার থেকে। গোল করাতেও পটু আঁখি। কোচ গোলাম রব্বানী ছোটন বলেন, ‘উচ্চতা বেশি হওয়ায় আঁখির হেড ওয়ার্ক ভালো। লম্বা পায়ে ট্যাকলগুলো হয় নিখুঁত। পজিশন জ্ঞানও দারুণ। সর্বোপরি সে একজন ইতিবাচক মানুষ।’ আঁখি বলেন, ‘আমরা সবাই ভালো খেলেছি বলেই চ্যাম্পিয়ন হতে পেরেছি। ভবিষ্যতে দেশের হয়ে ভালো কিছু করতে চাই।’ ছোটন আরো বলেন, ‘আমার গেইম প্ল্যানের বড় অংশজুড়েই থাকে আঁখি। খেলা চালিয়ে গেলে অচিরেই বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলে সুযোগ পাবে। বাংলাদেশ তো বটেই, এশিয়ার অন্যতম সেরা ডিফেন্ডার হবে আঁখি।’


মন্তব্য