kalerkantho


মানবতার শেষ পাতায়

৩ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



ছোটবেলা থেকে আমার ইচ্ছা ছিল মানুষের জন্য কিছু করা। মানুষের কষ্ট আমার খুব খারাপ লাগে। চোখের সামনে অন্যায় দেখলে প্রতিবাদও করি। আমি একদিন কুমিল্লা পার্কে ঘুরতে গিয়েছি, তখন খেয়াল করলাম, একটি বাচ্চা ছেলে একটি মেয়ের পা ধরে আছে। টাকা চাইছে, কিন্তু মেয়েটি টাকা দিচ্ছে না। উল্টো মেয়েটির সঙ্গে থাকা যুবক ছেলেটিকে একটা থাপ্পড় দিল। আমি সঙ্গে সঙ্গেই ছেলেটিকে ১০ টাকা দিলাম। আর শপথ নিলাম, পথশিশুদের নিয়ে কাজ করব। তারপর একটা সময় কাজের চাপে সব ভুলে গেলাম। একদিন আবার চট্টগ্রাম থেকে কুমিল্লা আসব, কিন্তু ট্রেনে টিকিট নিই। সঙ্গে থাকা বন্ধুরা আমাকে ট্রেনের ছাদে উঠতে বলে। বাধ্য হয়ে ছাদেই উঠলাম। কিছুদূর যাওয়ার পর বৃষ্টি পড়তে শুরু করে। ঠাণ্ডা ও বৃষ্টিতে নিজেকে অসহায় লাগল। তখন আমার মনে এলো, যারা খোলা জায়গায় শুয়ে থাকে, তাদের কথা। তার পরই একটি সংগঠন করি, নাম দিই মানবতার শেষ পাতায়। নামটি শুনে অনেকে বলে, নামের মানে কী? আমি বলি, আমরা মানুষ, কিন্তু আমাদের মধ্যে মানবতা নেই। মানবতা এখন শেষের পথে, তাই এই নাম। তারপর অনেকের সঙ্গে আলাপ করি। কিভাবে কী করা যায়।  সদস্যও সংগ্রহ করি। শেষে ১৭ মার্চ ২০১৭ কুমিল্লায় আত্মপ্রকাশ করে মানবতার শেষ পাতায়।

     মো. মেহেদী হাসান রনি, কুমিল্লা।


মন্তব্য