kalerkantho


ভিকটিমকে মানসিক সহায়তাও দিয়ে থাকি

জেনিফার আলম
সভাপতি
ক্রাইম রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস ফাউন্ডেশন।

৩ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



ভিকটিমকে মানসিক সহায়তাও দিয়ে থাকি

শুরুর কথা বলুন

প্রথমদিকে আমি মেইড ইন বাংলাদেশ উইথ জেনিফার আলম নামের একটা ফেসবুক পেইজ চালাতাম। সেই পেজে আত্মহননবিরোধী পোস্ট দিতাম। তখন আমার পেইজে মেয়েদের প্রচুর মেসেজ আসত। আমি মেসেজগুলো ক্যাটাগরাইজ করা শুরু করলাম। দেখলাম প্রায় ৮০ শতাংশেরও বেশি মেয়ে সাইবার ক্রাইমের শিকার হয়ে ডিপ্রেশনে ভুগছেন। তখন মেয়েদের পুলিশের কাছে অভিযোগ করতে পরামর্শ দিই। কিন্তু পুলিশের কাছে যেতে তাঁরা ভয় পেতেন। তা ছাড়া সমাজও ব্যাপারটি ভালো চোখে দেখে না। তখন আমি চিন্তা করলাম কিভাবে পুলিশ ও ভুক্তভোগীদের মধ্যে একটা সেতু গড়া যায়। যোগাযোগ করলাম বাংলাদেশ গ্রেহ্যাট হ্যাকার্সের অ্যাডমিন কাজী মিনহার মহসীনের সঙ্গে। আমরা দুজন মিলেই শুরু করি সিআরএএফ। কয়েকজন জুনিয়র বন্ধুও সঙ্গে ছিল। ছিল কয়েকজন সিনিয়রও। মানুষের জন্য কিছু করার আগ্রহ ছিল আমাদের সবারই। আমরা ফেসবুককে মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করতে থাকি। তারপর ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে আমরা অফলাইন কার্যক্রমও শুরু করি।

 

কিভাবে কাজ করে সিআরএএফ?

অভিযোগ আসার পর আমরা একজন আইনজীবীর সঙ্গে যুক্ত করে দিই ভিকটিমকে। তাঁকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অবধি পৌঁছানোরও চেষ্টা করি। এর মধ্যে যদি কারোর মানসিক সহায়তা প্রয়োজন হয়, তবে সিআরএএফের কাউন্সেলিং উইং সক্রিয় হয়। আমাদের টেকনিক্যাল টিমটি দারুণ শক্তিশালী।

 

আপনাদের লক্ষ্য নিয়ে বলুন

সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে তরুণদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করা। সাধারণ মানুষ ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মধ্যে সেতু গড়ে তোলা। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে সহায়তা প্রদান। আমরা চাইছি একটি ডিজিটাল ফরেনসিক সিস্টেম চালু করতে।

 

কী ধরনের অভিযোগ বেশি পান?

বেশি পাই ফেইক আইডি, অন্তরঙ্গ ছবি ছড়িয়ে দেওয়া, আর্থিক জালিয়াতি, বুলিং বা পারিবারিক সহিংসতার অভিযোগ।

 

কিভাবে পরিচালিত হয় সংগঠনটি?

অনলাইন ও অফলাইনে আমাদের ১১টি উইং কাজ করে। এটি বিভক্ত হয়ে কাজ করে। যেমন—ইভ টিজিংয়ের বিরুদ্ধে আমাদের আছে শি টিম। প্রায় ১০০ জন আইনজীবী নিয়ে আমাদের আছে আইনি সহায়তা উইং। সোশ্যাল মিডিয়া মনিটরিংয়ের জন্যও টিম আছে। ডিজিটাল ফরেনসিক দলটি মোবাইল ফরেনসিক তো করেই, সিসিটিভি ফুটেজ স্পষ্টকরণ ও বিশ্লেষণের কাজও করে। আরো আছে ভিকটিম সাপোর্ট উইং, ইয়ুথ কাউন্সেলিং উইং ইত্যাদি।



মন্তব্য