kalerkantho

নয়া পৃথিবী

সিআরএএফ

ক্রাইম রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস ফাউন্ডেশন বা সিআরএএফ ফেসবুকভিত্তিক একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। সাইবার ক্রাইম সংগঠনটির কাজের প্রধান বিষয়। অনলাইনে যেমন অফলাইনেও কাজ করে। ফেসবুক গ্রুপ ও পেইজে এর সদস্যসংখ্যা ৫০ হাজারের কাছাকাছি। খবর নিয়েছেন মাহবুবর রহমান সুমন

৩ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



সিআরএএফ

সিআরএএফের টেকনিক্যাল টিম

ধরুন, আপনার কিছু অন্তরঙ্গ ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখাচ্ছে কেউ। আপনাকে ব্লাকমেইল করতে চাইছে। কিন্তু আপনি মানুষটির হদিস করতে পারছেন না। অথবা কেউ আপনার ছবি ব্যবহার করে একটি ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খুলেছে। অথবা আপনার সাইবার দুনিয়ার কোনো একটি বা একাধিক অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়ে গেছে। আপনি সত্যি দিশাহারা। প্রথমে থানায় যান। একটি জিডি করুন। তারপর জিডির ছবি ফেসবুকে অ্যাপ করে বা ই-মেইল করে সিআরএএফের সাহায্য চাইতে পারবেন। সংগঠনটি সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে আপনাকে অপরাধী খুঁজতে সাহায্য করবে। যোগাযোগ ঘটিয়ে দেবে একজন আইনজীবীর সঙ্গে। প্রয়োজনে আপনাকে মানসিক সাহায্যও দেবে। সিআরএএফ ভুক্তভোগীর পরিচয় গোপন রাখে। যদি সংগঠনটিকে জানাতে পারেন কোথাও নারী ও শিশু নির্যাতন হচ্ছে। ৩০ মিনিটের মধ্যে সিআরএএফ সেখানে পৌঁছে যাওয়ার চেষ্টা করে।

যেভাবে যোগাযোগ করবেন

প্রথমে ফেসবুকে লগইন করুন। সার্চ বক্সে গিয়ে ইংরেজিতে লিখুন Crime Research and Analysis Foundation. তারপর গ্রুপ বাটনে ক্লিক করুন। পাবেন জয়েন গ্রুপ নামের একটি বাটন। তাতে ক্লিক করার পর কেন আপনি এই গ্রুপে যোগ দিতে চাচ্ছেন, সে বিষয়ে প্রশ্ন পাবেন। যথাযথ উত্তর দেওয়ার পর সেন্ড বাটন ক্লিক করুন। অল্প সময়ের মধ্যেই অ্যাডমিনের নোটিফিকেশন পাবেন, যার অর্থ আপনি এর সদস্য হলেন। এরপর থেকে আপনি আপনার সমস্যার কথা জানাতে পারবেন সিআরএফকে। তবে গোপনীয় বিষয় থাকলে একই নামের একটি ফেসবুক পেইজ আছে। সেখানে গিয়ে আপনি মেসেজ রাখতে পারবেন।

দুটি ঘটনা

২০১৭ সালের জুলাই মাস। সংগঠনটির ফেসবুক পেইজে সাহায্য চেয়ে একটি মেসেজ আসে। সাহায্যপ্রার্থী একজন মহিলা। চট্টগ্রামে থাকেন। অচেনা অ্যাড্রেস থেকে ই-মেইল পাঠিয়ে তাঁকে ব্লাকমেইল করা হচ্ছিল। ব্ল্যাকমেলার তাঁর কিছু অন্তরঙ্গ ছবি ফাঁস করে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছিলেন। সংগঠনটি মহিলার ই-মেইলের অ্যাকসেস নেয়। সেই ই-মেইলগুলো ফরেনসিক করে জানা যায় দুটি আলাদা ই-মেইল থেকে মেইল করা হচ্ছে। এর একটি চট্টগ্রামের, অন্যটি আমেরিকার। পুলিশকে এ তথ্য দেওয়ার পর চট্টগ্রাম থেকে একজনকে আটক করা হয়। সিআরএএফ কাজটি করে মাত্র ২০ দিনে। আরেকটি ঘটনা ওই বছরেরই মার্চ মাসের। সংগঠনটির অফিসে এক মহিলা আসেন সাহায্য নিতে। তাঁর ছবি ব্যবহার করে একটি ফেইক আইডি খোলা হয়েছে। তাঁকে মেইল করে খুব মানসিক চাপ দেওয়া হচ্ছে। তাঁর মোবাইল ফরেনসিক করার পর সিআরএএফ দেখতে পায় সেখানে কিছু হিডেন ফাইল আছে, যেগুলো আসলে মেলওয়্যার। পুলিশকে তথ্য পৌঁছানোর পর দ্রুতই অপরাধী গ্রেপ্তার হয়।

 

সিআরএএফ আরো করে

সাইবার সিকিউরিটি অ্যাওয়্যারনেস তৈরি করে। এ জন্য ট্রেনিং কর্মসূচি আছে সংগঠনটির। তাদের গবেষণা প্রকল্পও আছে। সমসাময়িক বিষয় নিয়ে তারা গবেষণা করে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘটে যাওয়া ঘটনাবলির ওপর নজর রাখে, ডাটাবেইস তৈরি করে। পথশিশু আর প্রতিবন্ধীদের নিয়েও কাজ করে সংগঠনটি। আত্মহত্যার প্রবণতারোধেও কাজ করে সংগঠনটি।

 

 

ব্যক্তিগত তথ্য নিরাপদ রাখতে ১০ টিপস

♦ পাবলিক ওয়াই-ফাই ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন।

♦ বিয়ের আগে অথবা পরে কোনো অবস্থায়ই এমন ছবি তোলা উচিত না, যা পরে ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

♦ ছবি ১০০ বার ডিলিট করলেও সেটা রিকভার করা সম্ভব। তাই আপত্তিকর ছবি তুলবেন না।

♦ নিজের পাসওয়ার্ড অন্য কাউকে দেওয়া থেকে বিরত থাকুন।

♦ যদি আপত্তিকর ছবি আদান-প্রদান হয়েই যায়, সেই কনভারসেশন সম্পূর্ণ ডিলিট করুন।

♦ লিংকে ক্লিক করার আগে ভেবে নিন। মেলওয়্যার লিংকে গেলে আইডি হ্যাক হয়ে যেতে পারে।

♦ দোকানে মোবাইল ঠিক করতে দিলে পাশে দাঁড়িয়ে ঠিক করে আনুন।

♦ অনলাইনে ডলার কেনাবেচা থেকে বিরত থাকুন।

♦ অনলাইনে পণ্য কেনাবেচা করার আগে ভালোভাবে যাচাই করে নিন।

♦ হুমকি, সাইবার ক্রাইম, অনলাইন ব্ল্যাকমেইল, হ্যারাসমেন্ট যাই হোক না কেন, নিকটস্থ থানায় যোগাযোগ করুন।


মন্তব্য