kalerkantho


মানুষ মানুষের জন্য

আগ্রাসনের বিরুদ্ধে পদযাত্রা

আহমেদ বায়েজীদ   

১৮ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



আগ্রাসনের বিরুদ্ধে পদযাত্রা

বেনজামিন লাদরা, বয়স ২৪ বছর। স্ক্যান্ডেনেভিয়া অঞ্চলের দেশ সুইডেনের টগবগে তরুণ। স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করেন আন্তর্জাতিক রেড ক্রসের হয়ে। প্রতিষ্ঠানটির জন্য তহবিল সংগ্রহে কাজ করেন লাদরা। একপর্যায়ে তাঁর আগ্রহ জন্মায় ফিলিস্তিনে ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিষয়ে। বিষয়টি নিয়ে সচেতনতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে লাদরা নিয়েছেন অভিনব এক উদ্যোগ। সুইডেন থেকে পায়ে হেঁটে যাত্রা করেছেন ফিলিস্তিনের পথে। একটাই উদ্দেশ্য, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বসতিস্থাপনের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী সচেতনতা তৈরি।

২ নভেম্বর ছিল ফিলিস্তিনে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য বেলফোর ঘোষণার শততম বার্ষিকী। এই বার্ষিকী সামনে রেখেই লাদরা পদযাত্রা শুরু করেছেন। ৫ আগস্ট সুইডেনের গোথেনবার্গ শহর থেকে শুরু হয়েছে ‘ওয়াক ফর প্যালেস্টাইন’। সঙ্গে নিয়েছেন ফিলিস্তিনের পতাকা। দীর্ঘ এই যাত্রায় লাদরা হাঁটবেন ৪ হাজার ৮০০ কিলোমিটার পথ। পর্যায়ক্রমে জার্মানি, চেক রিপাবলিক, অস্ট্রিয়া, স্লোভেনিয়া, তুরস্ক, সাইপ্রাস হয়ে পৌঁছাবেন পশ্চিম তীরের জেরুজালেম শহরে। লাদরা আশা করছেন এক বছর লাগবে তাঁর এই দীর্ঘ পদযাত্রায়। কোনো স্পন্সরশিপ ছাড়াই ব্যক্তিগত অর্থায়নে এই কর্মসূচি। তবে তাঁর উদ্যোগের কথা প্রকাশ হওয়ার পর ব্যক্তিগত পর্যায়ে কেউ কেউ সাহায্য করেছেন লাদরাকে।

সুইডেনে বসবাসরত কিছু ফিলিস্তিনির কাছ থেকে দেশটির জনগণের দুর্দশার কথা শুনেই লাদরার আগ্রহ জন্মায় এ বিষয়ে। আরো জানতে প্রচুর পড়াশোনা করেছেন তিনি, অনলাইনে দেখেছেন বিভিন্ন ভিডিওচিত্র। পরিস্থিতি নিজ চোখে দেখতে সরাসরি গিয়েছেন ফিলিস্তিনেও। কাছ থেকে দেখেছেন একটি জাতিকে কিভাবে দিনে দিনে তাদের মাতৃভূমি থেকে উচ্ছেদ করা হচ্ছে। এরপর দেশে ফিরে গিয়েই আগ্রহী হয়েছেন ফিলিস্তিনের নির্যাতিত মানুষের জন্য কিছু করতে। নিজের ক্ষুদ্র সামর্থ্যে এ বিষয়ে বিশ্বব্যাপী সচেতনতা তৈরিকেই লাদরার কাছে যথাযথ মনে হয়েছে। লাদরা বলেন, ‘আমি নিজ চোখে সেই দখলদারিত্ব দেখেছি। এটি একটি চরম জাতিগত নিপীড়ন, বিশেষ করে হেবরনে যা দেখেছি, সর্বত্র ইসরায়েলি সেনারা পাহাড়া দিচ্ছে। যখন তখন ফিলিস্তিনিদের হেনস্থা করা হচ্ছে, যার সব কিছু মানুষ জানতেও পারছে না। তাই বিষয়টি নিয়ে কিছু করতে চাই।’ অভিনব এই উদ্যোগে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও শান্তিকামী মানুষের সমর্থন পেয়েছেন লাদরা। তাঁর ফেসবুক পেজের পোস্ট থেকে জানা যায় (৪ নভেম্বর) তিনি এখন অবস্থান করছেন চেক প্রজাতন্ত্রের দক্ষিণাঞ্চলীয় ব্রনো শহরে। যাত্রার প্রতিটি পদক্ষেপ সম্পর্কে নিয়মিত ফেসবুকে আপডেট দিচ্ছেন। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে মুক্তিকামী মানুষ তাঁর প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। যেসব অঞ্চল দিয়ে তিনি চলেছেন সেখানে অনেকেই সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে রাত কাটানো ও বিশ্রামের জায়গা দিয়েছেন।

বয়স যখন জীবনটাকে উপভোগ করার, ঠিক সে বয়সে এই তরুণ কাজ করছেন বিপন্ন মানবতার জন্য। রেড ক্রসের হয়ে কাজ করতে গিয়ে লাদরা মিশেছেন বিভিন্ন ধর্ম-বর্ণ-জাতির মানুষের সঙ্গে। শুনেছেন মানুষের দুঃখদুর্দশার কথা। আবার নিজের আগ্রহেও খোঁজখবর রেখেছেন সারা দুনিয়ার নির্যাতিত মানুষের। এ বিষয়গুলোই তাঁকে আরো বেশি নিবেদিত করছে মানবিক কর্মকাণ্ডে। তাঁর ভাষায়, ‘যত বেশি জানবেন তত বেশি আপনি সোচ্চার হবেন অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে। বই পড়ে ও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের সঙ্গে মিশে তাদের অবস্থা সম্পর্কে আমি জেনেছি। সেটিই আমাকে প্রভাবিত করেছে।’



মন্তব্য