kalerkantho


ফেসবুক থেকে পাওয়া

মধ্যরাতের ঢোল!

৪ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



আমাদের হলের গার্ড। কখনো তার দিনে ডিউটি থাকে, কখনো রাতে।

তখন গ্রীষ্মকালীন ছুটি চলছিল। তবুও তিনিসহ কয়েকজন গার্ড রাতে হলগেটে ডিউটিতে ছিলেন। সেদিন সন্ধ্যার দিকে হঠাৎ তিনি শুনলেন কে যেন হলের মধ্যে কাঁদছে। তবে কী কোনো পাগল বা অন্য কেউ তাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে হলের ভেতরে ঢুকে পড়ল! আরো অনেক কিছু চিন্তা করতে করতে গার্ড ভাই এগিয়ে গেলেন হলের দক্ষিণ ব্লকের দিকে। যেতে যেতে শুনলেন কান্নার শব্দ এবার ঢোলের শব্দে রূপান্তরিত হয়েছে। ভাবলেন বিনোদপুর বাজারে হয়তো ঢোল বাজছে। কিন্তু না, একটা নির্দিষ্ট রুমে শব্দ বেশ জোরাল। অথচ রুমটাতো তালাবদ্ধ! তবে কে বাজাচ্ছে এই ঢোল?

বীরপুরুষ ভাই কাপুরুষে পরিণত হলেন। দৌড়ে এলেন হলগেটের দিকেই।

তার সহকর্মীদের ব্যাপারটা শেয়ার করলেন। তারা জানালেন, ঐ রুমটাতে একজন শিল্পী থাকত। আত্মহত্যা করে মারা যাবার পর নাকি অনেকে অমন শব্দ শুনেছে।

ওই গার্ড ভাই ঘটনাটা আমাকে মসজিদে বসে বলেছিলেন। তাই অবিশ্বাস করতে পারিনি। এবার তার কাছে জানতে চাইলাম রুম নাম্বার কত, আমিও যে দক্ষিণ ব্লকেই থাকি। কিন্তু না, তিনি বলবেন না; এব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা আছে। অনেক অনুরোধের পর বললেন। কিন্তু ক্ষতিটা আমারই হলো। মরহুম শিল্পী দাদা যে আমার রুমের উপরের রুমেই থাকতেন।

তারপর বহুদিন কেটে গেছে। অনেক সময়ই মাঝরাতে আমার ঘুম ভাঙতেই মনে পড়েছে মৃত শিল্পী দাদার ঢোল বাজানোর কথা। মনে হয়েছে এখনই বুঝি দক্ষিণের খোলা জানালা দিয়ে তার ঢোলসহ উঁকি মারবেন। অনেক সময় শেষ রাতেও আমি একা একা দক্ষিণ ব্লকে হেঁটেছি আর ভেবেছি, বড়ই নীরব সময়; যদিও অনেক ছেলে হলে আছে কিন্তু একেবারেই নিস্তব্ধ, সবাই হারিয়ে গেছে ঘুমের রাজ্যে, এখনই বুঝি বেজে উঠবে সেই ঢোলের শব্দ। কিন্তু না, সেই সৌভাগ্য আমার কখনোই হয়নি। গার্ড ভাই সন্ধ্যায় যে ঢোলের শব্দ শুনেছিলেন, আমি মাঝরাতে বা শেষরাতেও কখনো সেই শব্দ শুনতে পাইনি।

 

আহমেদ সজীব, ইংরেজি বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়


মন্তব্য