kalerkantho


এগিয়ে যাও বাংলাদেশ

সুমি রিকশা চালান

কামরাঙ্গীর চরের বিভিন্ন এলাকায় রিকশা চালান সুমি বেগম। তাঁর দেখাদেখি আরো কয়েকজন মহিলা এই পেশায় এসেছেন। সুমির সঙ্গে কথা বলেছেন গাজী খায়রুল আলম

৪ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



সুমি রিকশা চালান

কাঁটাবনের এক বস্তিতে সুমির জন্ম। তাঁর প্রতিবন্ধী বাবা ভিক্ষা করতেন।

মানুষের বাসায় কাজ করতেন মা। তাঁদের সামান্য আয়ে কোনো রকম চলত সংসার। একসময় বাবা অসুস্থ হয়ে গেলে মায়ের পক্ষে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। এদিকে সুমির ভাইও মানসিক প্রতিবন্ধী। বাধ্য হয়ে ছোটবেলায় কাজ খুঁজতে শুরু করেন সুমি। কিন্তু এত ছোট মেয়ে কী কাজ করবেন! শুরু করে কাগজ কুড়ানো। যা দু-চার টাকা আয় হয়, তা দিয়ে চলত দিন। অন্য ছেলেমেয়েরা যখন স্কুলে যায় সুমি বের হন কাগজ কুড়াতে। কাগজ কুড়াতে কুড়াতেই একদিন ছোট সুমি বড় হয়ে যান। কাগজ কুড়ানো ছেড়ে প্লাস্টিক কারখানায় চাকরি নেন। বিয়েও হয়। এক রিকশাচালকের সঙ্গে সংসার। প্রথম কয়েক বছর ভালোই চলে। স্বামী রিকশা চালান আর সুমির প্লাস্টিক কারখানায় কাজ। এরপর সংসারে আসে নতুন অতিথি মেয়ে। সংসারে শুরু হয় টানাটানি। মাঝেমধ্যে স্বামীর সঙ্গে টুকটাক ঝগড়া শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত সংসারের ইতি। তাঁকে ফেলে চলে যান স্বামী। মেয়েকে সঙ্গে নিয়েই যেতে হতো প্লাস্টিক কারখানায়। কাজ করতে অসুবিধা হতো। এই অজুহাতে সেখানে ঠিকঠাক বেতন দিত না। বাধ্য হয়ে চাকরি ছাড়েন। মানসিক প্রতিবন্ধী ভাইকে নিয়ে শুরু করেন ভ্যানে করে নানা সামগ্রী বিক্রি। সেটাও বেশি দিন টেকে না। তবে তত দিনে ভ্যান চালানোটা ভালোই রপ্ত করে ফেলেন সুমি। এক দূর সম্পর্কের মামার সঙ্গে পরামর্শ করলে তিনিই রিকশা চালানোর পরামর্শ দেন।

মামার কথামতো কামরাঙ্গীরচরের আচারওয়ালা ঘাট বাদশা মিয়ার গ্যারেজ যান সুমি। সেখান থেকে রিকশা ভাড়া নেন। প্রথম দিকে একটু খারাপ লাগত। যাত্রীরাও উঠতে চাইতেন না। মেয়ে রিকাশাচালক, তাই যাত্রীরা অ্যাক্সিডেন্টের ভয় পেতেন। ধীরে ধীরে সেই সমস্যা কাটে। এখন নিয়মিত রিকশা চালান সুমি। সংসার ভালোভাবেই চলছে। একমাত্র মেয়েকে স্কুলে দিয়েছেন। থাকেন কামরাঙ্গীর চর পূর্ব আলীনগর খালপাড়ে একটি টিনশেড ঘরে। সুমি বলেন, ‘ছোটবেলা থেকে কত ধরনের কাজ করে আসছি। কোনো কাজেই ভালোভাবে টিকতে পারিনি। কোথাও বেতন দিত না, কোথাও যৌন হয়রানি করত, কোথাও ভারি কাজ করতে হতো। এসব থেকে এখন ভালো আছি রিকশা চালিয়ে। তবে এখানে সমস্যা হলো মহাজনের রিকশা। কোনো কোনো দিন পাওয়া যায় না। কিন্তু আমার তো একদিন রিকশা চালাতে না পারলে পেট চলে না! রিকশা নিয়ে বের হলেও অন্য সমস্যা থাকে। কোনো দিন আয় কম হয়। কিন্তু রিকশার জন্য মহাজনকে ঠিকই ৩০০ টাকা দেওয়া লাগে। আবার রিকশার টুকটাক কোনো সমস্যা হলেও নিজের টাকায় মেরামত করাতে হয়। নিজের রিকশা থাকলে এসব সমস্যা হতো না। তবে রিকশা চালানো অন্য যেকোনো কাজ থেকে ভালো। হয়রানি নেই। নিজের মতো চলা যায়। আমার দেখাদেখিতে আরো কয়েকজন মহিলা এখন এই এলাকাতে রিকশা চালানো শুরু করেছেন। তাঁরাও ভালোই আছেন। ’


মন্তব্য