kalerkantho


ইউরোপে শারদীয় উৎসব

বাংলাদেশ-ভারতের বাইরে সবচেয়ে বেশি দুর্গাপূজা হয় যুক্তরাজ্যে। সেখানে বাংলাদেশিদের দুর্গাপূজা এবং ইউরোপের অন্যান্য দেশের দুর্গাপূজা উদ্যাপনের কথা যুক্তরাজ্য থেকে জানালেন জুয়েল রাজ

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



ইউরোপে শারদীয় উৎসব

যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশিদের উদ্যোগে প্রথম দুর্গাপূজা হয় ১৯৬৯ সালে, বার্মিংহামে। উদ্যোক্তাদের একজন তারকারঞ্জন চন্দ।

তিনি জানান, তখনো বাংলাদেশের জন্ম হয়নি, এশিয়ান হিন্দু কালচার অ্যাসোসিয়েশন নামে পূজা শুরু করেন। যদিও সংগঠনের প্রায় সবাই ছিলেন সিলেটি।

লন্ডনে বাংলাদেশিদের দুর্গাপূজা উদ্‌যাপনের উদ্যোক্তাদের একজন বিধু গোঁসাই। তিনি জানান, লন্ডনে প্রথম পূজা উদ্‌যাপনকারী সংগঠন বেঙ্গল কালচার, গড়ে ওঠে ১৯৭৩ সালে। এই সংগঠন লন্ডনের স্টার্টফোর্ডে প্রথম বাংলাদেশি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্যোগে দুর্গাপূজা করে। এরপর ১৯৭৭ সালে হয় প্রগতি সংঘ। ১৯৭৮ সাল থেকে এই সংঘ দুর্গাপূজা করে আসছে। বর্তমানে মাইল্যান্ড স্টেশনের বিপরীতে তাদের নিজস্ব মন্দিরে প্রতিবছর পূজা করে। যুক্তরাজ্যে প্রায় ১৫২টি স্থায়ী হিন্দুমন্দির রয়েছে।

সবগুলোতে শারদোৎসব পালিত না হওয়ায় বিভিন্ন কমিউনিটি সেন্টারের হল ভাড়া করে পূজার আয়োজন করা হয়। বাঙালি অধ্যুষিত টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলে দেড় হাজারের বেশি হিন্দু বাস করে। সেখানেও কয়েকটি পূজা হয়।

যুক্তরাজ্যে কখন দুর্গাপূজার চল হয়, সঠিক জানা যায় না। ধরা হয় ১৯৬৩ সালে। সেবার প্রতিমা আনা হয়েছিল কলকাতার কুমারটুলী থেকে। যুগান্তর ও অমৃতবাজার পত্রিকার সম্পাদক তুষারকান্তি ঘোষসহ কয়েকজন উৎসাহী বাঙালির চেষ্টায়। স্থান ছিল মেরি ওয়ার্ড হল, টাভিস্টক প্লেস লন্ডন। এখনো সেই পূজা আয়োজিত হয় ক্যামডেন হলে। সেখানে তিন হাজার ভক্ত একসঙ্গে পূজা দিতে পারে। লর্ড স্বরাজ পল, লর্ড আর কে বাগরি, এস এন গৌরিসারিয়া ও এন সেঠিয়া এই পূজায় সহযোগিতা করেন। শিল্পপতি লক্ষ্মী মিত্তাল এই পূজার প্রধান পৃষ্ঠপোষক। এখন প্রতিমা তৈরি করেন কুমারটুলীর গোরাচাঁদ পাল।

যুক্তরাজ্যে সনাতন অ্যাসোসিয়েশন ইউকে ১৯৮৪ সাল থেকে সবচেয়ে বড় পূজার আয়োজন করে আসছে। পূর্ব লন্ডনের অনেক সংগঠন, যেমন—বাবা লোকনাথ সংঘ, ম্যানর পার্ক পূজা অ্যাসোসিয়েশন দুর্গাপূজা করে। এর বাইরে লন্ডনের ইলিং, ব্রাডফোর্ড, হ্যারো, স্টার্টফোর্ড, লিচেস্টার, ব্রেন্ট এলাকায় বেশ বড় পূজার আয়োজন হয়। তবে মূর্তিগুলো আনা হয় কলকাতা থেকে। কয়েক বছর ধরে অনেকে যুক্তরাজ্যেই তৈরি করে নেন। এসব আয়োজনে বাংলাদেশিদের পাশাপাশি অন্যান্য দেশের হিন্দুরাও অংশ নেয়। এর বাইরে যুক্তরাজ্যজুড়ে ইন্ডিয়ান কালচারাল সোসাইটি কেমব্রিজ, ওয়েলস পূজা কমিটি, মিডল্যান্ডস ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন, বেঙ্গলি ফেস্টিভাল উইম্বলিসহ বার্মিংহাম, ম্যানচেস্টার, লিচেস্টারেও পূজা হয়।

২০০৬ সালে ব্রিটিশ মিউজিয়ামের গ্রেট হলে এক বিরাট দুর্গাপূজার আয়োজন হয়েছিল। এটা ছিল লন্ডনে স্মরণকালের বড় পূজা অনুষ্ঠান।

যুক্তরাজ্যের পরই সবচেয়ে বেশি দুর্গাপূজা হয় ফ্রান্সে। যাঁরা শুরু করেছিলেন, উদ্যোক্তাদের একজন রজত রায়। তিনি বলেন, ‘শুরুতে আমরা ভারতীয়দের পূজায় অংশগ্রহণ করতাম। ২০০৩ সালে প্রথম বাংলাদেশিদের উদ্যোগে শারদীয় দুর্গাপূজা শুরু হয়। ’ প্রথম পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি ছিলেন রজত রায়, সাধারণ সম্পাদক সুব্রত ভট্টাচার্য্য। গত বছর পর্যন্ত পাঁচটি বাংলাদেশি সংগঠন পূজা করেছে। এবার হবে ছয়টি পূজা। প্যারিসের পূজায় প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে সংগীতশিল্পীরা আসেন। যুক্তরাজ্য থেকেও প্যারিসে যান অনেক শিল্পী।

পর্তুগালে দুর্গাপূজা শুরু হয় ২০১৫ সালে। প্রথম বছর সরস্বতীপূজার মধ্য দিয়ে সেখানে পূজা শুরু হয়। বেলজিয়ামে দুর্গাপূজা করে সম্মিলনী সংগঠন। সুইজারল্যান্ডে দুর্গাপূজার আয়োজন করে আনন্দমন্দির সংগঠন। এর বাইরে ইতালি ও সুইডেনে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়।


মন্তব্য