kalerkantho


ভুল সবই ভুল

বাঘ মানুষ দেখলেই হামলে পড়ে

সবাই সত্যি জানে—এমন অনেক কথা পরে যাচাই করে দেখা গেছে, সেগুলো মিথ্যা। লিখছেন আসমা নুসরাত

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



বাঘ মানুষ দেখলেই হামলে পড়ে

প্রথমেই বলে নেওয়া ভালো, প্রাকৃতিকভাবেই বাঘের শিকার তালিকায় মানুষ নেই। যেমন শূকর বা হরিণ আছে।

যতক্ষণ না আক্রান্ত হওয়ার ভয় পায়, ততক্ষণ পর্যন্ত বাঘ মানুষকে আক্রমণ করে না; বরং মানুষ দেখলে বাঘ এড়িয়ে যাওয়ারই চেষ্টা করে। ব্যতিক্রম দুর্বল বা আহত বাঘ, যে অন্য বন্য প্রাণী শিকারের সামর্থ্য হারিয়েছে। সে তখন লোকালয়ে হানা দেয়। এ ছাড়া যদি জায়গা সংকীর্ণ হয়ে যায় অথবা উপযুক্ত শিকারের অভাব দেখা দেয়, তবে বাঘ লোকালয়ে হানা দিতে পারে, হামলে পড়তে পারে মানুষের ওপর। নয়তো লোকালয়ে হানা দেওয়ার অভ্যাস বাঘের নেই। বিশেষ ব্যতিক্রম দেখা যায় সুন্দরবনের ক্ষেত্রে। ফরাসি পর্যটক ফ্রাঁসোয়া বার্নিয়ের সেই ১৬৬৬ সালে সুন্দরবন নিয়ে এ রকম লিখে গেছেন, ‘বাঘেরা নৌকায় হানা দেয়, যখন মাঝিরা ঘুমিয়ে থাকে। শিকারকে তারা টেনে গভীর বনে নিয়ে যায়। ’

সত্তরের দশকে জার্মান জীববিজ্ঞানী হিউবার্ট হেনড্রিকস তিন মাস বাংলাদেশের সুন্দরবনে এসে থেকেছিলেন।

তিনি ধারণা করেছিলেন, লবণ-জল সুন্দরবনের বাঘকে বিশেষ করে তুলতে পারে। লবণ-জল লিভার ও কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তাতে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে এবং স্বাভাবিক আচরণে গড়বড় দেখা দিতে পারে। তবে হিউবার্ট তাঁর ধারণা পরখ করে দেখার সুযোগ পাননি।

স্মিথসোনিয়ান ইনস্টিটিউশনের এস ডিলন রিপ্লেও ভেবেছেন সুন্দরবনের বাঘের মানুষ সম্পৃক্ততা নিয়ে। তিনি জানাচ্ছেন, সুন্দরবনের জেলেরা ছিপ ফেলে দীর্ঘ সময় বসে থাকে। বসে থাকে জাল ফেলেও। মাছের গন্ধও বাঘকে আকৃষ্ট করে থাকে।

গবেষকরা আরো ভেবেছেন, সোয়াম্প টাইগারের বনমোরগ, বন্য শূকর বা গুইসাপ খুঁজতে কষ্ট হয়। তাই মানুষের প্রতি আকর্ষণ বাড়ে।

উল্লেখ্য, পৃথিবীর ১৩টি দেশে বাঘ মেলে। মানুষ দেখলে হামলে পড়ার রেকর্ড এমনকি ভারতের বাঘেরও (যদিও এগুলো বেঙ্গল টাইগার) নেই। তাই সেই কথাটিতেই স্থির থাকছেন গবেষকরা, বাঘ মানুষ দেখলে হামলে পড়ে না; বরং বাঘ মানুষ এড়িয়ে চলে।

 


মন্তব্য