kalerkantho


ফেসবুক থেকে পাওয়া

জীবন বারবার রং পাল্টায়

২৬ আগস্ট, ২০১৭ ০০:০০



বাবার পোস্টিং হয়েছিল সেবার এক মফস্বল এলাকায়। বছরের মাঝামাঝি।

তবু টিসি নিয়ে অষ্টম শ্রেণিতে ভর্তি হয়ে গেলাম। প্রথম দিনেই একটা মেয়েকে অনেক ভালো লেগে গেল। ছিমছাম গড়ন, কিন্তু অনেক লম্বা। ওর প্রতিটি কাজেই যেন মুগ্ধ হয়ে যেতাম। একবার ভেবেছিলাম বলেই দিই সব। পারিনি। অষ্টম শ্রেণিতে থানায় ফার্স্ট হয়ে বৃত্তি পেয়েছিলাম। ওই দিনই মনের কথাগুলো এক নিমিষে বলে দিয়েছিলাম। ও বলেছিল, কোনো এক ভোরে সে আমার হবে, এখন না। স্কুলজীবনটা ভালোভাবে শেষ করেই যশোর ক্যান্টনমেন্ট কলেজে ভর্তি হলাম। ও মফস্বলেই থেকে গেল। মোবাইল তখন সবেমাত্র এসেছে। তবে কথা হতো খুব কম। কলেজজীবনে বেশ কয়েকবার শুনেছিলাম ওর অন্য একজনের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িত। পাত্তা দিইনি। অন্ধবিশ্বাস আর নিজেকে যোগ্য করে গড়ে তোলার অদম্য ইচ্ছা যেন এসব অর্থবহ করে তুলতে পারেনি। তবে জীবন বারবার রং পাল্টায়। বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে এসেই জানলাম, ও পালিয়ে বিয়ে করেছে। বাড়ি থেকে মেনে নেয়নি। সেদিনের পর থেকে জীবনটা যেন আলাদা পথে ঘুরে গেল। চার বছর পর বস্ত্র প্রকৌশলে পড়াশোনা শেষ করে আজ একটা কম্পানিতে ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে জয়েন করেছি। অধীন কর্মচারীদের হাজিরা খাতা চেক করতে গিয়ে দেখি সেই ১০ বছর আগের অতি পরিচিত নাম। দূর থেকে দেখলাম। তিন-চার বছরের একটা ছেলেও আছে সঙ্গে। চাকরিটা আর করা হলো না। পরের দিনই ছেড়ে দিলাম। পরে জেনেছিলাম, বিয়ের দুই বছর পর সম্পর্কের ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। মা-বাবা তবু ওকে গ্রহণ করেনি। লোকাল বাসের জানলার পাশে বসে আছি। কখন হেলপার বলে উঠল, মহাখালী, মহাখালী...। পথের গন্তব্য শেষ হয়ে গেল, জীবনের গন্তব্য এখনো অনেকটা বাকি।

 

আল মামুন সানি, ৫ জুন ২০১৭


মন্তব্য