kalerkantho


স্বনির্ভর বাংলাদেশ

কবুতরওয়ালা

এলাকায় সবাই চেনে কবুতর আফজাল বলে। ত্রিশ প্রজাতির দুই শতাধিক বিদেশি কবুতর আছে তাঁর খামারে। খুলনার সুন্দরবন এলাকার আফজাল হোসেনের কবুতর খামার দেখে এসেছেন গৌরাঙ্গ নন্দী

২৬ আগস্ট, ২০১৭ ০০:০০



কবুতরওয়ালা

কবুতর তাঁর বরাবর পছন্দ। ছোটবেলা থেকেই দেশি একটি-দুটি কবুতর পুষতেন।

একসময় কবুতরের সংখ্যা দশ ছাড়িয়ে যায়। বন বিড়ালেরও চোখ পড়ে। একটি-দুটি নয়, চার-চারটি কবুতর মেরে ফেলে। এতে তাঁর মন বড্ড খারাপ হয়। চলে আসেন খুলনা শহরে কবুতর সংগ্রহ করতে। পরিচয় হয় একজন পেশাদার কবুতর পালকের সঙ্গে। তিনি ধারণা দেন, কবুতর পুষলে দেশি নয়, বিদেশি কবুতর পোষা উচিত। তাহলে পোষার শখও মিটবে, আবার আয়ও হবে।

ঘটনাটি ২০০১ সালের।

সেই শুরু। একটি, দুটি জোড়া কবুতর সংগ্রহ করে, তার থেকে ডিম ও বাচ্চা এবং এখন রীতিমতো পেশাদার কবুতর পালক। তাঁর কাছে এখন ত্রিশ প্রজাতির দুই শতাধিক কবুতর আছে। প্রতি মাসেই কবুতর বিক্রি করেন। খরচ বাদে মাসেই আয় ত্রিশ হাজার টাকা।

আফজাল হোসেনকে এলাকাবাসী কবুতর আফজাল নামেই চেনে। সুন্দরবনের কাছাকাছি একটি গ্রাম ধোপাদি। তাঁর বাড়িটি ধোপাদি মধ্যপাড়ায়। আফজালের সেই বাড়িতে কবুতরের জন্য রয়েছে আস্ত একটি ঘর। আট হাত প্রস্থ আর পঁচিশ হাত দৈর্ঘ্যের ঘরটি। একটি দরোজা। আলো-বাতাসের জন্য ফাঁকা করে দড়মার (কাঠ ও বাঁশের চালি দিয়ে তৈরি) বেড়া দেওয়া।

কবুতরের সংগ্রহ দেখতে চাই। জানা গেল আফজাল হোসেন বাড়ি নেই। ফোনে যোগাযোগ হলো। খুলনা থেকে কবুতর দেখার জন্য এসেছি জেনে বললেন, আধা ঘণ্টার মধ্যে আসছি। তার আসার আগেই কবুতরের ঘরে যাই। বাক-বাকুম শব্দে স্বাগত জানায় কবুতরের দল। বৃষ্টি-কাদায় ঘরটা স্যাঁতসেঁতে। পুরো ঘর আঁধারে ছাওয়া। সূর্যের খুব তেজ থাকলে হয়তো ঘরে আলো পড়ে। ঘরের চারপাশে সারি সারি লোহার খাঁচা। সেগুলোতে শতাধিক জোড়া কবুতর।

বাঁ-দিকের খাঁচায় চোখে পড়ে সাদা ধবধবে দুটো কবুতর। একেবারে মুরগির মতো গোলগাল চেহারা। জানা গেল এর নাম কিং পিজিয়ন। সাদা ছাড়াও হলুদ রঙের কিংও আছে আফজালের এই কবুতরখানায়। আছে সবচেয়ে দামি কবুতর বুখারা আর টামলাক। এই বুখারার জোড়া কিনেছিলেন ৭০ হাজার টাকা দিয়ে। এ থেকে তিনি অনেক ডিম, ডিম হতে বাচ্চা পেয়েছেন, বিক্রিও করেছেন। এখন বুখারা বেশ জনপ্রিয় এবং পাওয়াও যায় প্রায় সব কবুতর পালকের কাছে।

আফজালের সংগ্রহে আছে আমেরিকান লাক্ষা, হাউস পিজিয়ন, আউল রিং, সিরাজি জাতের কবুতর। হলুদ, লাল, কালো ও সিলভার—কত রঙের কবুতর। মাসে গড়ে চল্লিশ জোড়া ডিম পাওয়া যায়। আঠারো দিনে বাচ্চা হয়। বাচ্চা অল্প কদিন বয়স হলেই বিক্রি করে দেন। নষ্ট হয়ে যাওয়া, বাচ্চা না হওয়া, মরে যাওয়া এত সব ঝামেলা এড়িয়েও চল্লিশ জোড়া ডিমে কমপক্ষে পঁচিশ জোড়া বাচ্চা পাওয়া যায়।

সকালে ঘুম থেকে উঠেই কবুতরের ঘরে যান আফজাল। খাঁচা পরিষ্কার, খাবার ও ওষুধ দেওয়া, কখনো কখনো পায়রাগুলোকে খাঁচার বাইরে এনে খেলা করা নিত্যদিনের রুটিন। দিনের মধ্যে কয়েকবার কবুতরের দেখাশোনা করতে হয়।  

ঘরের মধ্যে ঘুরিয়ে কবুতর দেখানোর সময় আচমকাই চোখে পড়ে একটি ডিম খাঁচার বাইরে পড়ে আছে। দুটো কবুতরের ধাক্কাধাক্কিতে এই অবস্থা। তড়িত্গতিতে ডিমটি সংগ্রহ করেন আফজাল। মুখটি বিবর্ণ। বলেন, ‘তিন হাজার টাকা লস। এই ডিমে আর বাচ্চা হবে না। ’


মন্তব্য